দুর্যোগেও দেশবাসীকে স্বস্তি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

ফল প্রকাশের পর সাফল্যের আনন্দে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ হিল্লোল বয়ে যেত। নেচে-গেয়ে মাতিয়ে তুলত শিক্ষাঙ্গন। দোকানে দোকানে মিষ্টি কেনার ধুম পড়ে যেত। সংবাদমাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হাসিমাখা মুখের সেই চিরাচরিত দৃশ্য এবার আমরা দেখিনি। তার পরও করোনাকালীন দুর্যোগে দেশবাসীর মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। ঘরবন্দি এই কিশোর-কিশোরীদের হৃদয়ে বয়ে গেছে অনাবিল আনন্দধারা। এবার পাসের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি সর্বোচ্চ ফল জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে গত পাঁচ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে শিক্ষার্থীরা। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। কিন্তু ঘরে ঘরে আনন্দের কমতি ছিল না। এ ছাড়া এবারকার এসএসসির ফল নিয়ে নিজেও সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত রোববার চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার পাসের গড় হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন। গত বছর এই জিপিএ ৫ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। ফলে এবার পাসের হার ও জিপিএ ৫ দুটোই বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের এই আনন্দ আর উচ্ছ্বাস দোলা দিয়ে গেছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মনেও। ফল বিশ্নেষণে দেখা গেছে, এবার পাঁচটি কারণে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করেছে। এগুলো হলোÑ ছয়টি বিষয়ে ৯০ শতাংশের ওপরে নম্বর পাওয়া, চারটি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বেড়ে যাওয়া, সারা দেশের মানবিক শিক্ষার্থীদের ২ শতাংশ পাসের হার বৃদ্ধি পাওয়া ও প্রশ্নপত্র অন্যান্য বছরের তুলনায় সহজ হওয়া। প্রকাশিত ফলের তথ্যে দেখা গেছে, গণিত ও ইংরেজির মতো কঠিন বিষয় ছাড়াও বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও আইসিটি বিষয়ে এবারের শিক্ষার্থীরা ৯০ শতাংশ পাস করেছে। গতবারের চেয়ে এবার অন্তত চারটি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে। এগুলো হলোÑ ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট শিক্ষা বোর্ড। প্রতি বছর পিছিয়ে থাকা মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা এবার এগিয়ে আসায় তাদের পাসের হার গতবারের চেয়ে ২ শতাংশ বেড়েছে। তবে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির উল্লম্ফন ভালো চোখে দেখছেন না শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, প্রতি বছর জিপিএ ৫ এক লাখ পাঁচ থেকে এক লাখ ১০ হাজারের মধ্যে ওঠানামা করত। এবার এক লাফে তা ৩০ হাজার বেড়েছে। তবে এত সাফল্যের পরও ১০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি।

করোনার কারণে এবার ডিজিটালি ফল প্রকাশিত হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের কোনো চিত্র দেখা যায়নি। ঘরে বসে মুঠোফোনেই সবাই ফল সংগ্রহ করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রস্তুতি ও মেধা অনুযায়ী ফল অর্জন করছে। কিন্তু জিপিএ ৫ না পেলে যে জীবন নষ্ট হয়ে যাবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়, এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়িত্ব তাদের সন্তানদের উৎসাহিত করা। জীবনের সর্বক্ষেত্রেই সাফল্য-ব্যর্থতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে যারা সাফল্য অর্জন করেছে তাদের জন্য রইল অভিনন্দন। আর যারা আশানুরূপ ফল করতে পারেনি হতোদ্যম না হয়ে তাদের উচিত ভালো ফলের চেষ্টা অব্যাহত রাখা আর এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

"