সোনা চোরাচালান ঠেকাতে নীতিমালা প্রয়োজন

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

কোনোভাবেই সোনা চোরাচালান রোধ করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় সুযোগ নিচ্ছে চোরাচালান চক্র। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সোনা চোরাচালানের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থাপনা এখনো গড়ে ওঠেনি। যে কারণে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সোনা চোরাচালান রোধের বিষয়টি ।

দেশে প্রতি বছর সোনার চাহিদা প্রায় ২১ টন; কিন্তু গত ১০ বছরে এক তোলা সোনাও আমদানি করা হয়নি। ওই পরিমাণ সোনার মধ্যে সর্বোচ্চ শতকরা পাঁচ ভাগ এসেছে ব্যাগেজ রুলের আওতায়, বাকি ৯৫ শতাংশ কিভাবে আসছে, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিষয়টি কখনো খতিয়ে দেখা হয়নি;

সংবাদমাধ্যমে বনানী ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের সম্পৃক্ততা ও তার বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের তৎপরতার পর এসব বিষয় জানা যাচ্ছে। বলাবাহুল্য, অবৈধ পথে দেশে বিপুল পরিমাণ সোনা প্রবেশ করার ফলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রথমত, হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। সম্প্র্রতি এক হিসাবে দেখা গেছে, চোরাইপথে দেশে যে পরিমাণ সোনা ঢুকছে, সেগুলো বৈধপথে আমদানি করা হলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ হতো ৫১২ কোটি টাকা। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, দেশে যে পরিমাণ সোনা ঢুকছে, বাজার চাহিদা পূরণের পর তার একটি অংশ চলে যাচ্ছে ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয়। এসব অনিয়ম রোধসহ সোনা চোরাচালান বন্ধের উপায় প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতামত হচ্ছে, দেশে সোনার বাজারের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের জন্য মূলত দায়ী এ ব্যাপারে কোনো নীতিমালা না থাকা। গত ২৫ বছর ধরে নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলা হলেও, কার্যত কাজের কাজ হয়নি। যে কারণে সোনা আমদানিতে শুল্কহার অত্যন্ত বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বৈধ পথে সোনা আমদানি না করে ক্ষমতাধরদের একটি বিরাট অংশের যোগসাজশে অবৈধ পথে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করে যাচ্ছে। কিন্তু কথা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়টি নিয়ে নানা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সোনা আমদানির ব্যাপারে কোনো নীতিমালা কেন প্রণয়ন করা হয়নি, বিষয়টির দ্রুত সুরাহা প্রয়োজন। বিমানবন্দরে সোনা আটকেই এর অবৈধ চোরাচালান রোধ করা সম্ভব? এটা ভাবা সম্পূর্ণ অবান্তর। কারণ, বিমানবন্দরে আটককৃত সোনার পরিমাণের চেয়ে অগোচরে ঢুকে পড়ার পরিমাণ অনেক বেশি। অতএব জাতীয় স্বার্থকে কোনোভাইে জলাঞ্জলি দেওয়া যাবে না। সোনা আমদানির সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। এটি যত দ্রুত প্রণয়ন হবে, ততটাই লাভবান হবে দেশ। ইতোমধ্যে জব্দ করা সোনার নিলাম ডাকা এবং সোনা আমদানি সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। আমরা আশা করি, দ্রুত এসব অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান হবে। নানা অনিয়ম থেকে রক্ষা পাবেন বৈধ সোনা ব্যবসায়ীরা।

"