বাব দিবস

সব শিশুর অন্তরে

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৭, ০০:০০

ফয়জুন্নেসা মণি

বাবা, পৃথিবীর একমাত্র অদ্বিতীয় আলো-বটবৃক্ষ ছায়া। বাবার হাত ধরেই হাঁটতে শেখা। জীবনের অনন্ত এই পথচলা বাবার দেখানো পথেই। সন্তানের কাছে বাবা আলোর পথের দিশারি। বাবা মনেই হার না মানা সাহস, জীবন সংগ্রামের অফুরান প্রাণশক্তি, লক্ষ্য অর্জনের নব উদ্যম, বিজয়ে অনাবিল উচ্ছ্বাস আর আস্থা ও প্রেরণার প্রতীক। বাবারা সন্তানের কাছে পরমাশ্রয়। বিশ্বজুড়েই জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় ‘বাবা দিবস’। যদিও বাবার জন্য একটি দিবস যথেষ্ট নয়। তবু বাবার সম্মানে একটি বিশেষ দিন মন্দ কিসে। বাবা, দায়িত্বশীল এক অনন্য, অসাধারণ অধিকর্তা। বাবা, কখনো আবেগ-আপ্লুত বাবা। বাবা, কখনো কঠোর শাসনের খোলসে আবৃত স্নেহময় পিতৃহৃদয়ের অধিকারী। বাবা, সকল ঝড়-ঝঞ্ঝায় আগলে রাখা বটবৃক্ষ। সন্তানের জন্য অদৃশ্য স্নেহময় ছায়াবৃত্ত। আবেগ আর আকাক্সক্ষার মূর্ত প্রতীক। বাবা, এক অক্লান্ত যোদ্ধা। আদর্শ আর সততার সূর্যরশ্মি। বাবা, সন্তানের জন্য সর্বত্যাগী এক মহান পুরুষ। একজন মানুষ বাবা-যিনি বুকের ভেতর চেপে রাখেন অযাচিত কষ্ট, যাতনা, দুঃখ। সেই বাবার জন্য প্রতিটি দিন হোক সন্তানের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার প্রতীক। সব বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

জার্মানির ‘ফ্যাটা’ বাংলায় হয়ে যায় ‘বাবা’। ইংরেজ সন্তানের আপ্লুত ‘ফাদার’ ডাক ভারতে ‘পিতাজি’। এ ছাড়া দেশ-বিদেশে বাবার প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দগুলো হচ্ছে-পাপা, বাপা, ড্যাড, ড্যাডি, বাপি, আব্বা, বাজান প্রভৃতি। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে দিবসটির শুরু। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮৭টি দেশ দিবসটি পালন করে। জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস পালন করে- বাংলাদেশ, অ্যান্টিগুয়া, বাহামা, বুলগেরিয়া, কানাডা, চিলি, কলাম্বিয়া, কোস্টারিকা, কিউবা, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স, গ্রিস, গায়ানা, হংকং, ভারত, আয়ারল্যান্ড, জ্যামাইকা, জাপান, মালয়েশিয়া, মাল্টা, মরিশাস, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, পানামা, প্যারাগুয়ে, পেরু, ফিলিপাইন, পুয়ের্টো রিকো, সিঙ্গাপুর, সেøাভাকিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুরস্ক, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ভেনিজুয়েলা ও জিম্বাবুয়ে। ইরান বাবা দিবস পালন করে ১৪ মার্চ। বলিভিয়া, ইতালি, হন্ডুরাস, পর্তুগাল ও স্পেন বাবা দিবস পালন করে ১৯ মার্চ। দক্ষিণ কোরিয়া বাবা দিবস পালন করে ৮ মে। জুন মাসের প্রথম রোববার বাবা দিবস পালন করে লিথুনিয়া। ডেনমার্ক বাবা দিবস পালন করে ৫ জুন। জুনের দ্বিতীয় রোববার বাবা দিবস পালন করে অস্ট্রিয়া, ইকুয়েডর ও বেলজিয়াম। গুয়েতেমালা ও এল সালভেদর বাবা দিবস পালন করে ১৭ জুন। নিকারাগুয়া, পোল্যান্ড ও উগান্ডা বাবা দিবস পালন করে ২৩ জুন। উরুগুয়ে বাবা দিবস পালন করে জুলাই মাসের দ্বিতীয় রোববার। ডমিনিকান রিপাবলিক বাবা দিবস পালন করে জুলাই মাসের শেষ রোববার। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ব্রাজিল বাবা দিবস পালন করে আগস্ট মাসের দ্বিতীয় রোববার। তাইওয়ান ও চীন বাবা দিবস পালন করে ৮ আগস্ট। ফুটবল প্রিয় দেশ আর্জেটিনা বাবা দিবস পালন করে ২৪ আগস্ট। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বাবা দিবস পালন করে সেপ্টেম্বরের প্রথম রোববার। হিমালয় কন্যা নেপাল বাবা দিবস পালন করে একই মাসের পূর্ণিমায়। পশ্চিম ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গ বাবা দিবস পালন করে ৫ অক্টোবর। এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেন বাবা দিবস পালন করে অক্টোবরের দ্বিতীয় রোববার। থাইল্যান্ড বাবা দিবস পালন করে ৫ ডিসেম্বর। দিবস ও বিষয় এক হলেও আবেগ, অনুভূতি প্রকাশের রীতিনীতি একেক দেশে একেক রকম। বাংলাদেশ আমাদের দেশে বাবা দিবস পালনের ব্যাপক প্রচলন নেই। শহরে আধুনিক মনস্ক তরুণ-তরুণীরা এই দিবসটি পালন করে নিজেদের মতো করে। তবে ঘটা করে পারিবারিক আয়োজন খুব একটা হয় না এখানে। তবে আমরা বাঙালিরা বাবাকে খুব বেশি ভালোবাসি প্রতিদিন প্রতিক্ষণ। ভারতে পশ্চিমা দেশগুলোর অনুকরণে বাবা দিবস পালিত হয়। এই দিন বাবার সঙ্গে কাটায়, বাবাকে শুভেচ্ছা জানায় কার্ড, ফুল বা অন্যকিছু দিয়ে। পরিবারের সবাই মিলে পিকনিক বা সিনেমা দেখাটাও বেশ প্রচলিত। আমেরিকায় পরিবারের সদস্যদের কাছে এই দিনটি পুনর্মিলনীর মতো। বাবাকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল, কার্ড, চকোলেট, নেকটাই আমেরিকানদের পছন্দের তালিকায়। অস্ট্রেলিয়ায় বাবাসহ পরিবারের সবাই একত্রে সারাদিন কাটায় বাবার সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়ানদের বিশ্বাস এর ফলে সন্তানদের সঙ্গে বাবার ভালোবাসার বন্ধন আরো সুদৃঢ় হয়। তারা উপহার দেয়- নেকটাই, চকোলেট, ফুল বা বাবার প্রিয় কোনো কিছু। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাবাকে শুভেচ্ছা জানাতে কার্ড, ফুল, নেকটাই বা হাতে বানানো কিছু উপহার দেওয়া হয়। অনেকেই এদিন বাবার সঙ্গে পিকনিক, মাছ শিকারে বা রেস্টুরেন্টে খেতে যায়।

লেখক : কবি ও কলামিস্ট

"