দৃষ্টিপাত

কোভিডযুদ্ধে বিশ্বের নারীদের অগ্রণী ভূমিকা

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০

জান্নাতুন নিসা

মানবজীবনের প্রতিটি ক্রান্তিকালীন ভেসে এসেছে পীড়িত স্বপ্নের উন্মুক্ত গুঞ্জরনের অগ্নি স্রোতধারা। যে ধারায় পুড়ে মানুষের বিলাসী বোধ শানিত হয়েছে দীর্ঘ যুগের ছিন্ন ভাবনার গায়ে আঁচড় কেটে। একুশ শতকে এসে কোভিড-১৯-এর মরণ কামড় আমাদের বিশ্ব জীবনে যোগ করেছে ভয়াবহ এক দুর্যোগকালীন কিংবা বলা চলে যুদ্ধপূর্ণ সময়। করোনাযুদ্ধে আমরা পৃথিবীর মানুষ তো ঘরবন্দি থেকেছি। যে যার জায়গা থেকে যতটা পেরেছি সচেতনভাবে একসঙ্গে দূরে থাকতে চেষ্টা করেছি কিংবা এখনো চেষ্টা করছি। কিন্তু এই যে আমাদের বন্দি থাকা, তাতেই কিন্তু থেমে যায়নি কোভিড-১৯-এর ভয়াবহতা। এর জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন কিছু মানুষ। খুব সহজেই যাদের আমরা বলতে পারি করোনাযোদ্ধা। এই যোদ্ধাদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে একসঙ্গে পথ হাঁটছেন বিশ্বের নারী। সত্যিই আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার নারী কবিতায় যথার্থই বলেছেন, ‘বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর,/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’। কোভিডযুদ্ধে আমরা শুরু থেকেই দেখেছি নারীর অগ্রণী ভূমিকা; চিকিৎসাকর্মী বা ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, নমুনা সংগ্রহকারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, গবেষণাকর্মী বা বিজ্ঞানী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অর্থাৎ পুলিশ কিংবা সেনাসদস্য, সাংবাদিক বা মিডিয়াকর্মীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীযোদ্ধাদের রয়েছে অপরিসীম অবদান। শুধু তাই নয়, করোনা মোকাবিলায় নারী রাষ্ট্রনায়কদের পদক্ষেপও অনস্বীকার্য।

মূল্যায়ন কিংবা অবমূল্যায়নের পাল্লায় ভর করে নয়, সৃষ্টির চিরায়ত রূপেই আমরা ঘর থেকে শুরু করে পেশাগত বিভিন্ন খাত এমনকি সেবামূলক শত কাজে নারীর অংশগ্রহণ দেখেছি পুরুষের তুলনায় সহস্রগুণ বেশি। করোনাযুদ্ধে নারীবিজ্ঞানীরাও পুরুষের সঙ্গে বীরদর্পে কাজ করে চলেছেন। ভয়াল এবং ভাইরাসের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সংক্রমণশীল ভাইরাস এই করোনার খোঁজ প্রথম পেয়েছিলেন এক স্কটিশ নারীবিজ্ঞানী; যার নাম জুন আলমেইডা। এরপর বাংলাদেশের করোনার জিন রহস্য আবিষ্কার করে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে এই জিন রহস্য আবিষ্কারের গবেষণায় নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের কৃতী সন্তান অণুজীববিজ্ঞানী ড. সমীর কুমার সাহার কন্যা অণুজীববিজ্ঞানী ড. সেজুঁতি সাহা। ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের তত্ত্বাবধানে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের ১৫ জনের দলটিতেও রয়েছে নারীর সরব উপস্থিতি। চন্দ্রা দত্ত এবং সুমি বিশ্বাস নামে ভারতের বাঙালি দুজন নারীবিজ্ঞানীও রয়েছেন দলটিতে। করোনাযুদ্ধে প্রিন্টিং ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন। সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং আর ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। আর এই ঝুঁকিকেই আশীর্বাদ হিসেবে নিয়ে সেখানেও এগিয়ে রয়েছেন নারী সাংবাদিক এবং তাদের বীরত্বপূর্ণ উপস্থিতি। করোনা দুর্যোগে বাংলাদেশে সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অগ্রণী ভূমিকা ইতিমধ্যে সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। ঘর থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মানবিক পুলিশিং, র‌্যাব কিংবা সেনাদের গল্পও এখন সবার মুখে মুখে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নারী সদস্যগণ করোনাকালীন এই ক্রান্তিতে দুঃসাহসীরূপে আমাদের কাছে এসেছেন সেবার হাত বাড়িয়ে। করোনাকালীন সময়ে ত্রাণ প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন নারীনেত্রীগণ; সেই সঙ্গে মানবাধিকার, এনজিও, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতাকর্মীসহ অনেকেই। সেখানেও আমরা দেখেছি নারীদের অগ্রগামী অবস্থান। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও জেলা প্রশাসক, ম্যাজিস্ট্রেট থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কিংবা বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত অনেক নারী বিভিন্নভাবে করোনা মোকাবিলায় অদম্য সাহসিকতায় কাজ করে যাচ্ছেন।

অবাক হলেও সত্যি, সমগ্র বিশ্বের চিকিৎসা খাত যেন নারীর পরশ ছাড়া কিছুতেই পূর্ণতা পায় না! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসম্পর্কিত কাজগুলোতে নিয়োজিত লোকবলের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী। করোনাযুদ্ধে এই নারীরা তাদের ঘর ছেড়ে দিনের পর দিন হাসপাতালে পড়ে আছেন। চোখে তাদের স্বপ্ন একটিই, মহামারি কোভিডকে পরাস্ত করে সবাই যেন ঘরে ফিরতে পারে-আপনজনের হাত ধরে। আমরা দেখেছি, চীনের উহান শহরের হাসপাতালের সেবিকাদের অনেকে প্রাপ্তবয়স্ক এবং সক্ষমতা সত্ত্বেও মহামারি করোনার এই ভয়াবহতার সময়ে নিজেরা ডায়াপার পরেছেন, যেন বারবার টয়লেটে গিয়ে সময় নষ্ট করতে না হয়। শুধু তাই নয়, তারা জন্মনিরোধক ওষুধ সেবন করেছেন যেন পিরিয়ড কিছুদিন থেমে থাকে আর তারা মহামারির বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন। কেবল চীনে নয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়েই আমরা দেখেছি কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে হাসপাতালগুলোতে নারী চিকিৎসাকর্মীদের দৃপ্ত অবস্থান। চুল আঁচড়াতে সময় নষ্ট করা থেকে নিজেদের বিরত রাখতে অনেক ডাক্তার-সেবিকা তাদের চুল কেটে ফেলেছেন অকপটে। ইতালির সেবিকাদের আমরা দেখেছি তারা নির্ঘুম রাত পার করে সামান্য অবসর পেয়ে পরিবার-পরিজন ছেড়ে টেবিলে, টেবিলের নিচে, র‌্যাকের তাকে হাত-পা জড়ো করে ঘুমিয়ে নিচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে আমরা যখন হোম কোয়ারেন্টিনে, তখন চিকিৎসাকর্মীগণ নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববাসীকে।

প্রতিটি মহামারি আমাদের জীবনে রেখে যায় বিষাক্ত ছোবল। আর বিষমুক্ত পৃথিবীর প্রত্যাশায় বরাবরই আমরা দেখেছি নারীর সাহসী ভূমিকা। এই দুর্যোগকালীন সময়েও রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর শক্তিশালী ভূমিকা আমরা দেখেছি ইতিমধ্যেই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে স্বাধীনতার ৫০ বছরেই উন্নয়নের দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলা দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল জনগণনন্দিত নেতা হিসেবেই নয়, মানবতার মা হিসেবে বাংলাদেশের মতো ছোট্ট একটি দেশের প্রায় ১৭ কোটি জনগণকে নিয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডান বেশ কঠোরভাবে লকডাউন ঘোষণা দেন; যার সুফল আমরা দেখছি। এর মধ্যেই ইউরোপের বৃহত্তম করোনাভাইরাস পরীক্ষা কার্যক্রমের তদারকি করেছে জার্মান। প্রতি সপ্তাহে তারা প্রায় ৩৫ লাখ নমুনা পরীক্ষা করেছে; রোগীদের কার্যকরভাবে আলাদা করে অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অবাক হলেও সত্যি, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল তার দক্ষ রাষ্ট্রীয় পরিচালনার মাধ্যমে করোনার বিস্তার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। আমরা যদি তাইওয়ানের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোর দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, তার সরকার করোনভাইরাসকে এত সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে যে তারা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যদের সহায়তার জন্য মাস্কও রফতানি করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ডব্লিউএইচওর বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদে তাইওয়ানকে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশটির করোনভাইরাস সাফল্যের কথা উল্লেখ করে।

করোনা আমাদের বিশ্বজীবনকে পরিবর্তনের হাওয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মনে করিয়ে দিচ্ছে এই পৃথিবী কেবল মানুষের একার নয়; গাছেদের, ফুলেদের, পাখিদেরÑ সবার এই পৃথিবী। আমরা নর্ডিক দেশগুলোর (উত্তর ইউরোপ ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত অঞ্চল; যেখানে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেন এই পাঁচটি দেশ অন্তর্ভুক্ত) দিকে তাকালে দেখতে পাই, পাঁচটি দেশের চারটির নেতৃত্বেই নারী। পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত কেবলমাত্র সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোফভেনের সিদ্ধান্তানুযায়ী লকডাউন চাপিয়ে না দেওয়ায় এবং স্কুল ও ব্যবসা-বাণিজ্য উন্মুক্ত রাখায় দেশটিতে মৃত্যুর হার ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। অথচ নর্ডিক দেশের বাকি চারটির প্রত্যেকটিতে ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় করোনভাইরাসে মৃত্যুর হার কম। আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্যাটরিন জ্যাকোবসদ্দিয়ার করোনা সংক্রমণের শুরুতেই আক্রমণাত্মকভাবে যোগাযোগ-সন্ধান এবং সন্দেহভাজন করোনভাইরাস আক্রান্তকারীকে পৃথকীকরণে হস্তক্ষেপ করেন। বিশ্বের কনিষ্ঠ সরকারপ্রধান, ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, ৩৪ বছর বয়সী সানা ম্যারিন মহামারি প্রতিরোধে বর্তমান সময় পর্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রেখেছেন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেত্তে ফ্রেদারিকসেন মার্চের ১৩ তারিখেই সীমান্ত বন্ধ করার ঘোষণা দেন। এর কিছু দিনের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধের ঘোষণা দেন। জনগনকে ঘরে রাখতে নিজের বাসন মাজার ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। জনগনকে পাশে নিয়ে এখন পর্যন্ত সফলভাবেই এগিয়েছেন তিনি। বলিভিয়ার নেতৃত্ব দেওয়া জেনাইন অ্যানেজ করোনা সংক্রমণের শুরুতেই লকডাউন ঘোষণা করেন। সালোমেজ জওরাবিচভিলির নেতৃত্বে এগিয়ে চলা জর্জিয়া; ইউরোপের প্রথম দেশগুলোর একটি, যারা করোনা মোকাবিলায় প্রথম কার্যকর ব্যবস্থা নেয়। নেপালের বিদ্যা দেবী বান্দ্রে তার দেশের করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা তহবিলে নিজের দুই মাসের বেতন পর্যন্ত দিয়ে দেন। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত করোনার লাগাম টেনে ধরতে পারা দেশ এবং তার নেতৃত্বে রয়েছেন ইথিওপিয়ার সাহলে-ওর্ক জেওডে, হংকংয়ের ক্যারি লাম, নামিবিয়ার সারা কুগংগেলোয়া, সিঙ্গাপুরের হালিমাহ ইয়াকুব।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব আর বিবেকবানসম্পন্ন মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে আমরা মিথ্যা, অন্যায়, খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, পরিবেশ দূষণসহ এত বেশি অন্যায় করেছি যে, পৃথিবীর কাছে আমাদের মুখ দেখানোর যোগ্যতা হারিয়েছি। তাইতো আজ প্রকৃতি আমাদের লাগাম টেনে ধরেছে। মাস্ক পরার নামে দাম্ভিকতাপূর্ণ বুলি আওড়ানোকে করেছে বিপর্যস্ত। বারবার হাত ধোয়ার নামে হাতে পরিয়েছে হাতকড়া। লোক দেখানো সবকিছু বন্ধ করেছে ঘরবন্দি জীবনে। আত্মকেন্দ্রিকতাকে কুপোকাত করেছে সামাজিক দায়বদ্ধতার নাগপাশে। দেখিয়ে চলেছে নিয়মের ঐন্দ্রজালিক ভুবনের ক্ষমতা। আর সেই ক্ষমতার রাশভারী গর্জনে মুখ থুবড়ে থাকার তো নয়-ই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, মানুষ। বরং শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে যুদ্ধ করেছে জীবনবাজি রেখেই। করোনাকালীন এই দুর্যোগেও মানুষ থেমে নেই, যুদ্ধ করে চলেছে তারা; নারী কিংবা পুরুষের ভেদাভেদ না রেখেই। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘আমি চিত্রাঙ্গদা, রাজেন্দ্রনন্দিনী।/নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী/পূজা করি মোরে রাখিবে ঊর্ধ্বে/সে নহি নহি,/হেলা করি মোরে রাখিবে পিছে/সে নহি নহি’। তাইতো বিজয় কেতন উড়িয়ে করোনা মোকাবিলায় নারীযোদ্ধাগণ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নারী মানেই মমতা মাখানো জীবনের পরশ, নারী মানেই ভালোবাসা, নারী মানেই উড়ন্ত মেঘের বুকে জেগে থাকা স্বপ্নিল প্রার্থনা!

লেখক : কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও নারীনেত্রী

[email protected]

 

"