করোনার বিস্তার রোধে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

কোভিড-১৯ নামের এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করছে বিশ্ববাসী। যার প্রতিঘাতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ মৃত্যুর শিকার হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি। প্রতিদিন এ সংখ্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। যা থেকে পরিত্রাণের জন্য দেশে দেশে চলছে লকডাউন। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। তাই করোনার বিস্তার রোধে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ও উদ্যোগের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন। দেশবাসীর উচিত এসব নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকের চলাচলের পরিধি নিয়ন্ত্রণ করা। যেকোনো ভাবেই হোক নিজেকে ঘরে আবদ্ধ রাখা এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করা।

আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, যেকোনো ধরনের রোগ থেকে মুক্ত থাকার অন্যতম উপায় হচ্ছে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে সেলফ কোয়ারেন্টাইন, হোম কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। কারণ এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে ব্যক্তি ও সমষ্টির মঙ্গল ও কল্যাণ। কোয়ারেন্টাইন কোনো সাজা নয়; নিজের ও পরিবারের, সর্বোপরি দেশবাসীর কল্যাণে নিরাপত্তা ও সুরক্ষামূলক একটি মহৎ প্রচেষ্টা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, একটু সুযোগ পেলেই মানুষ ঘর থেকে বেড়িয়ে আসছে। কোনো বিধিনিষেধের তোয়াক্কাই করছে না। এতে তারা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি অন্যকেও বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই বোধ তাদের কবে জাগ্রত হবে তা একমাত্র স্রষ্টাই জানেন। করোনাভাইরাসের কারণে দেশজুড়েই চলছে অঘোষিত লকডাউন। জরুরি কোনো কাজ ছাড়া মানুষের ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। দেশের বাইরে যাওয়া বা আসার পথও বন্ধ। তারপরও এক পথে যখন চলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, তখন অন্য পথে প্রতিদিনই এক শ্রেণির মানুষ নানা অজুহাতে চলাফেরা করছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিনই নৌ ও সড়কপথে চোরাগোপ্তাভাবে বিভিন্ন জেলায় মানুষ যাওয়া আসা করছে। কঠোর নির্দেশনার পরও নিয়ম ভাঙার আত্মঘাতী খেলায় মানুষ মেতে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দেশনা বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই এই অব্যবস্থাপনা চলছে। এর ফলে করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে সরকারের পদক্ষেপগুলো সঠিকমাত্রায় কার্যকর হতে পারছে না। যা গোটা জাতিকেই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগই করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এজন্য সর্বস্তরে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সুব্যবস্থাপনা। অন্যথায় সব প্রণোদনা ও উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যাবে। এর জন্য অনেক বড় মূল্য দিতে হবে আমাদের। করোনাভাইরাস কাউকে করেছে সচেতন ও নিয়মানুবর্তী, কেউ বা আবার বিষণœ ও হতাশ। তারপরও জীবনের প্রয়োজনে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত স্পর্শ এড়িয়ে চলি। অসহায় মানুষের জন্য সাহায্যের হাত প্রসারিত করি। প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশের অধিকার ঠিক রেখে আমাদের কল্যাণে কাজে লাগাই। তবেই মানবিক পৃথিবী হবে গতিশীল।

 

"