এই দিনে ঘরে থাকার কোনো বিকল্প নেই

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

মানুষ আজ কোভিড-১৯ নামক এক অভিন্ন শত্রুর মোকাবিলা করছে। প্রাণপণে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে। আর ঘরে বসে থাকা এই যুদ্ধ জয়ের অন্যতম কৌশল। শুধু ঘরে বসে থাকা নয় একের পর এক লকডাউন হচ্ছে পৃথিবীর বড় বড় শহর। এমন দৃশ্য কেউ আগে কখনো দেখেছে কি-না জানা নেই। বাংলাদেশেও এ সংক্রামক ব্যাধির কালো থাবা বিস্তার করেছে। এটা অনুধাবন করতে পেরেই সরকার দেশের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে ঘরে থাকার জন্য। তবে সরকারের সময়োচিত হস্তক্ষেপে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় দেশে করোনাভাইরাস এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ভাইরাসটির কোনো প্রতিষেধক এখনো তৈরি হয়নি। সে কারণে আপাতত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিদিন স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ বিভিন্ন উপদেশ দিচ্ছে। সেইসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে চিকিৎসকসহ সবাই যে বিষয়টির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তা হলো সচেতনতার পাশাপাশি সবাইকে বলা হচ্ছেÑ ঘরে থাকুন। সাধারণ মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সমাজবদ্ধ জনগোষ্ঠীর এই আবহমান বাংলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা খুবই কঠিন কাজ। কিন্তু কোনো উপায় নেই, বিধি বাম সংক্রামক ব্যাধি কোভিড-১৯ থেকে বাঁচতে এর কোনো বিকল্প নেই। দেশের কোনো স্থানে করোনা সন্দেহ করা হলে সেই এলাকা ‘লকডাউন’ করে দেওয়া হচ্ছে। করোনা উপসর্গ দেখা দিলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে কাছাকাছি পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়াও গতি পেয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন পরিচালক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি গত আট দিন রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইইডিসিআরের গত রোববারের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী দেশের ১১টি জেলায় কোভিড-১৯ রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। ঢাকা মহানগরীতে ৩০টি স্থানে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি স্থানে গুচ্ছ আকারে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ছে। আইইডিসিআর বলছে, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে গেছে। এখন ক্লাস্টার থেকে রোগী আসা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ ছুুটির মেয়াদ বেড়েছে।

সরকার যেকোনোভাবে মানুষকে ঘরে রাখতে চাইছে। মানুষের স্থানান্তর বন্ধ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকারি নির্দেশনা মানতে কড়াকড়ি বেড়েছে। কেউ যাতে ঢাকায় ঢুকতে এবং ঢাকা থেকে বেরোতে না পারে সে বিষয়েও পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনাকাক্সিক্ষত মহামারি মোকাবিলায় সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সরকারের একার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। দেশের নাগরিকদেরও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। আপাতত সরকারের নির্দেশনা মেনে শত কষ্ট হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রত্যেকে নিজেদের ঘরে অবস্থান করলেই এ সমস্যা মোকাবিলা করা সরকারের জন্য অনেকটা সহজ হবে। সে বিবেচনায় যত কষ্টই হোক আপনাকে ঘরেই থাকতে হবে।

 

"