বিপদ কাটানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মানবসভ্যতা এক অভাবনীয় সংকটের মধ্যে পড়েছে। যা থেকে আত্মরক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করছে মানুষ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা করোনার ভ্যাকসিনসহ টিকা আবিষ্কারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ইনশাআল্লাহ তাদের সেই প্রচেষ্টা এক দিন অবশ্যই সফল হবে। এ অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের জয় হবেই হবে। তবে ভয় না করে তা থেকে নিজেদের রক্ষার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সরকার নির্দেশিত প্রতিটি নিদের্শনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এটিও যুদ্ধ জয়ের একটি কৌশল। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। তাই করোনার বিস্তার রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন। দেশবাসীর উচিত এসব নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকের চলাচলের পরিধি নিয়ন্ত্রণ করা।

যেকোনো ধরনের রোগ থেকে মুক্ত থাকার অন্যতম উপায় হচ্ছে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হলে প্রথমে প্রয়োজন যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে পরিপালন করা। বিশেষ করে সেলফ কোয়ারেন্টাইন, হোম কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। কারণ এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে ব্যক্তি ও সমষ্টির মঙ্গল ও কল্যাণ। সবাইকে মনে রাখতে হবে, কোয়ারেন্টাইন কোনো সাজা নয়; নিজের ও পরিবারের, সর্বোপরি দেশবাসীর কল্যাণে নিরাপত্তা ও সুরক্ষামূলক একটি মহৎ প্রচেষ্টা। করোনাভাইরাসের থাবায় বর্তমানে বিশ্বসভ্যতা এক চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে এবং এ পরিস্থিতি থেকে মানবজাতির উত্তরণ ঘটবে কীভাবে, তা এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। করোনাসৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। অবশ্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে বিভিন্ন খাতভিত্তিক বিশাল অঙ্কের প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। সেইসঙ্গে দিনমজুর, শ্রমিক ও কৃষকসহ সমাজের স্বল্প আয়ের মানুষ যাতে অভুক্ত না থাকে, সেজন্য তাদের সাহায্য করার কথা উল্লেখ করে ‘সোশ্যাল সেফটিনেট কার্যক্রম’ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দলীয় কর্মী বা ভোটার বিবেচনা না করে ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য সবার তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। দুস্থদের সহায়তায় আরো ৫০ লাখ মানুষকে রেশন কার্ড দেওয়ার কথা উল্লেখ করে সরকারি ত্রাণ সহায়তা যেন সঠিক লোকদের হাতে যায়, তা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনা যথার্থ ও সময়োচিত বলে আমরা মনে করি। কারণ ক্ষুধার্ত মানুষের দলীয় পরিচয় জানার চেয়ে ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা করে তাকে বাঁচিয়ে রাখাটাই এ মুহূর্তে বিশাল মানবিকতা। যা সবাইকে রক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়টির প্রতি দেশবাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। বস্তুত সরকারি নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালনের মধ্য দিয়ে সব ধরনের বিপদ কাটিয়ে উঠার চেষ্টা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। জাতি ভেদ ও দল মত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের জন্য এ মুহূর্তে যা অবশ্যই করণীয়।

 

"