খুলনায় আ.লীগের প্রার্থীরা ফুরফুরে; টেনশনে বিএনপি

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মো. শাহ আলম, খুলনা ব্যুরো

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনে একক প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। যে কারণে দলীয় প্রার্থীরা অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। অপরদিকে, ছয়টি আসনে ১১জন প্রার্থী থাকায় টেনশনে রয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। এছাড়া নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ, নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগে দলীয় প্রভাব ও গ্রেফতার ইস্যু নিয়েও অনেকটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে দলের নেতারা। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে ৭ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপি।

সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার পর এবার খুলনায় দলীয় মনোনয়ন চেয়ে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তবে দলের পক্ষ থেকে ছয়টি আসনের বিপরীতে ছয়জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলীয় মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েন খুলনা-২ ও ৬ আসনের বর্তমান দু’জন এমপি মিজানুর রহমান এবং শেখ নুরুল হক। কিন্তু এই আসন দুইটিতে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুস্পুত্র শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. আক্তারুজ্জামান বাবুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল বলেন, প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও মনোনয়ন ঘোষণার পরই নৌকার সমর্থনে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ খুলনা-২ আসনে নতুন প্রার্থী শেখ জুয়েলের পক্ষে দলীয় কর্মকা-ে বর্তমান সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানকে সক্রিয় দেখা গেছে। ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সকলে অবস্থান নিয়েছে।

অপরদিকে, খুলনায় ছয়টি আসনে বিএনপি মোট ১১ জনকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র খুলনা-১ আসনে আমীর এজাজ খান এবং খুলনা-২ আসনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু একক প্রার্থী রয়েছেন। বাকি চার আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এরা হচ্ছেন- খুলনা-৩ আসনে রকিবুল হাসান বকুল ও এস এস আরিফুর রহমান মিঠু; খুলনা-৪ আসনে আজিজুল বারী হেলাল ও শরীফ শাহ কামাল তাজ; খুলনা-৫ আসনে ডা. গাজী আব্দুল হক, ড. মামুন রহমান ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার এবং খুলনা-৬ আসনে এস এম শফিকুল আলম মনা ও জামায়াতের খুলনা মহানগর নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। যদিও যাচাই বাছাই পর্বে খুলনা-৬ আসনে এস এম শফিকুল আলম মনার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আপীল করেছেন শফিকুল আলম মনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই আসনের একাধিক প্রার্থীরা বলছেন, যেহেতু দল থেকেই একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাই তারা কাজে নেমে পড়েছেন। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রতিটি আসনে একক প্রার্থীই রাখা হবে। যে কারণে কাকে বাদ দেওয়া হয়, আর কাকে রাখা হয়- এটি নিয়ে তারা বেশ টেনশনে রয়েছেন।

এদিকে সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে খুলনা বিএনপিতে রয়েছে উদ্বেগ। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে বিএনপি মিথ্যা ও গায়েবি ১৯ মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৫৯ জন নেতাকর্মীর মুক্তির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। একই সাথে সরকারি দলের নির্বাচনী সভা, যানবাহনে প্রার্থীর পোস্টার, সিটি করপোরেশনের গাড়ি ব্যবহার করে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সরকারি দলের সমর্থক দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা থেকে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কাজে খুলনা মহানগরীতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে নির্বাচনে নিয়োজিত সেনবাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে। এছাড়া বিগত মেয়র নির্বাচনে ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা বিতর্কিত প্রিসাইডিং ও পুলিশ অফিসারদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।

"