অপরাধটা কার...

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

কবির ভাষায় বলছি, ‘বাসন্তীকে কী দোষ দেব, বাসন্তীতো যুবতী মেয়ে’। আসলেই বাসন্তীর কোনো দোষ নেই। সব দোষ বয়সের অর্থাৎ যৌবনের। স্মার্ট কার্ডে শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখানে পরিকল্পনায় কোনো দোষ ছিল না। যাদের ওপর বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল, তাদেরও কোনো বড় মাপের দোষ দেখি না। দোষটা তাদের, যারা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বড় বড় চেয়ারে ছোট ছোট (ছোট মনের) সেসব মানুষকে বসার সুযোগ করে দিয়েছেন। যাদের অতীত কখনো সুস্থ সংস্কৃতির সঙ্গে দুই কদম হাঁটার সুযোগ পাননি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো মানসিক শক্তি ও সাহস অর্জন করতে পারেননি, দেহ ও মনকে বাইরের ভাইরাস আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তারাই এখন চেয়ারে। এরা যে কখনোই জাতি ও রাষ্ট্রকে লাভবান হতে দেবেন না-এটাই স্বাভাবিক। তাই দুর্নীতি গিলে খাচ্ছে সমাজ এবং এভাবেই, ‘অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’।

মিডিয়া বলছে, ফরাসি প্রতিষ্ঠান ‘ওবারথুর’ টেকনোলজির ব্যর্থতায় স্মার্ট কার্ট প্রকল্পটি এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাকে আর ক্রেন দিয়েও টেনে তোলা যাচ্ছে না। দেড় বছর বেঁধে দেওয়া এই প্রকল্পের কাজ এক বছর আগে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে আরো এক বছর বাড়িয়ে নেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি তার ব্যর্থতার স্টপেজ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। অবশেষে তাদের বাদ দিয়ে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে স্মার্ট কার্ডের কাজ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এত দিন পর ফরাসি প্রতিষ্ঠানটির ব্যর্থতার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে বলা হয়েছে, টেকনোলজির ঘাটতির কারণে ‘ওবারথুর’ কাজ শেষ করতে পারেনি। এখানেই প্রশ্ন? যারা এই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছেন, তারা কি যাচাই না করেই প্রতিষ্ঠানটিকে উপযুক্ত মনে করেছেন! তা না হলে আমরা তাদের মুখ থেকে এ বাক্যটি উচ্চারিত হতে দেখছি কেন? যাচাই না করে দেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবে আরো কিছু প্রশ্ন এসে যায়। যার প্রথমটিই হলো, ‘কেন’ এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার আশঙ্কাই বেশি। আমরা সেদিকে যাব না। কারণ কাজটি আমাদের নয়। আমরা শুধু এটুকু বলতে পারি, রাষ্ট্রের টাকা খোলামকুচির মতো যে কেউ নষ্ট করবেন, লুট করবেন, নিজের আখের গোছাবেন আর আমরা তা প্রতিবন্ধী শিশুর মতো অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখব! না, তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর একটি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। আশা করি, রাষ্ট্র আমাদের প্রত্যাশা পূরণে সমর্থ হবে।

"