পোনা নিধন বন্ধ হোক

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল। তিনটি জেলা জুড়ে এর বিস্তৃতি। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তৃত অংশ জুড়ে যে জলাভূমি-বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ের এই বিলটিই বিখ্যাত চলনবিল। শুকনো মৌসুমে এসব বিলে পানি থাকে না। তখন চাষাবাদ চলে বিলের জমিনে। তবে বর্ষায় কানায় কানায় পানিতে পরিপূর্ণ হলে রূপের পসরা সাজিয়ে বসে পূর্ণিমা চাঁদ। তবে কালো চাঁদের ছায়াতেও এ বিলের সৌন্দর্যে ঘাটতি পড়েনি কখনো।

ব্রহ্মপুত্র নদ যখন তার প্রবাহপথ পরিবর্তন করে বর্তমান যমুনায় রূপ নেয়, সে সময়েই চলনবিলের সৃষ্টি। গঠিত হওয়ার সময় চলনবিলের আয়তন ছিল প্রায় ১ হাজার ৮৮ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে তা অনেক কমে এসেছে। আসলে চলনবিল অনেকগুলো ছোট ছোট বিলের সমষ্টি। বর্ষায় এই বিলগুলোতে জলপ্রবাহ বেড়ে একসঙ্গে বিশাল এক বিলের সৃষ্টি হয়। সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ, পাবনা জেলার চাটমোহর এবং নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা জুড়ে এ বিলের বিস্তৃতি। বিলের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্ত পাবনা জেলার নুননগরের কাছে অষ্টমনীষা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর প্রশস্ততম দিকটি উত্তর-পূর্ব কোনাকুনি। নাটোরের সিংড়া থেকে গুমনীপাড়ের কাচিকাটা পর্যন্ত এ বিলের সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় চব্বিশ কিলোমিটার দীর্ঘ।

মৎস্য ভা-ারখ্যাত বৃহত্তর চলনবিলে অবাধে চলছে পোনা মাছ নিধন। কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে শিকার করা এসব পোনা মাছে সয়লাব হয়ে গেছে চলনবিল অঞ্চলের প্রতিটি হাটবাজার। এ বছর আগাম বৃষ্টি হওয়ায় বিশেষ করে গত কয়েক দিনের প্রচ- বৃষ্টিতে চলনবিলের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভরে গেছে বিলের প্রতি ইঞ্চি ভূমি। ফলে শুরু হয়েছে মলা-ঢেলা মাছের অবাধ বিচরণ । আর এ সুযোগে বিল পাড়ের মানুষ টেংরা, পুঁটি, খলিসা, পাবদা, টাকি, কই, সিং, শোলসহ অসংখ্য দেশি প্রজাতির পোনা মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করছে। কারেন্ট জাল, বাদাই জাল, সুতি জাল, খোরা জাল ও ধর্ম জাল দিয়ে তারা এসব মাছ শিকার করে। চলনবিল এলাকার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, গুরুদাসপুর, সিংড়া ও আত্রাই উপজেলার বিলে শিকারের মহোৎসব চলছে কর্তৃপক্ষের চোখের সামনে।

বর্ষাকাল হলো মৎস্য ভা-ারখ্যাত চলনবিলে মাছের প্রজননকাল। চলনবিলের মিঠা পানির এই মাছ দেশে বিপুল পরিমাণ আমিষের চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু সম্প্রতি চলনবিলে নির্বিচারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বা প্রশাসনের যোগসাজশে চলছে এই নিধনযজ্ঞ। আমরা এ নিধনযজ্ঞের অবসান চাই।

"