করোনার সঙ্গে যুদ্ধে আমরাই জিতব

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

পৃথিবীজুড়েই চলছে যুদ্ধ। কবে এবং কোথায় এর শেষ সেকথা আমাদের জানা নেই। শুদু এটুকুই জানি আমরা যুদ্ধে আছি। একপক্ষে মানুষ বিপরীতে ভাইরাস। নাম, ‘করোনা’। মানুষের হাতে অস্ত্রের মজুদ অনেক। থ্রি নট থ্রি থেকে আণবিক বোমা। কোনোটারই অভাব নেই। তবুও এ যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে মানুষ।

প্রতিদিন মরছে তারা। তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি। আক্রান্ত দেশের সংখ্যা ২০০ অতিক্রম করেছে। আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৫৮ লাখ ৫৪ হাজার ২৭ জন। বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই মৃতের সংখ্যা সর্বাধিক। তারাও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ইতিবাচক ফলাফল দেখাতে পারেনি। ব্যর্থ হয়েছে গোটা বিশ্ব। তবে মানুষ হাল ছাড়েনি। যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে। সম্ভবত সাফল্য না আসা পর্যন্ত যুদ্ধটা চলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ভাইরাস পৃথিবী থেকে একেবারে নির্মূল করা সম্ভব হবে না। তারা পৃথিবীতেই অবস্থান করবে। ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করাই হবে একমাত্র প্রতিরোধ।

গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে মোট ৪০ হাজার ৩২১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ হাজার ৪২৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। অবশ্য আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাসায় কতজন চিকিৎসা নিয়েছেন বা নিচ্ছেন তার কোনো পরিসংখ্যান জানা যায়নি। সেটি যুক্ত হলে সুস্থতার হার আরো বেশি হবে। সংক্রমণের ৮২তম দিনে সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৫৯ জন। সংক্রমণ বেশি এমন দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার অনেকটাই কম, যা আমাদের জন্য কিছুটা হলেও আশাব্যঞ্জক।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পুনরায় চালু করতে করোনাভাইরাস মহামারিকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী চলমান লকডাউন আরো শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশই এর মধ্যে লকডাউন শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে তো নয়ই। আর সে কারণেই করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশে সরকারের টু-স্টেপ ফরোয়ার্ড ওয়ান-স্টেপ ব্যাক নীতিতে এগিয়ে চলার বিষয়টি সর্বত্রই প্রশংসিত হয়েছে। আমরাও মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ যুদ্ধে অবধারিতভাবেই জয়লাভ করবে। তবে মানুষকেও বাড়াতে হবে সহযোগিতার হাত। করোনারোধে নিজেদের ভূমিকাকে আরো ইতিবাচক অবস্থানে তুলে ধরে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। কেননা আমরা বিশ্বাস করি, ক্রমাগত লকডাউনে রাখলে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। আর অর্থনীতি ভেঙে পড়লে দেশের মানুষ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। ঠিক এ রকম এক পরিস্থিতিতে জনসাধারণের জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আয় রোজগারের স্বার্থে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নতুন করে শুরু করার বিকল্প যখন আর নেই তখন প্রতিরোধকে প্রাধান্য দিয়েই অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখাটাই হবে ১৭ কোটি মানুষের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। আর এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই আমাদের এগোতে হবে। কাজটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। আর অসম্ভবকে সম্ভব করাই মানুষের কাজ। এতকাল মানুষ তা-ই করেছে। ইতিহাস তার সাক্ষী।

 

"