করোনা মোকাবিলায় কঠোরতার বিকল্প নেই

প্রকাশ | ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

জরুরি প্রয়োজন ছাড়াও মানুষ নানা ছলচুতোয় ঘর থেকে বের হয়ে আসছে। কোনো প্রতিবন্ধকতা কিংবা বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করছে না। রাজধানীর অনেক গলির ভেতর এখনো নানা দোকানপাটে শত শত মানুষের ভিড়। সরকার ঘোষিত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত একটানা ছুটি, জরুরি সার্ভিস ব্যতিরেকে অফিস-আদালত, শিল্প-কলকারখানাসহ প্রায় সবকিছু বন্ধ থাকার পরও মানুষ বের হয়ে আসছে রাস্তায়। আর শুধু একা নয়, অনেক ক্ষেত্রে দলে দলেÑ হেঁটে অথবা অন্যবিধ উপায়ে। এতে করোনা সংকটজনিত সমস্যা সমাধানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, নিরাপত্তা বিধান ও সঙ্গনিরোধ কার্যক্রম রীতিমতো হুমকির মুখে পড়েছে। তবে যেকোনো মূল্যেই হোক মানুষের যাতায়াত ও চলাচল সীমিত করতে হবে। এ অবস্থায় বিপর্যয় থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হলো সবার যার যার গৃহে অবস্থান করা।

চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো যেসব দেশ সফলভাবে করোনা মোকাবিলা করেছে, তারা এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল। বাংলাদেশেও এর কোনো বিকল্প নেই। মানুষকে ঘরে রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে। করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই সজাগ ও সচেতন থেকেছেন এবং তদনুযায়ী পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন সময়ে সময়ে। সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে প্রধানমন্ত্রী কিছু প্যাকেজও ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছয় মাস পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য ও আর্থিক প্রণোদনা দুর্গতদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়া, ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি, টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি ইত্যাদি। মাঠপর্যায়ে কাজটি বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে ডিসি, টিএনও অফিসকে। এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সে ক্ষেত্রে আদৌ কোনো দুর্নীতি-অনিয়ম সহ্য করা হবে না, বরং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশে কেউ অভুক্ত থাকবে না। খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে এবং যাবতীয় প্রণোদনা দেওয়া হবে কৃষকদের। তবে এই সংকটেও বাংলাদেশের যেটি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে তা হলো, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। তরি-তরকারি, শাকসবজি, ফলমূল, মাছ-মাংস-দুধ-পোলট্রিতেও বাংলাদেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর ফলে দেশে দুর্ভিক্ষ তো দূরের কথা, খাদ্য সংকটেরও সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এখন দরকার নিয়মিত বাজার তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় প্রশাসন সেদিকে দৃষ্টি রাখছে প্রতিনিয়ত। প্রকারান্তরে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই আত্মবিশ্বাসই প্রতিফলিত হয়েছে, যেটি সাহস ও শক্তি জোগাবে সাধারণ মানুষ ও কৃষককে। এ সময়ে সাধারণ মানুষেরও উচিত হবে ঘরে স্বেচ্ছাবন্দি তথা কোয়ারেন্টাইনে থাকা।

আমরা মনে করি, সরকারের এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করা অত্যন্ত জরুরি। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। মানুষকে বুঝতে হবে, করোনাভাইরাস এমন এক ভাইরাস যার সংক্রমণ অত্যন্ত দ্রুত অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে জানেনও না তারা সংক্রমিত হয়েছেন। ফলে তারা নিজের অজান্তেই রোগটির বিস্তার ঘটাতে পারেন। কাজেই দেশে করোনা মোকাবিলায় কঠোরতার কোনো বিকল্প নেই।

 

"