জনস্রোত ঠেকাতে আরো কঠোর হতে হবে

প্রকাশ : ২১ মে ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে গ্রামের পথে মানুষের ঢল নেমেছে। অথচ দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তাররোধে সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরও গ্রামমুখী মানুষের স্রোত ঠেকানো যাচ্ছে না। ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পথে মানুষের ঢল নেমেছিল মাওয়া, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে। জনস্রোত থামাতে শেষ পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঢাকা বিভাগের কয়েকটি জেলার পাশাপাশি বরিশাল ও খুলনা বিভাগের মানুষের ঈদযাত্রা কিছুটা থামাতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু দেশের অন্য ছয় বিভাগের যাত্রীদের গ্রামে যাওয়া আটকানো যায়নি। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেট কার, পিকআপভ্যান ভাড়া করে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। এ অবস্থায় বিপদ বাড়ছে গ্রামের। করোনার সংক্রমণ এবার গ্রামের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পিকটাইম চলছে। এই সময়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কার্যকর লকডাউনের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধের কৌশল নেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু তা না করে হাজার হাজার মানুষ যেভাবে ঢাকা থেকে গাদাগাদি করে গ্রামে ছুটছেন, তাতে আক্রান্ত ও মৃত্যু আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। দেশের ৬৪ জেলায় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়লেও দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি উপজেলায় এখনো সংক্রমণ ছড়ায়নি। এটি একটি আশাব্যঞ্জক বিষয় ছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ সংক্রমিত রাজধানী থেকে যেভাবে হাজার হাজার মানুষ ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে ফিরছেন, তাতে ওই গ্রামগুলো আর নিরাপদ থাকবে না। সেখানে সংক্রমণ ছড়াবে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। চলতি মাস এবং জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময়কাল বিবেচনা করা হয়েছিল। এর পর ধাপে ধাপে ভাইরাসটির বিস্তার হ্রাস পাবে বলে ধারণা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়টিকে আরো কঠিন করে তুলল। মানুষকে ঘরে রাখার উদ্দেশ্যে ২৬ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ছুটি ঘোষণার পর মানুষ দলবেঁধে ঢাকা থেকে গ্রামে চলে যায়। এর পরই কিন্তু ঢাকার বাইরে সংক্রমণ শুরু হয়। একে একে ৬৪ জেলাতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। শেষে সরকার গোটা দেশকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করে।

কিন্তু এরপরও আমরা আশাবাদী ছিলাম, কারণ বেশির ভাগ উপজেলা এখনো সংক্রমণের বাইরে রয়েছে। কিন্তু ঈদের ছুটিতে যেভাবে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা থেকে গ্রামের দিকে যাচ্ছে, তাতে করে গ্রামগুলোতে এখন ঝুঁকি তৈরি হবে। ফলে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রক্রিয়া আরো দীর্ঘ হবে। একই সঙ্গে আরো বাড়বে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। বলা বাহুল্য, সরকার এবার ঈদে লোকজনকে ঢাকায় আবস্থান করতে বলেছিল। পরিবারের অন্য সদস্যদের সুস্থ রাখতে এই অনুরোধ করা হয়েছিল। এখন দেখছি তার উল্টোচিত্র। আমরা মনে করি, লকডাউনকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণকে বুঝানো হয়েছে। এখন আর বুঝানোর সময় নেই। সবাইকে ঘরে রাখতে প্রয়োজনে এখন কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

"

সর্বাধিক পঠিত