ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ)

লক্ষাধিক তরুণ ভোটারেই নির্ধারিত হবে প্রার্থীর ভাগ্য

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ইমরান হোসেন সুজন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে লক্ষাধিক নতুন ভোটারই নির্ধারণ করবে প্রার্থীর জয়-পরাজয়। দশম সংসদ নির্বাচনে এদের বড় অংশই ভোট দিতে কেন্দ্রেই যায়নি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এবারের নির্বাচন সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক হওয়া আশ্বাস পাওয়া গেছে। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিক্ষপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলে নতুন ভোটারসহ সব ভোটারই তাদের মতামত জানানোর সুযোগ পাবে। এদের বড় অংশ দলীয় না হওয়ায় তাদের ভোটেই নির্ধারিত হবে প্রার্থীর ভবিষ্যৎ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় প্রতিদ্বন্দ্বিহীন দশম সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৯৫৮ জন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে সে ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪০৭ জন। ভোটার বেড়েছে ৬৪ হাজার ৪৪৯ জন। অন্যদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ভোটার ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৬ জন। সে হিসেবে ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৫৭১ জন। এ সংখ্যার প্রায় পুরোটাই তরুণ ভোটার।

ভোট যখন আসন্ন তখন অনেকেরই চিন্তা ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের লক্ষাধিক এই ভোটারকে নিয়ে। ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী এসব ভোটারের বেশির ভাগই এই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের সমর্থন জানানোর সুযোগ পেতে যাচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের কারণে এই তরুণ প্রজন্ম অবাধ তথ্য প্রবাহের মধ্যে বড় হয়ে উঠেছে। এদের মধ্যে দেশপ্রেম আছে, তবে দলীয়কতা কম। ফলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে এই তরুণ প্রজন্ম। রাজনীতির নানা ভাঙাগড়ার লাভ-ক্ষতির বিষয়টিও এরা পর্যবেক্ষণে রাখছে।

দোহারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবিরের মতে, ‘নির্বাচনে এই তরুণ প্রজন্মের সমর্থনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরা পরিবর্তন, সততা ও আদর্শ চায়। সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়। এদের ৯০ শতাংশই স্বাধীনতার পক্ষে, কিন্তু এরা দলান্ধ নয়। প্রচ- দেশপ্রেম রয়েছে এদের মধ্যে।’ দোহারের বাসিন্দা গ্রামীন ফোনের সাবেক পরিচালক ও রবি আজিয়াটার বর্তমান এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার এম এ খান সোহেল বলেন, ‘নতুন ভোটারদের যে সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে, এতেই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষাধিক ভোটার এ নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখবে। এরা অন্ধভাবে ভোট দেবে না। রাজনীতির ভাঙাগড়াও এরা পর্যবেক্ষণে রাখছে।’

প্রায় একই কথা বলেন নবাবগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লায়স আব্দুস সালাম চৌধুরি।

নবাবগঞ্জের শোল্লা গ্রামের তরুণ ভোটার সাদিয়া জামানের মতে, নবাবগঞ্জে মাদকের প্রভাব অনেক বেশি। এতে করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। কমে যাচ্ছে শিক্ষার হারও। আগামী নির্বাচনে জনপ্রতিনিধির কাছে আমার প্রত্যাশা, যাতে মাদক সমস্যার সমাধানের রাস্তাঘাটগুলো সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। দলমত নির্বিশেষে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী এমন প্রতিনিধি চাই, তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করব।

নবাগঞ্জের শিকারীপাড়া ইউনিয়নের তরুন ভোটার শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময় নানা আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। আগামী নির্বাচনে আমি এমন একজন প্রার্থী চাই, যে নিজ উদ্যোগে এসব সমস্যার সমাধান করবে। একই সঙ্গে কথা ও কাজের মিল থাকবে। উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধির পেছনে ঘুরবে না, প্রতিনিধি যেন নিজ উদ্যোগে জনগণের কল্যাণে কাজ করেন।

দোহারের নয়াবাড়ি ইউনিয়নের আরেকজন তরুণ ভোটার তসলিম আহমেদ, হৃদয় আহমেদসহ বেশ কয়েকজন রাজধানীর সঙ্গে দুই উপজেলার যাতায়াত বিড়ম্বনার কথা তুলে ধরে বলেন, আগামী নির্বাচনে আমি এমন একজন প্রার্থী চাই, যে নিজ উদ্যোগে এসব সমস্যার সমাধান করবে। একই সঙ্গে কথা ও কাজের মিল থাকবে।

এরা সবাই জাল ভোটে ভোটাধিকার নষ্ট যেন না হয় সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। উদার, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, শোষণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা প্রত্যাশা করেন।

 

"