বৃহৎশক্তির সহযোগিতা চাই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ঘোষিত অন্তর্বর্তী আদেশকে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের বড় বিজয় বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শুধু চীন-ভারত নয়, এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের পাশে দরকার। আইসিজে একটি ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক ও যুগান্তকারী এই আদেশে বিশ্বব্যপী মানবতাবাদী মানুষের মনে বয়ে এনেছে প্রশান্তি। আদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্যানেলের ১৭ জন বিচারকের সবাই অভিন্ন মতে একাট্টা হয়েই এ আদেশ দিয়েছেন। প্যানেলের সবাই অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তারা একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী চরম অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। চীন, ভারত, জাপান ও রাশিয়ার বিচারকরাও আদালতের আদেশে সমর্থন দিয়েছেন। এই আদেশ দেওয়ার বিষয়ে বিচারকদের সর্বসম্মতি সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আদেশটি দৃষ্টান্তমূলক ও যুগান্তকারী এ কথা সত্য, তবে প্রয়োগটি যথাযথ হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থাকলেও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অং সান সু চির আবেদন খারিজ হওয়ার পর গণহত্যার অভিযোগে রাষ্ট্রটি আসামির কাঠগড়ায়। আর এটাই হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের অব্যাহত কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টিতে বাংলাদেশের সক্রিয় হয়ে ওঠার সঠিক সময়। আদালতের আদেশ ব্যাপক আশাবাদ জাগালেও সমস্যা সমাধানের পথটি যে অনেক লম্বা, তা বাদী গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রীর আবু বকর তামবাদুর মন্তব্য থেকেই অনুমান করা যায়। তিনি বলেছেন, এই আদেশ এক দিনে রোহিঙ্গাদের জীবন বদলে দেবে না। তবে এটি একটি প্রক্রিয়ার সূচনা, যার মাধ্যমে রোহিঙ্গারা এক দিন নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফিরে যেতে পারবেন।

আমরা মনে করি, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এই আদেশ রোহিঙ্গা জাতিসত্তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন যথাযথ মর্যাদায় রোহিঙ্গাদের নিজভূমে ফিরে যাওয়াটাই শেষ সমাধান। নিধনযজ্ঞের কারণে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এটি বাংলাদেশের মতো একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের ওপর বাড়তি বোঝা। বিশেষজ্ঞদের মতে, চূড়ান্ত রায় হতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু প্রাথমিক রায়ে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে যে নির্দেশনা এসেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন দরকার। আদেশের কারণেই আন্তর্জাতিক মহলকে পাশে পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীন, ভারত ও রাশিয়ার কূটনৈতিক ও অন্য স্বার্থের কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান জটিল হয়ে উঠেছে। তারা বলেছেন, চীন ও ভারত চাইলে সমাধান হতে পারত। তবে তারা নিজেদের স্বার্থের কারণে রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্ব দেয়নি। এ কথা দিবালোকের মতো সত্য, চীনের বড় স্বার্থ এখন মিয়ানমারের মাটিতেই পড়ে আছে। ভারতও মিয়ানমারকে ত্যাগ করতে পারছে না তাদের স্বার্থের কারণে। এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ খুব জরুরি হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সমঝোতা হলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সহজ হবে। আমরা জানি, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আর এজন্য রাশিয়াসহ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো প্রদানকারী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে উন্নত করার কৌশলের দিকে যাত্রা করাটাই হবে সমস্যা সমাধানের উৎকৃষ্ট পথ।

 

"