মুক্তকণ্ঠ

স্বাধীনতা দিবসে তারুণ্যের ভাবনা

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

স্বাধীনতার ৪৮ বছর শেষ হয়ে ৪৯ বছরে পদার্পণ করল বাংলাদেশ। ৪৮ বছর অতিক্রান্ত করার পর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব কষছে সবাই। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হবে ২০২১ সালে। তারুণ্যের মধ্যে আমেজ সৃষ্টি হয়েছে সুবর্ণজয়ন্তীর। দেশের আগামীর কর্ণধার তারুণ্য সমাজ কী ভাবছে স্বাধীনতা দিবসে। স্বাধীনতার মাসে তাদের ভাবনা নিয়েই আজকের আয়োজন।

১. স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও আমরা বিজয়ের পরিপূর্ণ সুফল পাচ্ছি না। আমাদের এই বিজয় কেবল একটি জাতীয় পতাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈষম্যহীন দেশ গঠনের প্রেরণা। মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সুদীর্ঘ ৪৯ বছর একটি জাতির জন্য কম সময় নয়, কিন্তু এই সুদীর্ঘ সময়ে দেশের মানুষ যে জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল সেই বাক স্বাধীনতা, সেই ভোটাধিকার, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, জননিরাপত্তা আজও সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। প্রতিষ্ঠিত হয়নি মানুষের মৌলিক অধিকার। ক্যাম্পাসে দলীয় ছাত্রসংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্য ও প্রশ্ন ফাঁস শিক্ষা খাতে কাক্সিক্ষত অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করছে। দেশজুড়ে মাদকের ছড়াছড়ি তরুণ সমাজকে অন্ধকার জগতে ঠেলে দিচ্ছে। সর্বোপরি স্বাধীনতার সম্পূর্ণ সুফল পেতে আমাদের একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। Ñ আমজাদ হোসেন, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২. পৃথিবীর ইতিহাসে যতগুলো দেশ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে তার মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস অনেক হৃদয়বিদারক। ‘বাংলাদেশ স্বাধীন’ এই কথাটা উচ্চারণ করতে ৩০ লাখ জীবনকে বিলিয়ে দিতে হয়েছে। স্বাধীনতা বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। জীবনকে আনন্দময় করে তোলে স্বাধীনতা। স্বাধীন দেশে সবাই জীবনকে উপভোগ করবেÑ এটা সবারই কাম্য। কিন্তু আজকাল নাগরিক জীবনের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হচ্ছে দুর্নীতি ও অসাধুতার কারণে। যেটা আমাদের স্বাধীনতাকে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই এই স্বাধীনতার মাসে সবার প্রত্যাশা হোক দুর্নীতি ও অসাধুতাকে রোধ করে স্বাধীনতার রঙে জীবনকে সাজিয়ে শহিদদের আত্মত্যাগকে সম্মান করার।Ñ সাইফুল ইসলাম হাফিজ, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

৩. পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। বাঙালি জাতি স্বাধীনতার সূর্য সেদিন ছিনিয়ে এনেছিল ঠিকই, কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা কতটুকু স্বাধীন হতে পেরেছি? কতটুকু পেয়েছি স্বাধীনতার স্বাদ? রয়ে গেছে আমাদের দারিদ্র্য, বঞ্চনা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি; যা স্বাধীনতার স্বাদ নষ্ট করছে। তার পরও বলি আমরা স্বাধীন। দেশটা স্বাধীন কিন্তু আমরা পরাধীন। আর এই পরাধীনতার দায় আমাদের। আমরা যদি সবাই মিলে এক সুরে আবার বলতে পারি কথা, লড়াই করতে পারি, সাম্প্রদায়িকতা থেকে শুরু করে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গি, স্বাধীনতার সব শত্রুর বিরুদ্ধে। একাত্তরের মতো আমরা আবার চিন্তা ও মননে হব স্বাধীন। ফিরে পাব স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ। Ñ হোসনেয়ারা খাতুন, শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

৪. ২৬ মার্চ ১৯৭১। এই দিনে সাত কোটি বাঙালির প্রতিজ্ঞা, সংকল্প, দৃঢ়তা আর মুষ্টিবদ্ধ হাত হয়েছিল এক। সঙ্গে রক্তে জেগে ছিল তেজ, চিন্তায় ছিল প্রখরতা, চোখে ছিল প্রত্যয়; যা বাঙালিকে বিজয় এনে দিয়েছে। আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা উপহার দিয়েছে। কিন্তু বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রধান উপজীব্য যে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসংকীর্ণ অর্থে জাতীয়তাবাদ তা এখনো কাক্সিক্ষত গন্তব্য খুঁজে পায়নি। যে যাত্রা নিরন্তর। তবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করাটা আরো বেশি প্রাসঙ্গিক আর সত্যিকার অর্থে এটারই প্রচন্ড অভাব। তারুণ্যর স্বাধীনতার ৪৯-এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি।Ñ সোয়াদুজ্জামান সোয়াদ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

৫. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল শুধু নিজস্ব একটি ভূখন্ডের জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু এতগুলো বছর পার করেও আমরা সেই উদ্দেশ্যগুলো পুরোপুরি পূরণ করতে পারিনি। বিগত ১০ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটলেও এখনো আমাদের দেশটা বেকারত্ব, দুর্নীতি, নারীর নিরাপত্তাহীনতা, সীমান্ত হত্যা, কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করতে না পারাসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে যেই শিক্ষা ক্ষেত্রকে একটি জাতির মেরুদন্ড বলা হয়; সেই শিক্ষা ক্ষেত্রেই আমরা কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করতে পারিনি। স্বাধীনতার ৪৯তম বর্ষপূর্তিতে সরকার এসব সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করবে এবং আমাদের প্রিয় দেশটি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবেÑ এটাই প্রত্যাশা। Ñ ফাতেমা তুজ জিনিয়া, শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

৬. জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে গর্বিত জাতির ৪৯তম মহান স্বাধীনতা দিবসে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত দেশের প্রতিজ্ঞা করি। বাংলাদেশ সরকার, প্রশাসন ও জনগণের শুধু সচেতনতা দিয়েই হবে না, সবাই সবার জায়গা থেকে দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসলে অবৈধ কাজ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত দেশ গড়ি, ভবিষ্যৎ সুন্দর করি। Ñমোমেনা আক্তার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

সমন্বয়ক : পল্লব আহমেদ সিয়াম

 

 

"