বিশ্লেষণ

বৈশ্বিক পর্যায়ে কোভিড-১৯ এর ঘাত-প্রতিঘাত

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে যেভাবে মৃত্যুর হার বেড়ে চলেছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামাজিক বন্ধন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কেবল মন্দা নয় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধোত্তর স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। মানুষের মৃত্যুর হার এক্সপোনেন্সিয়াল (Exponential) হারে বেড়ে চলেছে। বেকারত্বের ধাক্কা মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে এক অজানা-অচেনা পরিবেশে। এমনকি খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩ দশমিক ২৮ মিলিয়ন লোক বেকার হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই হার বৈশ্বিক মন্দা যা ২০০৭-০৮ এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। জাতিসংঘের উচিত ছিল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের জন্য জেনারেল অ্যাসেম্বলির বৈঠক ডাকা। এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর মোকাবিলায় জাতিসংঘের আশানুরূপ পদক্ষেপ একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে লক্ষ করছি না। কোভিড-১৯ এর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আঘাত কেবল স্বল্পকালীন মেয়াদের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশ্বের শক্তিধর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এবং সাধ্যমতো সে দেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোভিড-১৯ এমনি মহামারির রূপ গ্রহণ করেছে যে, তাদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রত্যাশিত ও প্রয়োজনীয় সম্পদের অপ্রতুলতার অভাব প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যে অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের আপৎকালীন অবস্থায় ডাকা হয়েছে। এ প্রাণঘাতী ভাইরাস কেবল যে মৃত্যুর হিমশীতল পরিবেশ সৃষ্টি করছে তা নয়- বরং মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা, অমানবিকতা, অবিমৃষ্যকারিতারও সৃষ্টি করেছে। চীনে মৃত্যুর হার সামাল দিতে তারা পারলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন, ইরানে পারা যাচ্ছে না। জাপানিজ ও দক্ষিণ কোরিয়ানরাও মোকাবিলায় অপেক্ষাকৃত ভালো করছে। কিন্তু সমস্যা হলো মৃত্যুর নিস্তব্ধতার পাশাপাশি সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক কর্মকান্ড সম্পূর্ণরূপে আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। একদিকে সরবরাহজনিত সমস্যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে, অঞ্চলে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে ভেঙে পড়েছে, অন্যদিকে চাহিদাগত সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠছে। মন্দা শুরু হয়েছে বলে আইএমএফ এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে। আসলে মোট দেশজ উৎপাদনের যে প্রাক্কলন কয়েক মাস আগে করা হয়েছিল, এখন কোভিড-১৯ সে ক্ষেত্রে হিসাব-নিকাশ ওলট-পালট করে দিয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্বের জন্য একটি বড় সংশয়ের মুখোমুখি অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। খাদ্য পাওয়া গেলেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা থাকবে নাÑ যা এক্সচেঞ্জ এন্টাইটেলমেন্ট তত্ত্বের উদাহরণ হিসেবে পরিগণিত হয়। এদিকে অর্থনৈতিক ভয়াবহতা এবং মানুষের মঙ্গলের চিন্তা করতে গিয়ে জার্মানির হেসে স্টেইটের অর্থমন্ত্রী থোমাস চেফার আত্মহত্যা করেছেন গত ২৮ মার্চ। আসলে আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়। বরং আরেকটু কম পরিশ্রম করে কীভাবে মানুষের মধ্যে সামাজিক বণ্টন ব্যবস্থা উন্নত করা যায়, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে জনজীবনকে কত দ্রুত কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনা যায়, সে ব্যাপারে বরং উদ্বুদ্ধকরণ করা জরুরি দরকার। মানুষের মধ্যে যেমন মানবিক গুণাবলির উৎকর্ষ ঘটছে; আবার অমানবিক, পাশবিক নিষ্ঠুরতার ভয়াবহতা ও কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিক পর্যায়ে ঘটে চলেছে। নব্য উদারবাদ অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ছে। প্রথাগত অর্থনীতি সমস্যার সমাধানে অক্ষম। বিশ্বব্যাংক মন্তব্য করছে যে, করোনাভাইরাসের কারণে এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২ কোটি ৪০ লাখ লোক দরিদ্র হয়ে পড়বে। তাদের এ প্রাক্কলন বাস্তবতা প্রসূত নয় বলে মনে হয়। কেননা স্বল্পকালীন যেভাবে বেকারত্ব বিশ্বব্যাপী বাড়ছে, তাতে করে দীর্ঘমেয়াদে এর আঘাত-পাল্টা আঘাত তাদের প্রাক্কলিত হিসেবের তিনগুণ হওয়ার কথা সহজেই অনুমেয় হয়। সেবা খাত থেকে শুরু করে কৃষি-শিল্প-কলকারখানাসহ সর্বত্র হযবরল অবস্থা। উন্নত বিশ্বে যেখানে স্বাস্থ্য খাত অত্যন্ত শক্তিশালী, সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পাবে। তবে করোনা যদি আরো দীর্ঘদিন স্থায়িত্ব লাভ করে, তবে এ প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস অনেকগুণ বেড়ে যাবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামষ্টিক অর্থনীতির এবং ব্যাস্টিক অর্থনীতির ভিত্তি অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে সরবরাহ খাতে এক ধরনের ঋণাত্মক আঘাত হেনেছে। এ ঋণাত্মক আঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশের সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থা যে ব্যাহত হয়েছে তা নয়, বরং সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানহীনতা এবং ক্রয়ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় তীব্র সংকট সৃষ্টি হওয়ায় নতুন বিনিয়োগ যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে, তেমনি মূল্যস্ফীতির হারও বাড়ছে। আর্থিক খাতে তীব্র সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দেশে দেশে পুঁজিবাজারেও লকডাউন বা ঘরে থাকা কর্মসূচির জন্য সংকট তীব্রতর হচ্ছে। অন্যদিকে অলস ও ঘরে থাকতে গিয়ে অনেকে আবার সোশ্যাল মিডিয়া বা রেডিও-টিভির দিকে ঝুঁকছে। আচরণগত সমস্যাও তীব্রতর হচ্ছে। এ দুঃসময়ের মধ্যে আবার তেলের দাম হ্রাস পেয়েই চলেছে। এটি বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য ভালো হলেও যারা প্রবাসে তেল উৎপাদনকারী দেশে কাজ করে থাকে, তাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করবে। গত ১৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হচ্ছে তেলের মূল্য। প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মূল্য হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২২ মার্কিন ডলার মাত্র। এতে স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের মধ্যে যেখানে মানুষ মৃত্যুর আশঙ্কায় ভীত, সেখানে বেলারুশে আইস হকির প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি নিতান্তই ছেলেমানুষী।

করোনাভাইরাসের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে। এই অবস্থায় চাহিদাজনিত সংকটও বাড়বে। সাধারণ মানুষ ও জনজীবনে স্থবিরতা বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করবে। চাহিদাজনিত সংকট মানুষকে স্টেগফ্ল্যাশানের দিকে ধাবিত করবে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে এসে অপ্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ অপ্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় সাধারণত একটি দেশের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান হয়ে থাকে বিভিন্ন দেশে। আমাদের দেশে প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান হয় অপ্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয়। এর মধ্যে কুটির শিল্প, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতও রয়েছে। গত সোয়া ১১ বছরে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন তা কিন্তু কুটির শিল্প, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতসহ গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে হয়েছে। এক্ষণে বৈশ্বিক মহামারির কারণে গ্রামীণ অবকাঠামো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা কর্মসংস্থানহীনতা পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে না। পর্যটন শিল্পে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার হিসাবে যদিও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যটক হ্রাস পাওয়ার কথা, বাস্তবতা হলো এই হ্রাস পাওয়ার সংখ্যা আরো অধিকমাত্রায় বাড়বে। আকাশ, স্থল ও রেল পথে এবং নৌপথে আয়-রোজগার হ্রাস পাবে। দেশে তৈরি পোশাক শিল্প খাতে মারাত্মকভাবে কোভিড-১৯ আঘাত হেনেছে। অথচ আগে থেকেই যদি পিপিই এবং মানসম্পন্ন মাস্ক উৎপাদনের জন্য বিজিএমইএ উদ্যোগ গ্রহণ করত তবে দেশে কেবল পিপিই এবং মাস্ক বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো না। বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করতে পারত। এদিকে ভেন্টিলেটর দেশে তৈরির জন্য ওয়ালটন এগিয়ে এসেছে। পাশাপাশি বুয়েট, সিঙ্গার, ডুয়েট ও ট্রান্সকম যদি এগিয়ে এসে ভেন্টিলেটর দেশ এবং দেশের বাইরের জন্য উৎপাদন করে, তবে তা ভালো হবে। এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হয়েছে দেশে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। বিশ্বের সব দেশে যেখানে শেয়ারবাজারের অবস্থা ত্রাহি মুধসূদন, আমাদের দেশেও পুঁজি বাজারের কর্মকান্ড সরকার ঘোষিত ছুটির সময়ে বন্ধ রাখাই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করা দরকার।

প্রধানমন্ত্রী ৩১ মার্চ মাঠ পর্যায়ের ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সাধারণ ছুটি ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে। দেশের মানুষ যাতে ঘরে থাকে সে জন্য তিনি আন্তরিকভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সরকারপ্রধান দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যথার্থই পহেলা বৈশাখের যাবতীয় অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলেছেন এবং একই সঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠানটি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করতে আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা মনে করি, প্রতিটি মানুষ সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক। বিশ্বব্যাপী এ মহামারি রোধে নববর্ষের অনুষ্ঠান বন্ধ করাটি অত্যন্ত যৌক্তিক হয়েছে। কেননা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে না পারলে আমরা যারা অনুষ্ঠানে সব সময়ে অংশ নেই, তারা সমস্যায় পড়তে পারি। সরকার যে ছুটি দিয়েছিল, তাতে অনেকেই ঢাকার বাইরে চলে গিয়েছিল। তারা যখন ঢাকার ফিরবে তখন আবার কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের যাতে কোনো সুযোগ না হয়, সে জন্য আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। করোনাভাইরাসের জন্য দেশে যেমন স্বাস্থ্য খাতে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তেমনি অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ জন্য অবশ্য সরকার তার সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে গ্রহণ করেছে। আশা করব, যারা ত্রাণসামগ্রী দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করছেন তারা যেন সাবধানতার সঙ্গে করেন। ট্রাক যেন দুর্ঘটনায় না পড়ে কিংবা দুর্নীতিগ্রস্তরা যাতে সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে। ডিসরাপটিভ ইনোভেশনের ব্যবস্থা জরুরিভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করতে হবে। যাতে আমদানিনির্ভর না হয়ে আমদানি বিকল্পায়ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, সেদিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নজর দিতে হবে। মানুষ বেঁচে থাকলে পড়ে বহু ব্যবসা-বাণিজ্য করা যাবে। আপাতত অতি লোভ জাতির স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিহার করুন। আকিজ গ্রুপ গণস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে হাসপাতাল তৈরি করছে, তাতে যাতে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা সত্যি সত্যি ভালো চিকিৎসা পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। দেশে মানসম্পন্ন গগলস, গ্লাভস, হ্যান্ড সানিটাইজার উৎপাদনে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। ওষুধের দোকানগুলো চড়া দাম রাখছে। ড. বিজন লাল শর্মার নেতৃত্বে আবিষ্কৃত কিট যত দ্রুত দেশের উন্নতমানের ল্যাবে তৈরি হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা ও সহায়তা দেওয়া দরকার। কিট যত দ্রুত দেশের সব জেলায় পৌঁছে দেওয়া যাবে তত মঙ্গল। দেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি ধর্মের গুরু, মুফতি, পুরোহিত, পাদ্রি স্রষ্টার কাছে জনসমাবেশ না করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিদিন বিশেষ প্রার্থনা করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী রিলিফ দেওয়ার জন্য কর্মহীনদের তালিকা চেয়েছেন। এই তালিকা যথাযথ প্রণয়ন করে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান আদর্শ ও মুজিবশতবর্ষের আদর্শে উদ্ভাসিত হয়ে সত্যিকার দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোভিড-১৯ এর কারণে কোনো কোনো মানুষের মধ্যে হয়ত আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেটি বড় করে না দেখে বাস্তবেই দুর্নীতিমুক্ত, মুনাফাখোরমুক্ত থাকা যায় কিনা, সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। যারা এই মানবেতর সংকটে রাতদিন কাজ করে চলেছেন, তাদের প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার। বাংলার মানুষ যত দ্রুত আল্লাহর রহমতে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠবে ততই মঙ্গল। দীর্ঘমেয়াদে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে আর্থিক খাতে বৈশ্বিক বিপর্যস্ততা কাটাতে। কোভিড-১৯ একটি জিনিস শিখিয়েছেÑ নিজের দেশের পণ্যের উৎপাদনের প্রতি নির্ভরশীল হওয়া দরকার, যার কথা বঙ্গবন্ধু তার শাসনামলে বারবার বলতেন এবং শুরুও করেছিলেন। আমদানি বিকল্পায়ন শিল্প প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : ম্যাক্রো ও ফিন্যান্সিয়াল ইকোনমিস্ট ও প্রফেসর

[email protected]

 

"