সম্ভাব্য খাদ্য সংকট রোধে সতর্ক থাকতে হবে

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন এবং গার্ডিয়ানের মতো নেতৃস্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রভাবশালী পত্রিকা মনে করছে, বিশ্ব এক তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশের বিপুল পরিমাণ খাদ্য উদ্বুদ্ধ রয়েছে, সেসব দেশও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘেœর কারণে এ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তাই যেকোনো সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতি বা খাদ্য সরবরাহজনিত সমস্যা এড়াতে আগাম সতর্ক থাকতে হবে।

এ বক্তব্যের সঙ্গে সম্ভবত বিশ্বে আজ দ্বিমত করার কেউ নেই। আমরা এক কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে সময় পার করছি। করোনাভাইরাস সভ্যতার সব প্রযুক্তি এবং মানব জাতির মেধাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে। আমরা এক কঠিন অসম যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছি। এ যুদ্ধে আমাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই। তবু যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা হারিয়েছি অসংখ্য প্রাণ। অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে অশুভ সঙ্কেত। প্রত্যেকেই বাঁচার প্রশ্নে নতুন পরিকল্পনাসহ হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশও সেভাবেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আর সেই অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক ভাগ্যবান। আমাদের কঠোর পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও শক্তিশালী এক কৃষক সমাজ রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কৃষকরা খাদ্য উৎপাদন কয়েক গুণ করেই চলেছেন তা নয় বরং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো ও একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়ে চলেছেন। অগ্রসর হয়েছেন গবাদিপশু খামারের দিকে। মৎস্যজাত পণ্যের মানও বাড়িয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করেছেন তাদের দক্ষতা। তিনি বলেন, দুনিয়ায় যাই ঘটুক না কেন সামনের দিনগুলোতে আমাদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা এ দেশের কৃষকের আছে। তবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতাসহ তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

আমরাও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, করোনার পরে সরকারকে বণ্টন ব্যবস্থা ধরে রাখতে হবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়ে হলেও খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আর কৃষকদের জন্য প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে। এটিই হবে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা মনে করি, প্রকৃত অর্থেই আমরা একটি কঠিন সময়কাল অতিক্রম করছি। বিশ্ব এক মহামন্দার দিকে এগিয়ে চলেছে। যার ধাক্কা আমাদের ওপরে এসেও পড়বে। আর সামলানোর দায়িত্বও নিতে হবে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষকে। এর জন্য আগাম প্রস্তুতির প্রয়োজন। সরকার এরই মধ্যে কিছু কিছু কর্মকান্ড শুরু করেছে। যা আগামীর জন্য সুভ সূচনা বলে ধরে নেওয়া যায়। তবে আগামীর সংকটকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। মোকাবিলাও সহজ নয়। তাই সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে। উৎপাদন ও বণ্টনের মাঝে একটি ইতিবাচক সমন্বয় ঘটাতে হবে। এই সমন্বয়ই হতে পারে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট রোধে অন্যতম হাতিয়ার।

 

"