দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কার্যকরী উদ্যোগ জরুরি

প্রকাশ : ২২ মে ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

করোনার ভয়াবহতার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের হানা। শতাব্দীর প্রথম সুপার সাইক্লোন নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছিল। তবে যতটা ভয় ছিল তুলনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে কম। স্বস্তি ওইটুকুই। যদিও তা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতিও ছিল ব্যাপক। মানুষের মধ্যেও ছিল সেই সচেতনতা, যা ছিল আমাদের জন্য স্বস্তিকর। এ দেশের মানুষ বিশেষত উপকূলবাসী ১৬০০ শতক থেকে ঘূর্ণিঝড়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বসবাস করে আসছে। প্রতি বছরই তারা একাধিকবার ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। বিগত সময়ে ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলের বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে ১৯৯১ সালের পরবর্তী সময়ে আসা দুর্যোগগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় দুর্যোগে মৃত্যুহার ও ক্ষয়ক্ষতির হার কম ছিল। এবারও তাই হয়েছে।

দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার কারণে মূলত ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হচ্ছে। দুর্যোগের আগে, দুর্যোগের সময় এবং দুর্যোগের পরে কী করতে হবে- সেই সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এ দেশে গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে ক্রমেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আধুনিক হচ্ছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণাও বাড়ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিপিপি) উদ্বোধন করেছিলেন। সিপিপি এখনো সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। আম্পান মোকাবিলায়ও ছিল তাদের অগ্রগণ্য ভূমিকা। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলও সার্বক্ষণিক ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মনিটরিং করেছে। গত রোববার লঘুচাপ থেকে তৈরি হয় সুস্পষ্ট লঘুচাপ। সেখান থেকে নি¤œচাপ, তারপর গভীর নি¤œচাপ থেকে সোমবার ঘূর্ণিঝড় আম্পান সাগরে অবস্থান করে। এরপর মঙ্গলবার আম্পান সুপার সাইক্লোনিক ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ছয় মাস আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের মতো আবারো বুক চিতিয়ে উপকূলবাসীকে রক্ষা করেছে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান সুন্দরবন। আম্পান সুন্দরবন অতিক্রম করার সময় শক্তি অনেক হারিয়ে ফেলে। সিডরের দুই বছর পর আইলার গতিপথ ছিল খুলনা-সাতক্ষীরা সুন্দরবন এলাকা। ঘণ্টায় ১১৩ কিলোমিটার বেগে আসা ওই ঘূর্ণিঝড়ে তুলনামূলক কম ক্ষতি হয়েছিল সুন্দরবনের কারণে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানও বাংলাদেশ অংশে ঢুকেছে সাতক্ষীরা সুন্দরবন দিয়ে। আইলার চেয়ে বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় আইলার চেয়ে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। তবে তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। এ ছাড়া পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারসহ যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। শুধু তাই নয়, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ দ্রুততার সঙ্গে করে তালিকা অনুযায়ী সহায়তা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে কৃষিতে ভর্তুকি, বীজ ও গবাদি পশুর ব্যবস্থা, ঋণ মওকুফ, শস্যবিমা, পল্লী রেশনিং, লবণাক্ত জলাবদ্ধতা দূর করা ইত্যাদি ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পুরো প্রক্রিয়া মনিটর করে থাকেন। আম্পানের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরাও কাজ করছেন, পরামর্শ দিচ্ছেন। বিগত সময়ে আমাদের সংবাদমাধ্যম, স্বাস্থ্য খাত, স্থানীয় সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দুর্যোগ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করেছে। আম্পান পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও যদি একইভাবে কাজ করি, উপকূলীয় বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে না। আর এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

"