অসহায়দের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে কার্যত লকডাউন চলছে। জরুরি সার্ভিস ছাড়া বন্ধ রয়েছে প্রায় সব রকম কার্যক্রম। এর ফলে আয়-উপার্জন বন্ধ থাকায় সবচেয়ে কষ্টে রয়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এসব মানুষের জন্য অন্তত ছয় মাসের নিত্যপণ্যসহ প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা এবং নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গরিবদের সহায়তার জন্য এবং চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভর্তুকি মূল্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিসিবিও ট্রাক সেলে ন্যায্যামূল্যে বিক্রি করছে নিত্যপণ্য। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন, কেউ না খেয়ে থাকবে না। তারপরও দেখা যাচ্ছে, কোথাও কোথাও ত্রাণসমাগ্রী লুটপাট ও বেশ কয়েকটি জেলায় ১০ টাকা কেজির চাল চুরির অভিযোগ উঠেছে, যার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে আশার কথা স্থানীয় প্রশাসন এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

দেশে লকডাউনের কারণে অসহায় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছয় মাস পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য ও আর্থিক প্রণোদনা দুর্গতদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়া, ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি, টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি ইত্যাদি। মাঠপর্যায়ে কাজটি বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে ডিসি, টিএনও অফিসকে। এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সেক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না বরং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশে কেউ অভুক্ত থাকবে না। খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে এবং যাবতীয় প্রণোদনা দেওয়া হবে কৃষকদের। এর ফলে দেশে দুর্ভিক্ষ তো দূরের কথা, খাদ্য সংকটেরও সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এখন দরকার নিয়মিত বাজার তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ। যাবতীয় দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ। ত্রাণ লোপাটের সঙ্গে জড়িতদের মোবাইল কোর্টে বিচারের কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যাতে অসহায়দের ত্রাণ নিয়ে কেউ এদিক-সেদিক করতে না পারে।

দেশে এবং বিদেশে করোনা সংকটজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি বিভাগীয় জেলা পর্যায়ে ডিসি ও পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা দিচ্ছেন। তা সত্ত্বেও কিছু দুর্নীতিবাজের কারণে গোটা ত্রাণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সত্যিই দেশের সংকটকালে এমন আচরণ দুঃখজনক। সরকার ত্রাণ দিলেও অনেকেই তা পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য। সরকার স্বল্পমূল্যে সরকারিভাবে পণ্য সরবরাহ করতে খোলাবাজারে ওএমএস কার্যক্রম আরো বাড়াতে পারে। অনিয়ম রোধে মনিটরিং জোরদার করতে পারে। আমরা মনে করি, সরকার যদি দেশের জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের খাবার বিতরণ নিশ্চিত করতে পারে তাহলে গরিব মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য। ত্রাণ বিলির কার্যক্রম তদারকি করতে ৫৩ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এবার অসহায় মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবেÑ এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

"