পাখি, হাওর ও অন্যান্য

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০

তমাল ফেরদৌস

আমাদের দেশীয় পাখিগুলোর মধ্যে এখন অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছগাছালি, পরিবেশবান্ধব গাছগাছালি, পাখিবান্ধব গাছগাছালি এখন আর নেই বললেই চলে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছগাছালি কর্তনের মহোৎসব চলে। ক্রমান্বয়ে আমরা হারিয়ে ফেলি বংশানুক্রমিক পাওয়া বড় বড় ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছগাছালি। সারা দেশ জুড়ে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদা বেড়ে ওঠে। মানুষ খেতের জমি সম্প্রসারিত করতে গিয়ে বাড়ির আশপাশের পরিপূর্ণ জমিগুলোর গাছগাছালি কেটে জমিতে রূপান্তরিত করে।

দেশি আম, জাম, কাঁঠাল, লটকন, পেয়ারা, ডেফল, লুকলুকি, বরই, বেলফই, কাউ, কদম, শিমুল, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, বকুল ইত্যাদি গাছগাছালি ছিল পরিবেশবান্ধব, মানুষসহ পাখিদের বসবাস ও বিচরণের জন্য উপযুক্ত। এসব গাছগাছালিতে ফিঙে, টুনটুনি, সারস, শালিক, ঢোপি, বুলবুলি, বাবুই, দোয়েল, বক, কানিবক, কুড়াসহ দেশীয় প্রজাতির পাখিগুলো সারা দিন খেলা করত। এসব গাছের কোনেটির ফল পাখির শরীরের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করত। কোনো ফল পাখির ঔষধি হিসেবে কাজ করত। কোনো কোনো ফল পাখির জীবনায়ু বৃদ্ধি করত। আবার কোনো কোনো গাছ বাসা বানানোর জন্য উপযুক্ত ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এসব গাছগাছালি কেটে ফেলার কারণে পাখিরাও যেন দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। পাখির বাসা বানাতে যেসব গাছ উপযুক্ত ছিল সেসব গাছ কেটে ফেলার কারণে বংশবৃদ্ধি কমে গেছে। তা ছাড়া গত কয়েক দশক ধরে যেসব গাছ বাড়ির আশপাশে লাগানো হচ্ছে। এ গাছগুলো পরিবেশবান্ধব নয়। এসব গাছে পাখিরা বসে না। কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন জাতের ইউক্যালিপটাস, আকাশি, বেলজিয়াম, মেহগনি, সেগুন ইত্যাদি গাছগাছালি বাড়ির আশপাশের জমিতে লাগানো হচ্ছে। এদের মধ্যে একটি গাছও বাড়ির আশপাশে লাগানোর জন্য উপযুক্ত নয়। এ গাছগুলো পাহাড়ি মাটি ও এলাকার ক্ষেত্রে মানানসই। সবুজ শ্যামলে ঘেরা আমাদের এই দেশে গাছগাছালি লাগানো হলেও এসব গাছ পরিবেশ, প্রতিবেশ, মানুষ, পশু-পাখিদের জন্য উপযুক্ত নয় বিধায় প্রাকৃতিক গাছগাছালি কর্তনের সাথে সাথে প্রাকৃতিকভাবেই পাখিদের অনেক প্রজাতি আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণেও অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

আমাদের দেশের একটা বড় অংশ হলো নদ-নদী-খাল-বিল, হাওর এলাকা দিয়ে পরিপূর্ণ। দেশীয় প্রজাতির পাখিগুলোর বিচরণক্ষেত্রও ছিল বিরাট এই এলাকাগুলো। অগ্রহায়ণ-পৌষ-মাঘ মাসে ধানে পরিপূর্ণ থাকত নদ-নদী-খাল-বিল, হাওর এলাকার আশপাশের এলাকাগুলো। কৃষক পরিবারগুলো ছিল দেশের গ্রামগুলোতে। গরু-মহিষ আর লাঙল দিয়ে জমি চাষ করা হতো। জমিগুলোতে জৈবসার হিসেবে গোবর ছিটানো হতো। লাঙল দিয়ে জমি চাষ করার কারণে ছোট মাছ ও মাছের পোনাগুলো জমিতে উদ্বৃত্ত থেকে যেত। এ সময় দেশীয় প্রজাতির একটি বড় অংশ জমিতে ধানখেত, ছোট ছোট মাছ খেত। দেশে একসময় জমি চাষের ক্ষেত্রে পাওয়ার টিলার ব্যবহার করা শুরু হলো। আমরা যতটা আধুনিক হতে শুরু করলাম ততটা দেশীয় সংস্কৃতি ও দেশীয় অনেক কিছু হারাতে লাগলাম। এর মধ্যে পাখি ও মাছ বেশি করে হারাতে থাকলাম।

হাইল হাওর প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও জীবন-জীবিকার বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। পাখি, মৎস্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত ভা-ার হিসেবে একসময় সুপরিচিত ছিল হাইল হাওর। এ হাওরকে বলা হতো বৃহত্তর সিলেটের পাখি ও মৎস্য ভা-ার। তিন দিকে পাহাড় বনাঞ্চল বেষ্টিত মৌলভীবাজার জেলা সদর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। মেঘনা-কুশিয়ারা অববাহিকায় এ হাইল হাওর অবস্থিত। উত্তর-পূর্বে রয়েছে বালিশিরা ও বর্ষিজোড়া পাহাড় এবং পশ্চিমে সাতগাঁও পাহাড়। পাহাড় থেকে নেমে আসা প্রায় ৩৫০টি ছড়া অতীতে এই হাইল হাওরের পানির প্রধান উৎস ছিল। বর্তমানে সেই ছড়াগুলো সংখ্যা কমে অর্থাৎ ছড়াগুলো বিলীন হয়ে গিয়ে এদের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৯টিতে। হাইল হাওরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ গোপলা নদী, যা হাওরের উত্তর দিক থেকে বের হয়ে মেঘনার ঊর্ধ্বাংশের সাথে মিলিত হয়েছে। রাবার ড্যাম নির্মাণ করে গোপলাকে মেরে ফেলা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা মির্জাপুর, কালাপুর, শ্রীমঙ্গল, আশীদ্রোণ ও ভূনবীর ইউনিয়ন এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ও গিয়াসনগর ইউনিয়নে হাইল হাওর ছড়ানো। এসব উপজেলা এবং ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলার অধীনে। এসব হাওরে শীত মৌসুমে লাখ লাখ দেশীয় প্রজাতির পাখির বিচরণ ছিল অবাধে। হাওর পাড়ের গ্রামগুলোর শৌখিন পাখি শিকারিরা বন্দুক দিয়ে ওটা, লেঞ্জা, বক, কানিবক, সরালি হাঁস ইত্যাদি পাখি শিকার করতেন। একসময় পাখি শিকার নিষিদ্ধ ও পাখির সংখ্যা ও প্রজাতি কমে যাওয়ায় বড় বড় শৌখিন শিকারিদের শিকারে ভাটা পড়লেও এখনো ছোট মাপের শিকারিরা বিভিন্ন পন্থায় পাখি শিকার করে আসছে।

একসময় দেশের বৃহত্তম হাকালুকি হাওর প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া) হিসেবে চিহ্নিত করা হলো। এসব হাওর এখন অতিথি পাখির দখলে চলে গেছে। আমরা এখন দেশীয় প্রজাতি ছেড়ে অতিথি পাখিশুমারিতে বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠেছি কোনো উপায় না থাকায়। এর পরও নানা রঙের ও জাতের স্থানীয় এবং অতিথি পাখি হাওর খাল-বিলে-ঝিলে ঝাঁক বেঁধে উড়ে বেড়াতে দেখা যায়। পাখি শিকার রোধ, জলজ উদ্ভিদ রোপণ ও পাখির অভয়ারণ্য তৈরির কারণে হাওরে অতিথি পাখিরা আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

জলচর পাখিশুমারি দল সূত্রে জানা গেছে, হাকালুকি হাওরে ২০০৮ মৌসুমে ৪১ প্রজাতির ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৫১টি পাখি গণনা করা হয়। এই মৌসুমে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ১২ প্রজাতির ৬৬ হাজার ৫০৮টি পাখি হাওর, খাল-বিলে দেখা গেছে। এ ছাড়া নাগুয়া-ধুলিয়া বিলে সবচেয়ে বেশি ১৯ প্রজাতির ৩ হাজার ২৩৯টি পাখির দেখা মেলে। হাকালুকি হাওরে সারা বিশ্বে হুমকিগ্রস্ত বিরল প্রজাতির ব্লেয়ারের ভূতিহাঁস (বেয়ারস পোচার্ড) ও মেটে মাথা টিটি (গ্রে হেডেড ল্যাপউইং) পাখি ওই বছরই দেখা গেছে। ২০০৭ মৌসুমে হাকালুকিতে ছিল ৪২ প্রজাতির ৫১ হাজার ৫২৮ পাখি।

পরিবেশ অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন উপকূলীয় ও জলাভূমি জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উদ্যোগে ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে হাকালুকি হাওরে পাখিশুমারির নেতৃত্ব দেন বিশিষ্ট পাখি পর্যবেক্ষক ড. ইনাম আল হক। ওই বছর শীত মৌসুমে হাকালুকি হাওরের চকিয়া বিল, হাওয়া বিল, ফুট বিল, হিংগাইজুর বিল, পিংলা বিল, বিরালি খাল, হাওর খালবিল, কালাপানি, বিল, বোয়ালজুর বিল, নাগুয়া-ধুলিয়া বিল, জাল্লা বিল, বালিজুরি বিল, পালোভাংরা বিল, চাতরা বিল, নামা তুরল বিল, ফোয়ালা বিল ও উজান তুরল বিল। এই ১৭টি বিলে পাখিদের নিয়ে জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপ দল সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত বিলগুলোয় গিরিয়া হাঁস, নীলমাথা হাঁস, পিয়ং হাঁস, উত্তরে লেঞ্জা হাঁস, উত্তরে খুন্তি হাঁস, মরচেরং ভূঁতিহাঁস, ইউরেশিও সিঁথি হাঁস, পাতি তিলি হাঁস, টিকি গাঁস, পাতি ভূঁতিহাঁস, বেয়ারের ভূঁতিহাঁস (২টি), খয়রা চকাচকি, রাজ সরালি, পাতি সরালি, অসনাক্ত হাঁস, বেগুনি কালেম, বন বাটান, সবুজ বাটান, পাতি সবুজ পা, পাতি লাল পা, মেটে মাথা টিটি (৪০০টি) কালা মাথা গাঙচিল, ফুলফি পানচিল, পাতি কুট, পাতি বাটান, লেঞ্জা চেগা, বিল বাটান, ছোট নথজিরিয়া, প্রশান্তু সোনা জিরিয়া, বড় খোঁপা ডুবুরি, ছোট পানকৌড়ি, বড় পানকৌড়ি, উদয়ী গয়ার, দেশি কানি বক, চীনা কানি বক, ধুপনি বক, গো বক, বড় বগা, মাজলা বগা ও এশীয় শ্যামখোল পাখির দেখা মিলেছে।

এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরটি প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জায়গা নিয়ে গঠিত। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ এই ৫ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে হাওরের সীমানা। অনেক আগে থেকেই এই হাওরটি পাখি ও মাছের জন্য বিখ্যাত। শীত মৌসুম এলে হাওর এলাকা অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখর হয়ে ওঠে। তবে হাওর এলাকায় বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাওরের পানি কমে যাওয়া, হিজল, করচসহ জলজ উদ্ভিদ কমে যাওয়ায় পাখির অভয়স্থল বিপন্ন, বিষ টোপ, ফাঁদ পেতে ও বন্দুক দিয়ে পাখি শিকারসহ অন্যান্য কারণে পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে আসছিল। ২০০৪ সালে পরিবেশ অধিদফতর যেসব এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া) ঘোষণা করে হাকালুকি হাওর তাদের মধ্যে অন্যতম। পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ইউএনডিপি-জিইএফের অর্থায়নে পরিবেশ অধিদফতরের উপকূলীয় ও জলাভূমি জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (সিডব্লিউবিএমপি) স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে কাজ করছে।

বছরের আগস্ট-অক্টোবর, নভেম্বর-জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল মাসে ক্রমান্বয়ে শীতের প্রকোপ যতই বাড়তে থাকে, হাকালুকি হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে পরিযায়ী পাখির (অতিথি পাখি) কলকাকলী তত বেড়ে যায়। একটু ওম, খাবারের নিশ্চয়তা আর নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় যূথবদ্ধভাবে অচিন উদ্দেশ্যে হাজার হাজার মাইল পথ বিরামহীন পাড়ি দিয়ে নানা প্রজাতির রং-বেরঙের পাখি এ দেশে আসতে শুরু করে। বিল আর ঝিলের কচুরিপানা, শাপলা-শ্যাওলা, জলাশয় আর নাম না জানা জলজ উদ্ভিদের মধ্যে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার কিছু অংশজুড়ে দেশের সর্ববৃহৎ হাকালুকি হাওর, কাউয়াদীঘি, হাইল হাওরের বাইক্কা বিলসহ অন্য জলাশয়গুলো পাখপাখালির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠছে। এদের অধিকাংশই ঘন বাদামি শরীর আর কালছে পাখার পরিযায়ী পাখি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলের জলাভূমির গড় উচ্চতা ৫ মিটার। বর্ষার মৌসুমে এ হাওরের গড় আয়োতন প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর আর শুকনো মৌসুমে প্রায় চার হাজার হেক্টর ভূমিতে সংকুচিত হয়ে যায়। এর হাওরের গভীরতা সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫ মিটার। এখানে প্রায় ৯০টি মৎস্য প্রজাতি রয়েছে। তার মধ্যে ৯টি বিদেশি প্রজাতি। স্তন্যপায় প্রায় রয়েছে ১৭ প্রজাতির। উভচর প্রাণী ৫ প্রজাতির এবং সরীসৃপ রয়েছে প্রায় ২৫ প্রজাতি। এ বছর এই বাইক্কা বিলে বিচরণ করছে ৪০ প্রজাতির ১২ হাজার ২৫০ পাখি। গত বছর পাখিদের ছিল ৩৪ প্রজাতির ৯ হাজার ৪০৫টি। জলজ উদ্ভিদের সংখ্যা প্রায় ১০১ এবং স্থলজ উদ্ভিদ ১৩০ প্রজাতির (ক্যাচমেন্ট এলাকাসহ) রয়েছে।

প্রতি বছর বিশ্বের শীতপ্রধান ও বরফবহুল অঞ্চল সোভিয়েত রাশিয়া, সাইবেরিয়া, উত্তর মেরু, হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি এলাকায় প্রচ- শীত পড়লেই প্রায়ই আড়াই শ প্রজাতির পাখি আসে এ দেশে। অতিথি পাখিরা আগস্ট-অক্টোবর, নভেম্বর-জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল এই তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পশ্চিম এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ান আকাশ ধরে এ দেশে পাড়ি জমায়। তবে এদের অধিকাংশ আসে হিমালয় পার্বত্য এলাকা থেকে। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শীতপ্রধান দেশের অতিথি পাখিরা হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তীব্বতের লাদাক থেকে সেন্ট্রাল এশিয়ান ইন্ডিয়ান ফ্লাইওয়ে দিয়ে এ দেশে প্রবেশ করতে শুরু করে। প্রতি বছরের শীত শেষে এরা আবার নিজের দেশে ফিরে যায়। অতিথি পাখিরা এ দেশে কিছুদিন অবস্থান করার পর দক্ষিণ ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কার দিকে পাড়ি জমায় এবং নির্দিষ্ট গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার আগে আরো একবার পাখিরা এ অঞ্চলে আসে।

পরিবেশ অধিদফতর ও বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস (সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্সস স্টাডিজ) সংগঠনটি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে হাকালুকি হাওরের দহবিল, হালা-জলা, হারামডিঙ্গা, নাগোয়া-লবিরই ও চাতলা বিলকে অতিথি পাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া হাইল-হাওরের বাইক্কা বিলে পাখিসহ জলজ উদ্ভিদের অভয়ারণ্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব বিলে হিজল, করচ, বরুন, মূর্তাসহ জলাভূমির উপযোগী বিভিন্ন উদ্ভিদের ডাল পোঁতা হয়েছে।

কুলাউড়া পরিবেশ অধিদফতরের ইকো ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, অতিথি পাখি দেখতে আসা পর্যটকদের সুবিধার্থে হাকালুকি হাওরে তিনটি সুপরিসর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও বাইক্কা বিলে দুটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাওরের বিলগুলো ক্রমান্বয়ে পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাভূমি কৃষি ভূমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একদল পাখি শিকারিরা এসব জমিতে বিষাক্ত কীটনাশক ঢেলে রাখে। অতিথি পাখিরা খাবারের খোঁজে এসে বিষাক্ত কীটনাশক খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এখন থেকে যাতে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে, তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ বেসরকারি এনজিও সংস্থার নিবিড় পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলে জানা গেছে।

"