ট্রান্সশিপমেন্টে বন্দর চট্টগ্রাম : স্বাগতম

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সমঝোতা চুক্তি হয়েছে ২০১৮ সালে। এ মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম শুরু হবে। আর এই দুই দেশের মধ্যে জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরকে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের কাছে পরিচিতি পাবে বাংলাদেশ। চলতি মাসেই চট্টগ্রাম বন্দর ও ভারতের কলকাতা বন্দরের মধ্যে দুটি পরীক্ষামূলক জাহাজ চলাচল করবে। এরপরই শুরু হবে নিয়মিত চলাচল। তথ্য মতে, ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। ট্রান্সশিপমেন্ট চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে কম খরচে দ্রুত সময়ে পণ্য পরিবহনের সুবিধা পাবে। বিপরীতে বাংলাদেশের হবে আর্থিক লাভ।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে এবার কনটেইনার পণ্য পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩১ লাখ টিইউএস; যা গতবারের তুলনায় অনেকটা বেশি। যা ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কাছাকাছি। তথ্য মতে, ট্রান্সশিপমেন্ট চালু হওয়ার পর যাতে বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনার পণ্য রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের সমস্যায় পড়তে না হয় তার ব্যবস্থা এরই মধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। আর দ্রুততম সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সারে চার লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং ধারণক্ষমতাসম্পন্ন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) কাজ শেষ হতে চলেছে। এরই মধ্যে এ প্রকল্পের ৫২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ১৪ মিলিয়ন টিইউএস এ উন্নীত হবে। বর্তমানে যা ৩ মিলিয়নে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আর আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এরই মধ্যে বে-টার্মিনালের দেড় হাজার মিটার মালিটিপারপাস টার্মিনালের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা।

বন্দরের সক্ষমতা আগের তুলনায় এখন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ এ ক্ষমতা আরো কয়েক গুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে চট্টগ্রাম বন্দরের এ উন্নয়নকে একটি ইতিবাচক সংযোজন বলেই মনে করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশের অর্থনীতির চাকা আরো গতিশীল হবে, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে। এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বাংলাদেশের উন্নয়নকে বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অভাবনীয় উল্লেখ করে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। নিকটতম প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, ‘বিস্ময়কর’।

আমরা মনে করি, আগামী দিনেও এই প্রশংসার ধারা অব্যাহত থাকবে। কেবল ভারতই নয়, একদিন বিশ্বের সব দেশের মুখে এই প্রশংসা বাণী উচ্চারিত হবে। তবে একটি বিষয়ে আমরা সচেতন হতে পারলে সে দিন আসতে খুব একটা কালক্ষেপণ হবে না। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারলেই খুব সহজেই আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। আমরা এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। এ কাজে যারা দায়িত্বরত রয়েছেন, তাদের প্রতি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ রইল।

 

 

"