ডেঙ্গু প্রতিরোধে সফলতা কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

চারপাশে কেবল ব্যর্থতার সংবাদ। একটি সুসংবাদের প্রত্যাশায় আমরা যেন চাতক পাখির মতো এক ফোঁটা জলের অপেক্ষায় আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। এক ফোঁটা পানি পাওয়ার পর চাতকের মনটা যেন আনন্দে নেচে ওঠে। ঠিক একইভাবে অনেক খারাপ খবরের মাঝে একটি ভালো খবর নতুন করে স্বপ্ন দেখার প্রেরণা জোগায়। সে রকম একটি সংবাদ ‘শূন্যের কোঠায় ডেঙ্গু রোগী’। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, রাজধানীসহ সারা দেশে এডিসবাহিত রোগ বা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেক নিয়ন্ত্রণে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এখন নেই বললেই চলে। তথ্যমতে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো মশা নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৬ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম (চিরুনি অভিযান) পরিচালনা করে। এ ছাড়া ২০ জুন থেকে সপ্তাহব্যাপী হাসপাতালগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করে। থেমে ছিল না ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও। প্রতিদিনই মশক নিধন কার্যক্রমসহ জলাশয় পরিষ্কার এবং জলাশয়গুলোতে হাঁস ও মাছ ছেড়েছে সংস্থাটি। সূত্রমতে, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ৬ জুন থেকে ১০ দিনব্যাপী একযোগে ৫৪ ওয়ার্ডে চালানো হয় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা চিরুনি অভিযান। এ সময় বিভিন্ন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের ২৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে একই অপরাধে কেউ অভিযুক্ত হলে আরো কঠোর শাস্তি এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডিএনসিসি। এই ১০ দিনে ডিএনসিসির ৫৪ ওয়ার্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৩৫টি বাড়ি, স্থাপনা ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে ১ হাজার ৬০১টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৮৯ হাজার ৬২৬টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ কার্যক্রম দেশে যে উদাহরণ তৈরি করল, নিঃসন্দেহে তা প্রশংসার দাবি রাখে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিষয়টি হলো, সততা এবং আন্তরিকতার কোনো বিকল্প নেই। এটি একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে বলেই আমরা মনে করি। একই সঙ্গে আমরা সব মন্ত্রণালয়কে এই উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানাই।

আমরা এখন একটি দুর্যোগপূর্ণ কাল অতিক্রম করছি। করোনার আগ্রাসনে আমরা বিপর্যস্ত। সরকারের নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় দুর্যোগ মোকাবিলায় সাধ্যমতো চেষ্টা করছে বলে দাবি করছেন। কিন্তু করোনার দাপট কমছে না। বরং তা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে মনে হয় আরো বেশি আন্তরিক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যদি সততার কোনো ঘাটতি থাকে, তা পূরণ করে এগিয়ে যেতে পারলে এখানেও সফলতা আসবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারের দেয় প্রেসক্রিপশনকে অনুসরণ করে; সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিয়েছে। পরিশেষে বলব, সততা এবং আন্তরিকতা ছাড়া কোনো কঠিন বাধা অতিক্রম করা সম্ভব নয়। সততা এবং আন্তরিকতাই হচ্ছে যেকোনো বাধা অতিক্রমের মূল চাবিকাঠি।

 

"

সর্বাধিক পঠিত