আসুন সবাই মিলে অসহায়দের পাশে দাঁড়াই

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষের ঘরে থাকার কোনো বিকল্প নেই। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে অসহায় মানুষরা। জীবন বাঁচানোর তাগিদে ঘর থকে বের হয়ে আসছে তারা। সাহায্যের আশায় ছুটছে এখানে-সেখানে। যদিও দেশজুড়ে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের ঘরে রাখতে তাদের মধ্যে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া দিচ্ছে সরকার। ধারাবাহিক ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি তাৎক্ষণিক, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি এই তিন পর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চারটি কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। তারপরও ত্রাণ বিতরণ নিয়ে চলছে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা।

জীবনের তাগিদে রাজধানীর রাস্তায় রাস্তায় ত্রাণের অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে অসহায় মানুষকে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ছুটির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের আয়ের পথ। এ অবস্থায় কর্মহীন অসহায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সমাজসেবা অধিদফতর। গত সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আট ওয়ার্ডে পাঁচ শতাধিক কর্মহীন পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সমাজসেবা অধিদফতর। প্রতিদিন ৫০০ পরিবারের মধ্যে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এতে পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি ডাল, এক কেজি পেঁয়াজ, আধা লিটার সয়াবিন তেল ও একটি সাবান দেওয়া হচ্ছে। জীবনের তাগিদে বাধ্য হয়েই ত্রাণের আশায় সড়কে বের হয়েছেন অনেক প্রবীণ। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। ত্রাণ দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সংগঠনও। সরকারের উদ্যোগে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক প্রতিঘাত মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ প্রণোদনাব্যবস্থা ও দরিদ্র মানুষের সাহায্যের ব্যাপারে সরকার মনোযোগী। সংকট সমাধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু, দুই কেজি মসুর ডাল ও একটি সাবান দেওয়া হচ্ছে। তবে ত্রাণ নিয়ে অভিযোগও রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তালিকা নেওয়া হলেও অনেকেই ত্রাণ পায়নি। এই অভিযোগের দ্রুত সুরাহা হওয়া উচিত। যাতে কোনো মানুষ খাদ্য সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত না হয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমানে অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দৈনিক রোজগার করতে না পেরে থমকে গেছে তাদের জীবনযাত্রা। কর্মহীন এসব মানুষ পেটের টানে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ত্রাণের খোঁজে ছুটছেন পথে পথে। সারা দিন অপেক্ষা করেও দিন শেষে ত্রাণ না পেয়ে শূন্য হাতে অনেকে বাড়ি ফিরছেন। দিন যত গড়াচ্ছে, দুর্ভোগ আরো বাড়ছে। ফুটপাতে এখন সাহায্যপ্রার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কেই সাহায্যের আশায় বসে বসে ক্ষণ গুনছেন এসব অসহায় মানুষরা। তাদের চাহিদা খুব বেশি নয়, মাত্র দুবেলা দুমুঠো ভাত পেলেই এরা খুশি। আসুন সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়াই। অসহায় সেসব মুখগুলোতে ফুটিয়ে তুলি নির্ভরতার হাসি।

 

"