কলঙ্ক মোচনের পথে আরো একধাপ অগ্রগতি

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। গত শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে কেরানীগঞ্জ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এটা খুবই স্বস্তির বিষয় যে, জাতি কলঙ্ক মোচনের পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেল। তবে এখনো মৃত্যুদ-প্রাপ্ত পাঁচ খুনি পালিয়ে আছেন। তাদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় ও রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। অন্য তিনজন খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। এ ছাড়া ফাঁসির দ-াদেশপ্রাপ্ত আরেক আসামি আজিজ পাশা ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান। তবে যত দ্রুত সম্ভব জীবিত খুনিদের দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করার মধ্য দিয়েই জাতি পুরোপুরি দায়মুক্ত হতে পারে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের যে জঘন্য হত্যাযজ্ঞটি আজও ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে ধিক্কৃত হচ্ছে। সেই ১৫ আগস্টের ভয়াল রাতের নিষ্ঠুরতায় নববধূ থেকে আরম্ভ করে শিশু রাসেলকেও বাঁচতে দেয়নি পাষ-রা। সেই বীভৎস ঘাতকদের একজন আবদুল মাজেদ। যার সদম্ভ ও নিষ্ঠুরতার জন্য তৎকালীন সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এই আত্মস্বীকৃত খুনিকে পুরস্কৃতও করেন। বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দেওয়া থেকে সচিব পর্যায়ে উন্নীত করে এই পাষ-কে সম্মানিত করেছিলেন। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম বিচার কাউকে রেহাই দেয়নি। এর আগে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করা যাবে নাÑ এমন নির্দেশকে বিবেচনায় নিয়ে সংবিধানের পাস করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। এমন কলঙ্কিত সাংবিধানিক বিধি বলবত থাকে সুদীর্ঘ ২১ বছর। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শাসন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার অধিষ্ঠিত হলে এই কলঙ্কিত আইনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্মূল করা হয়। সঙ্গত কারণে বঙ্গবন্ধুর মর্মান্তিক হত্যার বিচারের পথটি উন্মুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নয়, যথার্থ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারিক দ- শেষ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ন্যক্কারজনক এই বীভৎসতার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের করা হয় কলঙ্কিত আইনটি বাতিলের পরপরই। সেই থেকে টানা কয়েক বছর এই হত্যাযজ্ঞের বিচার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ২৪ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলায় তাদের বিচারকার্য শুরু হয়। ইতোমধ্যে বিদেশে পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতার করে কনডেম সেলে আটক করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বিচারিক আদালত মামলার ১৫ জন আসামিকে মৃত্যুদ- দেন। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল হলে আদালত তা খারিজ করে দ-প্রাপ্তদের সাজা বহাল রাখেন। আর এই রায় কার্যকর হয় ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি।

বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনিকে দ-াদেশের মাধ্যমে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হয়। আবার অভিযুক্ত দ-িতদের মধ্যে একজন মারা যায় আর ছয়জন পলাতক ছিল। বিদেশে আত্মগোপন করা ছয়জন আসামির একজন এই আবদুল মাজেদ। বলা সঙ্গত, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। তাকে সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মর্মমূলে আঘাত করে খুনিরা। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনিদের

ফাঁসির রায় কার্যকরের পাশাপাশি যারা খুনিদের বাঁচার জন্য কালো আইন করেছে, পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যা অত্যন্ত জরুরি।

 

"