মানব পাচারকারীর শাস্তি আজ সময়ের দাবি

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

মো. কামাল উদ্দিন। হাজি কামাল নামেই তিনি পরিচিত। পেশায় একজন টাইলস ব্যবসায়ী। তবে এই পেশা তার আসল পেশা নয়। এই পেশাকে তিনি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এর অন্তরালে করেছেন সমাজবিরোধী মানব পাচারের মতো জঘন্য অনৈতিক বাণিজ্য। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি চালিয়ে এসেছেন এই ব্যবসা। প্রলোভনের ফাঁদ পেতে গত ১০ বছরে তিনি লিবিয়ায় ৪০০ বাংলাদেশিকে পাচার করেছেন। শুধু লিবিয়ায় নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও অবৈধ প্রক্রিয়ায় মানব পাচার ছিল তার বাণিজ্যের অংশ। অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠানোর সময় সম্প্রতি লিবিয়ার মিজদাহ শহরে গত ২৮ মে নৃশংসভাবে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় ১১ বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে আহত হন। অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর এ ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৩ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে হাজি কামালের নাম। গত সোমবার র্যাব-৩-এর একটি দল গুলশান থানাধীন শাহজাদপুরের বরইতলা বাজার খিলবাড়িরটেক এলাকা থেকে হাজি কামালকে গ্রেফতার করা হয়। তথ্যমতে, বর্বরোচিত ওই হত্যাকান্ডের ঘটনার মূল উদ্ঘাটন করতে গিয়ে মানব পাচারে জড়িত চক্রটির অন্যতম হোতা হাজি কামালের নাম বেরিয়ে আসে এবং র্যাব তাকে গ্রেফতার করে।

এত কম সময়ের মধ্যে চক্রের সন্ধান এবং মূল অপরাধীকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে পারার বিষয়টি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচারের প্রত্যাশা করতেই পারি। পৃথিবীতে অবৈধ ব্যবসা যে নেই, তা নয়। তবে এ ধরনের নৃশংসতার মধ্য দিয়ে চলমান কোনো বাণিজ্যকে আমরা অনুমোদন দিতে পারি না। কোনো রাষ্ট্র, সমাজ বা ব্যক্তি কখনোই তার অনুমোদন দেয়নি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচিত ঘটনার মূল উদ্ঘাটন করতে গিয়ে যে তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তা সত্যিই হৃদয়বিদারক। অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের জন্য বিভিন্ন দালালচক্র ইউরোপের উন্নত জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিনিয়ত অসহায় বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে নৌপথ ও দুর্গম মরুপথ ব্যবহার করে। অভিবাসী প্রত্যাসীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পথিমধ্যে চক্রটি দফায় দফায় তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে তা আদায় করেছে। মুক্তিপণ দিতে না পারলে তাদের ওপর চালানো হয়েছে নির্যাতন। এ রকম একটি ঘটনার ফলে ঘটে গেল এই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। সভ্যতার মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে এই অমার্জিত বর্বরতাকে মেনে নেওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। বিশ্ববিবেকও এর বিপক্ষে।

তথ্য মতে, লিবিয়ায় মানব পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি চক্রের সরাসরি যোগসাজশ থাকে লিবিয়ায় বসবাসকারী চক্রের সঙ্গে। অবৈধ অভিবাসীরা পথিমধ্যে তিন থেকে চার দফায় কেনাবেচার শিকার হন। পথিমধ্যে এদের জন্য নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবু ছুটছে মানুষ। ছুটছে সোনার হরিণ ধরার অদম্য ইচ্ছায়। সম্ভবত এ ইচ্ছার কোনো শেষ নেই। বিশ্বের সর্বত্রই চলছে এর প্রতিযোগিতা। তবে কমিয়ে আনা সম্ভব। দেশের অভ্যন্তরে তড়িৎ গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে র্যাব যে উদাহরণ তৈরি করেছেÑ এ রকম উদাহরণ আরো তৈরি হতে হবে। পাশাপাশি সুষ্ঠু বিচারের মধ্য দিয়ে অপরাধীর শাস্তিকে নিশ্চিত করে একই ধরনের উদাহরণ তৈরি করতে হবেÑ এটাই প্রত্যাশা।

 

 

"