মতামত

মন্দা কাটাতে শেখ হাসিনা সরকারের আগাম প্রস্তুতি

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

মাহবুবুল আলম

করোনাভাইরাসের মতো অতি ক্ষুদ্র একটি জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে সারা বিশ্ব। করোনাভাইরাসে সব বয়সি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে আর প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সর্বশেষ তথ্যে এই ভাইরাসে বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ লাখের বেশি মানুষ। আর মারা গেছেন ৭০ হাজারে ওপরে। আইইডিসিআর তথ্য মতে, বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ আর মারা গেছেন ৯ জন। তাই শোকে মুহ্যমান আজ সারা বিশ্ব। তিন মাস হয়ে গেলেও এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। আর তাই সারা বিশ্বের মানুষই এখন নিজে বাঁচা ও অন্যকে বাঁচানোর যুদ্ধে এককাতারে শামিল হয়েছেন। ভাইরাসের প্রকোপ কমাতে দেশে দেশে লকডাউন, শাটডাউন করে রাখায় স্থবির হয়ে গেছে স্বাভাবিক কার্যক্রম।

বাংলাদেশ এর বাইরে নয়, বরং দিনে দিনে করোনার প্রকোপ বেড়েই চলেছে। এর ফলে বেকায়দায় পড়েছেন নিম্নআয়ের অসচ্ছল মানুষ। কাজ না থাকায় আয় নেই, নেই খাবারের নিশ্চয়তাও। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সমাজের অন্যান্য মানুষ। ব্যক্তি উদ্যোগ, সামাজিক বা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে নিত্যপণ্য নিয়ে দরিদ্রদের ঘরে ঘরে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সরকার ঘোষিত ছুটির মধ্যে ৬৪ জেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্যশস্যসহ সব ধরনের ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সারা দেশে ৫০ লাখ কার্ডধারী নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি যেটা ঢাকার বাইরে সেই কর্মসূচি চালু রয়েছে। সারা দেশেই খোলাবাজার ব্যবস্থার (ওএমএস) মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি সেটিও চালু রেখেছে সরকার।

এর মধ্যেও বিশ্বব্যাপী ধেয়ে আসা চরম অর্থনৈতিক মন্দার হাত থেকে রক্ষার জন্য দেশে দেশে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। দেশ-বিদেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ২০০৮ সালের মন্দাকে ছাড়িয়ে যাবে বর্তমানের করোনায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট। আগামী দিনগুলোতে অর্থনেতিক গতি প্রবাহ ধরে রাখতে এবং মানুষের জীবন বাঁচানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব। বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পোশাক খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিষয়টি এখনই ভেবে দেখার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। করোনাভাইরাসের প্রকোপে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। করোনা সংকট উত্তরণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে সরকার। আগে মানুষের জীবন বাঁচানো পরে অর্থনীতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য।

করোনা পরিস্থিতিতে সব উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৫ কোটির বেশি মানুষ এই খাতে কাজ করে। তাদের আয়ও মোটামুটি বন্ধ। মন্দা দেখা দিতে পারে, মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে। এজন্য দেশকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকার সে বিষয়ে কাজও করছে। ইতোমধ্যে পোশাক খাতে সহায়তা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সহয়তাও যত সম্ভব নিতে হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতে সহায়তা বেশি লাগবে বলে মনে করেন। এর আগে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো হলো ১. করোনাভাইরাস সম্পর্কে চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ভাইরাস সম্পর্কিত সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। ২. লুকোচুরির দরকার নেই, করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। ৩. পিপিই সাধারণভাবে সবার পরার দরকার নেই। চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য পিপিই নিশ্চিত করতে হবে। এই রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত পিপিই, মাস্কসহ সব চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত রাখা এবং বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ৪. কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় নিয়োজিত সব চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ সংশ্লিষ্ট সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। ৫. যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে আছেন, তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে। ৬. নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। ৭. নদীবেষ্টিত জেলাগুলোতে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে হবে। ৯. পরিচ্ছন্নতা নিশ্চত করা। সারা দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে। ১০. আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। জাতীয় এ দুর্যোগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সব সরকারি কর্মকর্তা যথাযথ ও সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেনÑ এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। ১১. ত্রাণ কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। ১২. দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক যেন অভুক্ত না থাকে। তাদের সাহায্য করতে হবে। খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত তালিকা তৈরি করতে হবে। ১৩. সোশ্যাল সেফটিনেট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ১৪. অর্থনৈতিক কর্মকা- যেন স্থবির না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ নজর দিতে হবে। ১৫. খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, অধিক প্রকার ফসল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে। কোনো জমি যেন পতিত না থাকে। ১৬. সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। যাতে বাজার চালু থাকে। ১৭. সাধারণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ১৮. জনস্বার্থে বাংলা নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে যাতে জনসমাগম না হয়। ঘরে বসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নববর্ষ উদ্যাপন করতে হবে। ১৯. স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারা ও সমাজের সব স্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রশাসন সবাইকে নিয়ে কাজ করবে। ২০. সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ২১. জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করবেন। ২২. সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেমন কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা/ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, পথশিশু, স্বামী পরিত্যক্তা/বিধবা নারী এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখাসহ ত্রাণ সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। ২৩. প্রবীণ নাগরিক ও শিশুদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ২৪. দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি (এসওডি) যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সব সরকারি কর্মচারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ২৫. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও নিয়মিত বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া মনিটরিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ২৬. আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করবেন না। খাদ্যশস্যসহ প্রয়োজনীয় সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ২৭. কৃষকরা নিয়মিত চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। ২৮. সব শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি পর্যায়ে নিজ নিজ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখবেন। ২৯. শিল্প মালিকরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে উৎপাদন অব্যাহত রাখবেন। ৩০. গণমাধ্যমকর্মীরা জনসচেতনতা সৃষ্টিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অসত্য তথ্য যাতে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ৩১. গুজব রটানো বন্ধ করতে হবে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে নানা গুজব রটানো হচ্ছে। গুজবে কান দিবেন না এবং গুজবে বিচলিত হবেন না।

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা জারি করেই বসে থাকেননি, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব উত্তরণের লক্ষ্যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। গত ৫ এপ্রিল সকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি। কর্মপরিকল্পনার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের আওতায় এ টাকা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজগুলো হলোÑ

প্যাকেজ-১ : ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা দেওয়া, ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হবে। ব্যাংক-ক্লায়েন্ট রিলেশনসের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট শিল্প/ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ দেওয়া।

এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণের সুদের অর্ধেক অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ঋণগ্রহীতা শিল্প/ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।

প্যাকেজ-২ : ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা প্রদান : ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হবে।

ব্যাংক ক্লায়েন্ট রিলেশনসের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ দেবে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হারও হবে ৯ শতাংশ। ঋণের ৪ শতাংশ সুদ ঋণগ্রহীতা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।

প্যাকেজ-৩ : বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) সুবিধা বাড়ানো : ব্লক টু ব্লক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানি সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইডিএফের বর্তমান আকার ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। ফলে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অতিরিক্ত ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ইডিএফ তহবিলে যুক্ত হবে।

প্যাকেজ-৪ : প্রিশিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালু করবে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৭ শতাংশ।

প্যাকেজ-৫ : ইতোপূর্বে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন/ভাতা পরিশোধ করার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি আপদকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন চারটিসহ মোট পাঁচটি প্যাকেজে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ হবে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা যা জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

মন্দা মোকাবিলায় এসব প্যাকেজ ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে আশ্চর্য এক সহনশীল ক্ষমতা এবং ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যে জাতি মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছেÑ সে জাতিকে কোনো কিছুই দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’

আসন্ন অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এসব প্যাক ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার দেশের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী সমাজ ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে বিপুল প্রশংসিত হয়েছে। তাই সবাই আশা করছে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে দেশের মানুষ সব বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

লেখক : কবি, কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও গবেষক

[email protected]

 

"