সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার দায়িত্ব সবার

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। গত শুক্রবার ৯০তম দিনে এসে এই রোগে সংক্রমিত শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় ঢুকে গেল বাংলাদেশের নাম। দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার। সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা এখন চরম পর্যায়ে চলছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞ মহল থেকে শুরু করে সবাই বলছেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাই এ রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান অনুসঙ্গ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই অনুসঙ্গকে কেউই মেনে চলছেন না। গণপরিবহন, শপিং মল, বাজারঘাট কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। বাস-মিনিবাসে যত সিট তার অর্ধেক যাত্রী নেবে বলে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবু কমানো যায়নি সামাজিক দূরত্ব।

গত ১ জুন থেকে রাজধানীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচলের নির্দেশনা দেয়। কিন্তু সে নির্দেশের পাশ দিয়েও যায়নি এ দেশের মানুষ। এদিকে গণপরিবহনে বাস ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকরা সরকারি সে নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করছেন না। তারা বলছেন, যাত্রীরা জোর করেই গাড়িতে উঠছেন। তাদের এই বক্তব্য সঠিক নয়। কেননা, ইতোপূর্বে আমরা দেখেছি, গণপরিবহন শ্রমিকদের দৌরাত্ম্যের কাছে সব সময়ই পরাজিত হয়েছে সাধারণ মানুষ। তারা যদি প্রকৃত অর্থেই মনে করত সরকারের এ নির্দেশনা তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে; তখন কারো তা উপেক্ষা করার উপায় থাকে না। তবে বাস্তবতা বলছে, গণপরিবহনের মালিক-শ্রমিকদের কাছে সরকারের নির্দেশনা সব সময়ই উপেক্ষিত হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীরাও নির্দেশনা মানতে নারাজ। মহাদুর্যোগকালীন এ সময়েও তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে আগ্রহী নন। আগ্রহী হলে মালিক-শ্রমিকদের একচেটিয়া সন্ত্রাস বাণিজ্য কিছুটা হলেও পিছু হটতে বাধ্য হতো। সরকারও এই সন্ত্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে পারেনিÑ এ কথাও সত্য।

এখানে সুষ্ঠু কোনো নিয়মনীতিও নেই। আবার কাগজে-কলমে যেটুকু আছে, তাও অনুশীলনের আওতায় আসেনি। বিশেষ করে সিটি সার্ভিসের কোনো টিকিট সিস্টেম নেই। বাসের মধ্যেই নগদে ভাড়া আদায় করা হয়। তাই যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। মালিক-শ্রমিকরাও টিকিট সিস্টেম চালুর ব্যবস্থা রাখাকে কখনোই পছন্দ করেনি। এখন তো প্রশ্নই ওঠে না। অনেকের মতে, মালিকরা আসলে করোনাকে বাস ভাড়া বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে, কী থাকবে না, সে ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তাদের না থাকলেও চলবে। কিন্তু সাধারণ যাত্রীদের! তাদের মাথাব্যথা না থাকলে করোনাকে দাওয়াত করে বাসায় নিয়ে যাওয়ার শামিল হবে। গোটা পরিবারকে একটি বিপজ্জনক অবস্থায় ঠেলে দেওয়ার শামিল হবে; যা আমরা সভ্য নাগরিক হিসেবে কখনোই করতে পারি না। রাস্তায় চলার সময় একটু সচেতন হয়ে গণপরিবহনের ভেতরের অবস্থা দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবেÑ পরিবহনে উঠব, কী উঠব না।

শুধু গণপরিবহনেই নয়, সর্বত্র একই চিত্র। আর সমাজ থেকে এ চিত্র সরাতে না পারলে নিকট ভবিষ্যতে আমাদের এক ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। সুতরাং সাধারণ মানুষ অর্থাৎ আমরা নিজেকে এবং নিজ পরিবারের রক্ষার স্বার্থে সচেতনতার সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুশীলনে এগিয়ে যাই।

 

"