মানিকগঞ্জ-২ : মাঠে দুই জোটের একাধিক প্রার্থী

লড়াই হবে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ ও বিএনপি প্রার্থী শান্তর মধ্যে

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
ama ami

মানিকগঞ্জ-২ আসনটি জেলার অন্য আসনের মধ্যে একটি ক্রিটিক্যাল ও গুরুত্বপূর্ণ আসন। ঢাকা মহানগরের খুব নিকটবর্তী হওয়ায় জেলার নেতা ও ভোটার সমাজের নজর থাকে এ আসনের দিকে। এবার এ আসনে মহাজোটের প্রার্থীর সংখ্যা অধিক। তবে ঐক্যফ্রন্টের বিএনপির একক প্রার্থী হচ্ছেন জেলা বিএনপির সম্পাদক ও উপজেলা সভাপতি সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত।

মহাজোটের প্রার্থীর সংখ্যা অধিক থাকলেও আ.লীগ মনোনীত কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম শক্তিশালী প্রার্থী। তিনি উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও বর্তমান নির্বাচনকালীন সরকারের এমপি। মূলত নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে লড়াই হবে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬ হাজার ১৬১ জন। সিংগাইর উপজেলা, হরিরামপুর উপজেলা ও জেলা সদরের ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসন গঠিত। স্বাধীনতার পর এই আসনে নৌকা প্রতীকে কেউ বিজয়ী হতে পারেনি। ২০১৪ কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম আসনটি থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ছিলেন। এমপি থাকাকালে তিনি এলাকার বেশ উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। উপজেলার ৯৫% এলাকায় বিদ্যুতায়ন করেছেন। শিল্পী ও এমপি হিসেবে মহিলা ভোটার ও তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছেন তিনি। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে তিনি ভাল করবেন, যদি আ.লীগের সব গ্রুপের নেতা-কর্মীরা মাঠে নামে। সে ক্ষেত্রে বিএনপির শক্ত ঘাঁটির চিড় ধরানো অসম্ভব কিছু নয়। এদিকে মহাজোটের বিভিন্ন প্রার্থীর ছড়াছড়ি রয়েছে। মহাজোটের সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম আব্দুল মান্নান দলীয় মনোনয়ন নিয়ে মাঠে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার অবস্থাও ভাল নয়। যুক্তফ্রন্টের গোলাম সারোয়ার মিলন কুলা প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন। সাবেক এ শিক্ষা উপমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন ইতিমধ্যে তার সমর্থকদের নিয়ে শো-ডাউন দিয়েছেন।

মহাজোটের অপর প্রার্থী হচ্ছেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন এর লায়ন এ্যাড. ফেরদৌস আহমেদ আসিফ। আ.লীগ প্রার্র্থী কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম সাংবাদিকদের জানান, আবারও নির্বাচিত হলে সিংগাইরকে সিংগাপুর বানাব। মেট্রোরেল স্থাপন ও গ্যাস সংযোগ দেব, আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করি।

অপরদিকে, ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি থেকে একমাত্র প্রার্থী ঈঞ্জিঃ মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। তার পিতা শামসুল ইসলাম খান (নয়া মিয়া) এ আসন থেকে পরপর ৩বার নির্বাচিত এমপি ছিলেন। পিতার উত্তরসূরী হিসেবে এবং বিএনপির ঘাঁটি হওয়ায় তিনি শক্ত প্রার্থী তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে তার রাজনৈতিক অযোগ্যতা রয়েছে। দলে রয়েছে চরম গ্রুপিং। তিনি জানান, সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।

"