টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই আমাদের প্রত্যাশা

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দূষণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। বিষয়টি এখন কেবল দেশের অভ্যন্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মহানগরী ঢাকাকে ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন’ ঘোষণা করা দরকার বলে মত দিয়েছেন আদালত। বুড়িগঙ্গা দূষণ রোধ-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানিতে আদালত এ মন্তব্য করেন। শুনানির একপর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেছেন, পত্রপত্রিকায় দেখলাম ঢাকা পৃথিবীর দূষণতম শহরে স্ট্যান্ড করে বসে আছে। ঢাকার অবস্থান এখন দুই অথবা তিন নম্বরে। আর এখন প্রতিবেশ সংকটাপন্ন হিসেবে এটিকে ঘোষণা দেওয়া দরকার। আদালতের এই মন্তব্যের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমরা একই দিনে প্রকাশিত আরো একটি সংবাদের দিকে দৃষ্টি দিতে পারি। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তিনি আরো বলেন, ছোট ছোট বর্জ্য ধীরে ধীরে পাহাড় সমান সমস্যা তৈরি করছে। এতে আমাদের সব উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে। আর সে কারণেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সঠিক উপায় ও কৌশল গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানে সব ধরনের বর্জ্যকে ডাম্পিং করা হয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করছে। সুতরাং সময় এসেছে এখনই সঠিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর উচ্চারিত শব্দাবলির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত হয়ে বলতে হয়, প্রকৃত অর্থেই সময় এসেছে এখনই সঠিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার। দেরি হয়ে গেলে সংকট আরো ঘনীভূত হবে। কোনো দেশপ্রেমিকই দেশের কোনো সংকটকে দীর্ঘায়িত অথবা ঘনীভূত হতে দেওয়ার পক্ষে সমর্থন দেয় না। মন্ত্রী মহোদয় যে আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আমরা তার বাস্তবায়নও দেখতে পাব বলেই আমাদের বিশ্বাস।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ টেনে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, উন্নত দেশগুলোতে দুই ধরনের বর্জ্য হয়ে থাকে; যার একটি ইনঅর্গানিক অপরটি অর্গানিক। ইনঅর্গানিক যেসব বর্জ্য আছে; সেগুলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্টে দিয়ে এনার্জি উৎপাদন করা হয় আর অর্গানিক বর্জ্য ব্যবহার করা হয় জৈব সার উৎপাদনে। আমরাও সেই পথ অনুসরণ করছি। এ ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট দেশের প্রতিটি পৌরসভাসহ বিভাগীয় শহরে নির্মাণের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ।

আমরা মনে করি, এ কাজ খুব একটা সহজ কাজ নয়। এর জন্য প্রথমেই প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতা। তাদের সহযোগিতা ছাড়া সফলতা পাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়বে। ইসলামের দৃষ্টিতে পরিচ্ছন্নতা ইমানের একটি অঙ্গ। সুতরাং নগর-মহানগরকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সর্বাগ্রে দেশের নাগরিককেই নিতে হবে। অনৈতিকভাবে ব্যক্তিগত লাভের কথা পরিত্যাগ করে বৃহত্তর জনসমষ্টির লাভকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর সরকার করবে বাকি অংশ। আমরা যদি মানসিকভাবে আমাদের দৈনতাকে দূর করতে না পারি, তাহলে কোনো উন্নয়নই তার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে না। অতএব আসুন, নিজেরা মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে আমাদের নগর-মহানগরকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। আর মুজিবশতবর্ষে এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

"