বিশ্লেষণ

করোনাভাইরাস জয়-সভ্যতার জয়

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২০, ০০:০০

শতদল বড়–য়া

প্রকৃতির রূপ বদলানো শেষ হচ্ছে না। আদৌ শেষ হবে কিনা তা-ও বলা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়বে। করোনাভাইরাস যেহারে বিস্তার করছে তা থেকে কে কাকে বাঁচাবে? আধুনিক এই ডিজিটাল যুগে মানুষ বেঁচে থাকার জন্যে নানা প্রাণন্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ-বিদেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, চিন্তাবিদসহ উচ্চমার্গের ব্যক্তিরা নব নব আবিষ্কারের পাশাপাশি বর্তমান সময়ের এই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সময়ে সময়ে আশার বাণী শোনা গেলেও নিরাশেরও কিছু কিছু সংবাদ পাচ্ছে বিশ্ববাসী। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের প্রতিষেধক উদ্ভাবন চলমান। এ বছরের শেষ দিকে কোনো না কোনো সুফল পাবে বিশ্ববাসী। বিজ্ঞমহলেরও একই অভিমত। এখন কথা হলো- মাঝখানে যেই সময় বয়ে যাচ্ছে, এই সময়টুকুতে আমাদের অবস্থা কি হবে আমরা কেউ জানি না।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশের কর্ণধাররা নিজ নিজ রাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণের পাশাপাশি অন্যান্য রাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের কথাও ভাবছেন। এখন কথা হলো এই ভাবার গতিবেগ কত সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের ওপর দিয়ে আম্পান নামক যেই ঘূর্ণিঝড়টি তা-ব চালাল তা সবাই অবগত। এর আলোকে বলতে চাই গতিবেগের কথা। আম্পানের শুরুর গতিবেগ এবং শেষের গতিবেগ বিষয় চিন্তা করলে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশ-ভারতের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হলো। মারা গেলেন অনেকে। কত যন্ত্রণা সইব আমরা! বাইরের রাষ্ট্রের গতিবেগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হলেও আমাদেরও কিছু নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। যার উৎকৃষ্ট প্রমাণ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সব সমস্যা মোকাবিলায় এগিয়ে যাচ্ছেন। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সময়মতো সিদ্ধান্ত তিনি আমাদের দিয়েছেন বিধায় করোনাভাইরাসের গতিবেগ দ্রুত কমে আসবে বলে আশা করছি। বাংলাদেশে প্রথমে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাস তা-ব চালাল। সেখানে আক্রান্তের হার দ্রুত বাড়িয়ে দিয়ে গতিবেগ অন্য দিকে বাড়িয়ে দিল। আসল কোথায় চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামে তা-ব চালানো অব্যাহত রাখলেও চট্টগ্রামবাসীরা এটিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বিজ্ঞমহলের বক্তব্য- গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। শেষের মারটা চট্টগ্রামবাসীরাই মারবে। কারণ চট্টগ্রাম হলো বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি। এই পুণ্যভূমিতে অরাজকতা বেশি দিন চলতে পারে না। করোনার বিনাশের জন্য আমাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। তাহলো সচেতনতা। আমরা সচেতন না হলে কারোই কিছু করার থাকবে না। আমাদের শক্তি এবং জোর হলো- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তো অহোরাত্র আমাদের কল্যাণে ব্যস্ত রয়েছেন। প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশের জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

সরকারি সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না। ক্রমান্বয়ে সবকিছু শীতল করে দেওয়া হবে। গণপরিবহন,রেল, বিমান, লঞ্চ সবকিছু প্রথমে সীমিত আকারে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অফিস-ব্যাংকও চলবে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক। গার্মেন্টস শিল্পও সচল হচ্ছে। সরকার প্রধান যা যা সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন তা সবগুলো জনকল্যাণমুখী। এখন কথা হলো-দেশে যে করোনাভাইরাসের তা-ব চলছে তা কীভাবে প্রতিহত করা হবে। সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ডেঙ্গু নামক আরেক মরণব্যাধি। বিগত কয়েক মাস ধরে সরকারিভাবে আমাদের এই দিক-নির্দেশনা দিচ্ছে, এখনো নানা দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। এর থেকে আমরা কি শিখলাম। এখন সাধারণ জনগণের সামনে কঠিন সময় আগত। অরাজকতার গতিবেগ থামেনি। সামনে বাড়ার সমূহসম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমাদের আরো ধৈর্য ধারণ করে বিপদ মোকাবিলায় সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে হলে সাধারণ জনগণের ভূমিকা একটা অপরিহার্য বিষয়। প্রতিনিয়ত সরকারি স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে স্বাস্থ্যবিধির প্রচার অব্যাহত রয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যথেষ্ট পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রচারিত নিয়মাবলি পালনে ব্যর্থ হলে সর্বনাশ হবে আমাদের। বর্তমান সময়ে বেশি বেকায়দায় আছে বেসরকারি চাকরিজীবীরা। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেকে চাকুরিচ্যুত হয়েছেন। অনেকে চাকরি হারানোর ভয়ে আছে। সরকার এসব কারণ বিবেচনায় এনে সরকারি সাধারণ ছুটি বাতিলসহ নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারিভাবে ত্রাণসামগ্রীসহ আর্থিক সুবিধা দিয়ে আসছেন এই দেশের নাগরিকদের।

আমরা বাঙালি অনেক ভাগ্যবান। নিজ হাতে ভাত খাচ্ছি অনেক সুখে-আহলাদে। দুঃখ এবং কষ্ট দুজন সহোদর ভাই। এরা সক্রিয় আছে বলে আমরা অনেকটা হুশে আছি। ভাত খাওয়াও কষ্টের ব্যাপার হতে পারে। এর পেছনে অনেক কার্যকারণ রয়েছে। ভাতের থালাতো সামনে এমনি আসেনি। এতে কোনো জাদু-মন্ত্রেরও কীর্তি কাহিনী নেই। আছে কি পরিশ্রম ও সচেতনতাবোধ।

আমরা অকৃতজ্ঞ বাঙালি। নিজের বিবেকবোধকে গলাটিপে মেরে অন্যের সমালোচনায় মেতে উঠি। সমালোচনা করব কেন? কারো কর্মকান্ড ভালো না লাগলে, পছন্দ না হলে এতে তো কারো কোনো আপত্তি নেই। পারলে জনকল্যাণমুখী কিছু করে দেখান, মানুষের অন্তরে চিরকাল বেঁচে থাকার পথ পরিষ্কার করুন। সমালোচনা বা বদনামি করাত পাপের ভাগীদার হওয়া। কথায় আছে না- পাপ বাপকেও ছাড়ে না।

বর্তমান ক্ষণটা বিবেকবোধের পরিচায়ক। মানবতার কাজে এগিয়ে আসুন। অসহায়দের পাশে দাঁড়ান। দেখবেন আপনাকে সাহস ও শক্তি জোগানোর জন্যে একটা পক্ষ সক্রিয় হয়ে উঠবে। সহায়ক হিসেবে তো আছেন আমাদের সুখ-দুঃখের সাথী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের মানুষ কষ্টে আছে, অশান্তিতে আছে একথা ঠিক। এর জন্যে কেউ কাউকে দায়ী না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত করা গেলে ক্ষণিকের জন্যে হলেও প্রশান্তি পাওয়া যাবে।

আমরা যদিওবা একটা সময় অতিক্রম করছি, তাতেও আত্মতৃপ্তি আছে। সরকার প্রধান যেভাবে দেশ পরিচালনা করছেন এতে আমরা কেউ অভুক্ত নই। ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে আছি। জানা মতে আমাদের এই মমতাময়ী বাংলাদেশে কেউ না খেয়ে মারা যায়নি। এ বিপর্যয় সাময়িক। একে মোকাবিলা করেই সভ্যতার জয় হবে, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ- এটিই মুহূর্তের একমাত্র প্রত্যাশা।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

"