বগুড়া-৩

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন যুদ্ধাপরাধীর দায়ে অভিযুক্ত খোকা

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়া-৩ আসনে যুদ্ধপরাধীর ওয়ারেন্ট নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন সাবেক এমপি আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা। তিনি ৭১’এর মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী মামলার আসামী। তাকে বিএনপি থেকে প্রার্থী করায় জেলার আদমদিঘি ও দুপচাঁচিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ জানিয়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে থাকা সাবেক এমপি খোকা বিএনপির দলীয় মনোনয়ন উত্তোলন, দাখিলের পর বাছাই শেষে বৈধ হওয়ায় তারা এ ক্ষোভ জানিয়েছে।

এর আগে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৮ মে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। গত ২৮ নভেম্বর বিএনপির দলীয় সাবেক এমপি ও মানবতাবিরোধী মামলার পলাতক আসামী আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা, তার সহধর্মিনী মাসুদা মমিন এবং খোকার ছোট ভাই আদমদীঘি উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মহিত তালুকদার মনোনয়ন পত্র জমা দেন। বাছাইকালে মহিত তালুকদারের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকার পক্ষে তার মেয়ে মোছা. নাসিমা ও মাসুদা মোমেন এর মনোনয়নপত্র তিনি নিজেই দাখিল করেন।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সদস্য সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জেএম আলতাফুর রহমান ও প্রসিকিউটর এ্যাড. সুলতান মাহমুদ সীমন খোকার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করার কথা মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন।

আদমদীঘি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার আব্দুল হামিদ জানান, যারা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করেছে এবং বর্তমান ৭১’এর মানবতাবিরোধী যুদ্ধপরাধী মামলার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়েছে। এ ধরণের বির্তকিত মানুষের মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে কিভাবে বৈধ হয় তা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা তার প্রার্থীতা বাতিল করার জন্য দাবী করেছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল মোমিন তালুকদার খোকার মনোনয়ন বাতিল দাবি করে দুপচাঁচিয়া উপজেলার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা এম সরওয়ার খান বুধবার নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। এম সরওয়ার খান জানান, ইসিতে দায়ের করা তার আপিলে দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন। খোকার পক্ষে তার মেয়ে নাসিমা মোমিন লাকী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ওই মনোনয়নপত্রে পলাতক খোকার দেয়া স্বাক্ষর নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে আদমদীঘি থানার কায়েতপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সুবিদ আলী বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে খোকার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। আদালত সুবিদ আলীর আবেদনটি এজাহার হিসাবে লিপিবদ্ধ করার জন্য আদমদীঘি থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়। পরে ওসি তা এজাহারভুক্ত করে অধিকতরও তদন্তসহ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলাটি মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করে। এরপর বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় তদন্ত শেষে খোকার বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রমানিত হলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর আবেদন করেন। পরে আদালত খোকার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে।

"