সংকট মোকাবিলায় কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

করোনার বিশ্বব্যাপী আগ্রাসনে বদলে গেছে মানুষের জীবন। কর্মক্ষম মানুষ আজ কর্মহীন। এ বাস্তবতা যে কি নির্মম তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানে। দিন দিন ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় হয়ে উঠছে। তবে তা থেকে পরিত্রাণের উপায়ও খুঁজতে হবে। মনে রাখতে হবে, করোনার প্রতিঘাত মোকাবিলায় মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবারই সেই আকুতি প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশ একসময় কৃষিপ্রধান দেশ ছিল। এখনো অনেকাংশে কৃষির ওপর নির্ভর। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ভাষ্য মতে, ‘আমাদের মাটি আছে, মাটির উর্বরতাও রয়েছে; আমরা এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখব না, কোনো অনাবাদি জমি থাকবে না।’ করোনার করাল গ্রাসে বিশ্বমন্দার আশঙ্কায় কাঁপছে পুরো পৃথিবী। সামনের দিনগুলোর চিত্র সহজেই অনুমেয়! এ দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের কৃষিই হতে পারে প্রধান অবলম্বন।

২০০৮-০৯ সালে বিশ্ব একবার আর্থিক মন্দায় পতিত হলেও সেটার প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। এবারের বৈশ্বিক মন্দা একদিকে অর্থনৈতিক অন্যদিকে মানুষের জীবন রক্ষার তাগিদ। এই মহাদুর্যোগে যে যার ঘর সামলাতে এখনো যেমন ব্যস্ত, করোনা-পরবর্তী সময়েও একই চিত্র প্রদর্শিত হবে সন্দেহ নেই। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের এবং রেমিট্যান্স শিল্পগুলোর সংকটাপন্ন অবস্থা। বাতিল হয়েছে একের পর এক অর্ডার, রেমিট্যান্সসহ রফতানিযোগ্য প্রতিটি খাতেই সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। করোনাকালের স্থায়িত্বের করুণার ওপর এবং বিশ্ব বাণিজ্য সচল হওয়ার সম্ভাব্য অনিশ্চিত সময়ের ওপর নির্ভর করবে অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রচ-তা। সে ক্ষেত্রে কৃষিই হতে পারে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের একমাত্র হাতিয়ার। সেই বিবেচনায় কৃষকদের ক্ষতি মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি খাতে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে কৃষকদের পাঁচ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছেন। আগামী অর্থবছরে বীজ, সার, সেচ বাবদ বাজেটে নয় কোটি টাকা কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সুতরাং কৃষি হয়ে উঠতে পারে এ সময়ের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। এক টুকরো জমিও আমরা ফেলে রাখব না। যথাযথ জমি ব্যবহারের মাধ্যমে আবার চিরায়ত বাংলা তার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। নিজেদের সমস্যা সমাধান হবে উপরন্ত ঘরের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করার মতো সুযোগও তৈরি হতে পারে। উৎপাদন কার্যক্রম ঠিক এই মুহূর্ত থেকেই সবরকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালিয়ে যেতে হবে। মানুষ ও জীবনের প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রেখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে করোনা মোকাবিলায় যেভাবে আন্দোলিত করছেন তা নিঃসন্দেহে এক বিশাল প্রাপ্তি। তিনি এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একের পর এক স্বপ্ন যেমন দেখাচ্ছেন, তেমনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথও বাতলে দিচ্ছেন। গোটা দেশ আজ তার অবিচল নেতৃতে ঐক্যবদ্ধ। ‘আমার দেখা নয়াচীনে’ বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘নয়াচীনে একখ- জমি দেখলাম না, যা অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে।’ স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশেও সেই ডাক দিয়েছিলেন। এবার বঙ্গবন্ধুকন্যাও জাতির প্রতি একই ডাক দিলেন, দেশে যেন এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখা না হয়। দেশ আবার সব দুর্যোগ কাটিয়ে ফলে-ফুলে আর রবি শস্যে ভরে উঠবে। প্রাণ খুলে হাসবে মেহনতি মানুষ। বাংলার উর্বর মাটি মানুষকে কখনো নিরাশ করেনি, এবারও করবে না।

 

"