পর্যালোচনা

ফ্লয়েড হত্যায় উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২০, ০০:০০

জি. কে. সাদিক

গত ২৫ মে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার মিনেসোটায় পুলিশের নিশংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারায় জর্জ ফ্লয়েড নামে ৪৬ বছর বয়সি এক আফ্রো-আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ। শ্বাসরোধ করে ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও ফুটেজ সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই নিয়ে মিনেসোটায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। এমন বর্ণবাদী নিশংসতার বিরুদ্ধে মাঠে নামে কৃষ্ণাঙ্গরা। তারা এই বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণের পরিবর্তন দাবিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করে রাস্তায় নামে। ক্রমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠে। পুলিশ কর্তৃক বলপ্রয়োগ করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা থেকে প্রতিবাদ ক্রমে সহিংস রূপ ধারণ করে। সহিংস প্রতিবাদকারীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়, দোকানপাঠ ও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেয় এবং লুটপাট শুরু করে। নিশংস এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদের উত্তাপে স্বল্প সময়েই গোটা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি টালমাটাল হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদের আগুন আছড়ে পরেছে ক্ষুদ হোয়াইট হাউসে। দেশটির ৪০টি অঙ্গরাজ্যে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ১৫টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের ৫ হাজার সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে। এতো কিছুর পরও বিক্ষোভ থামছে না।

ফ্লয়েড হত্যা থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ এখন কেবল বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী আন্দোলন বা হত্যার বিচার দাবি আন্দোলনে থেমে নেই। এই আন্দোলন হয়ে উঠেছে ব্যবস্থা পরিবর্তনের আন্দোলন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য হচ্ছে, ‘বহু বছর ধরে এ পরিস্থিতি চলছে। কোনো কিছুই বদলায়নি। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে কিছু হবে না। সাধারণ মানুষের জন্য এ অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা পরিবর্তন চাই। এভাবে আর চলতে পারে না। আমরাও মানুষ, আমাদেরও বাঁচার অধিকার আছে।’ মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য হিল’এ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই এমন কথাই বলছেন। প্রতিবাদকারী কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আর্থিক মন্দার প্রভাবে বিপর্যস্ত মধ্যবিত্ত শ্বেতাঙ্গরাও। বিশেষ করে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির কারণে যেসব মার্কিনি নানাভাবে বিপর্যস্ত, বেকার ও হতাশায় ভোগছেন তারাও এই আন্দোলনের স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়াও চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়েছে সঙ্গী হয় বামপন্থী, অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট উগ্র ও সহিংস অ্যান্টিফাসহ বিভিন্নগোষ্ঠী। আন্দোলনকারীদের দমাতে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট মারা হচ্ছে। ৪,১০০ জন আন্দোলনকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটের শিকার হয়েছেন ডজনখানেক সাংবাদিক। অনেক সাংবাদিক পুলিশের নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন।

ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদ কেবল মার্কিন দেশেই সীমাবদ্ধ নেই। বিক্ষোভ শুরু হয়েছে জার্মিনি, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিলেও। ৩১ মে জার্মানিতে রাজধানী বার্লিনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমাবেত হয়। একই দিনে কানাডার ভ্যানকুভার ও টরটোন্টাতে ফ্লয়েড হত্যার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। বর্তমানে করোনাভাইরাসের পরই মার্কিন মুলুকে ও গোটা বিশ্বে ‘টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হচ্ছে ফ্লয়েড হত্যাকান্ড। পুলিশ কর্তৃক কেবল একজন ফ্লয়েড হত্যার জন্যই দাবানলের মতো বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিষয়টা এমন নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনে বর্ণবাদী আচরণ, বৈষম্য ও দারিদ্র্যতা। জনসংখ্যার একটা অংশের পিছিয়ে পরার ক্ষোভ। যার ফলে বিক্ষোভ এতো সহিংস হয়ে উঠেছে এবং বিক্ষোভকারীরা গোটা ব্যবস্থারই পরিবর্তন চাচ্ছে। চলমান বিক্ষোভের তোর দেখে বিশ্লেষকগণ বলছেন, ১৯৬৮ সালে মার্টিন লুথার কিং হত্যাকান্ডের পর সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভ এটি। এই সহিংস বিক্ষোভের পিছনে কাজ করছে দীর্ঘদিনের বর্ণবাদী আচরণ, জাতিবিদ্বেষ ও আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক বৈষম্য। শ্বেতাঙ্গ কর্তৃক কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা সম্ভার।

ফ্লয়েড হত্যাকান্ডের পর আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার এক ভয়াবহ চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট ‘ম্যাপিং পুলিশ ভায়োলেন্স’ নামে এক বেসরকারি সংস্থার বরাদ দিয়ে এক প্রতিবেদনে বলছে, ২০১৩ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার মার্কিনকে হত্যা করেছে পুলিশ। পুলিশের গুলিতে নিহতদের মধ্যে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় তিন গুণ বেশি মারা গেছে কৃষ্ণাঙ্গরা। নিহতের অধিকাংশই নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ। জরিপের মতে, প্রতি সপ্তাহে ২৫ মার্কিনিকে হত্যা করেছে পুলিশ। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, কেবল ২০১৯ সালেই আমেরিকায় পুলিশের গুলিতে ১০১৪ জন মারা গেছে। গুলিতে নিহতদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানরাই বেশি। এ ছাড়াও তুচ্ছ বিষয়ে আরো কিছু নিশংস হত্যাকান্ডের জমানো ক্ষোভের প্রকাশ চলমান বিক্ষোভে দেখা যাচ্ছে। ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ট্রেইভন মার্টিন নামে ১৭ বছর বয়সি এক কৃষ্ণাঙ্গকে ফ্লোরিডার স্যানফোর্ডে জর্জ জিমারম্যান নামে এক শ্বেতাঙ্গ গুলি করে হত্যা করে। হত্যাকারীর দাবি ছিল সে আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালায়। আর আমেরিকান আইনে আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানো আইন সিদ্ধ বলে জুরি ২০১৩ সালে জিমারম্যানকে নির্দোষ ঘোষণা করে। ট্রেইভন হত্যার এমন বৈষম্যমূলক বিচারিক রায়ের পর ‘কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও মূল্যবান’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠে। ফ্লয়েড হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের মুখেও এই সেøাগানটি বেশি শোনা যাচ্ছে। ২০১৪ সালের ৯ আগস্টে মিসৌরির ফার্গুসনে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ড্যারেন উইলসনের গুলিতে প্রাণ হারায় মাইকেল ব্রাউন নামে ১৮ বছর বয়সি এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ। বাদানুবাদের জেরে ওই পুলিশ অফিসার ব্রাউনকে গুলি করে। এই ঘটনার পর ‘কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও মূল্যবান’ আন্দোলনটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাড়া ফেলে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সহিংস বিক্ষোভে একজন মারা যায়, কয়েকশ আহত হয় এবং অসংখ্য আন্দোলনকারী গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হয়। ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিলে আমেরিকার দক্ষিণ ক্যারোলাইনার নর্থ চার্লসটনের ওয়াল্টার স্কট নামের ৫০ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গকে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার মাইকেল সø্যাগার পিঠে তিনটি গুলি করে হত্যা করে। ২০১৭ সালে বিচার ওই অফিসারের বিশ বছরের কারাদ- হয় এবং স্কটের পরিবারকে ৬৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয় নর্থ চার্লসটন কর্তৃপক্ষ। একইভাবে ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিলে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে পুলিশের নিপীড়নে কারাগারে আত্মহত্যা করে সান্ড্রা ব্ল্যান্ড নামে ২৮ বছরের এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী। এর প্রতিবাদে ‘#সেহারনেম’ নামে আরেকটি সামাজিক আন্দোল গড়ে তোলার মাধ্যমে মার্কিন পুলিশের কাছে কীভাবে কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সে চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়। ডালাসের ফোর্থ ওয়ার্থে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার অ্যারন ডিন আতাতিয়ানা জেফারসন নামে ২৮ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে শোবার ঘরের জানালা দিয়ে ৮ বার গুলি করে হত্যা করে। ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখনো তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। লুইভিলের কেন্টাকিতে ১৩ মার্চ ২০২০ সালে ব্রেওনা টেলর নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ চিকিৎসা বিষয়ক প্রকৌশলীকে স্বীয় ফ্ল্যাটে ঢুকে পুলিশ কর্তৃক আতাতিয়ানার মতো আটবার গুলি করে হত্যা করা হয়। তারা মূলত ওই বাসায় মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়েছিল। কিন্তু কোনো মাদক সেখানে পাওয়া যায়নি। ফ্লয়েড হত্যার মতোই পুলিশ কর্তৃক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার আরেক নিশংস ঘটনা ঘটে নিউইয়ার্কে ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই মাসে। ওই সময়ও পুলিশ এরিক গার্নারকে খুচরা সিগারেট অবৈধভাবে বিক্রি করছে বলে সন্দেহে করে গ্রেফতার করার পর গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। অন্তিম মুহূর্তে গার্নার বারবার কান্নাজড়িত গলায় আকুতি করেছিল, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না’। অন্তিম মুহূর্তে জর্জ ফ্লয়েড যেমন বলেছিল। চলমান বিক্ষোভে ফ্লয়েডের শেষ বাক্য ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না’ সেøাগানে পরিণত হয়েছে। এই সেøাগান গোটা মার্কিন মূলুকে বর্ণবাদ, বৈষম্য ও দারিদ্র্যে কশাঘাত থেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবার মূলমন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ঠিক এমন কথাই বলছেন বিশ্লেষকগণ।

বিশ্লেষকগণ মার্কিন মুলুকে চলমান বিক্ষোভকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের চূড়ান্ত স্ফুরণ বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক করনেল ওয়েস্ট বলেন, ‘পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানুষের মৌলিক প্রয়োজন, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা, সম্পদ ও সম্মান ভাগাভাগি করতে হলে অহিংস বিপ্লব বেছে নিতে হবে। না হয়, এমন সহিংসতার আরো বিস্ফোরণ দেখতে হবে।’ সহিংসতা নিরসনে অধ্যাপক ওয়েস্ট বাস্তবভিত্তিক প্রতিষ্ঠানিক সাম্যের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন। একই স্বরে কথা বলেছেন কিলি ইউনিভার্সিটির ক্রাউড বিহ্যাভিয়ার অ্যান্ড পাবলিক অর্ডার পোলিশিং বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ক্লিফর্ড স্টট। তিনি বলছেন, ‘ফ্লয়েড হত্যার মতো জঘন্য ঘটনাটি তৈরি করেছে পুলিশ। কারণ পুলিশ ও কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কের যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সেটাই এখানে স্পষ্ট হয়েছে। যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য আছে সেখানে এ রকম সংঘাত অনেকটাই অবশ্যম্ভাবী।’

চলমান সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের অভিঘাত মার্কিন মূলুকের বর্ণবাদী ও বৈষম্যের সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন হিসেবে আখ্যা পেয়েছে। অতীতেও এমন আন্দোলন হয়েছে কিন্তু বর্ণবাদ ও বৈষম্যে অবসান হয়নি। এবারের আন্দোলনের ফলে তেমন কোনো পরিবর্তন হবে কি না, সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিক্ষোভের জন্য গণমাধ্যমের উসকানি, ডেমোক্র্যাট দলীয় জনপ্রতিনিধি এবং অ্যান্টিফাকে দায়ী করছেন। ইতোমধ্যে অ্যান্টিফাকে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আখ্যা দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে টুইটার পোস্ট করেছেন। বলা হচ্ছে চলমান আন্দোলনে পুলিশের মারমুখী অবস্থানের পেছনেও রয়েছে ট্রাম্পের ইন্ধন। এর আগে লুটপাট শুরু হলে গুলি চালানো, জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা ও সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকগণ বলছেন, ট্রাম্পের এসব বক্তব্য আগুনে ঘি ঢালারা কাজ করেছে। কারণ এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টে কাছে জাতি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনামূলক ও দায়িত্বশীল বক্তব্যই আশা করেছিলেন। কিন্তু তিনি সেটা না করে চিরাচারিত বর্ণবাদী আচরণই করছেন। ফলে এই আন্দোলনে পরিবর্তনের যে সেøাগান উঠেছে সেটা হালে কতটা পানি পাবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

[email protected]

 

"