ইছামতি রক্ষায় এগিয়ে আসুন

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

একসময় দেশটাকে বলা হতো নদীমাতৃক। এখন তা নেই। নামে থাকলেও বিপন্ন অস্তিত্ব। যদি প্রশ্ন করা হয়, এই বিপন্নতার জন্য দায়ী কে? উত্তরটা খুবই সহজ। ওপরে থুতু ছেটালে তা নিজের গায়ে এসে পড়বে। আর এটাই হচ্ছে উত্তর। নদীগুলোকে জীর্ণশীর্ণ, নোংরা এবং মৃতপ্রায় করে তোলার পেছনে আমাদের লোভ-লালসা এবং ভোগবাদী চিন্তাই দায়ী। আমরা বলতে সমাজে বসবাসকারী আত্মচিন্তায় নিমজ্জিত বিবেকবর্জিত ভোগবাদী মানুষগুলোকেই বোঝানো হয়েছে। ভোগের প্রশ্নে এদের কোনো বাছবিচার নেই। এরা সর্বভুক। এদের একটি অংশ ভূমিখাদক। গোগ্রাসে এদের একটি অংশ একটি নদীকে গিলে ফেলার ক্ষমতা রাখেন। বৃক্ষ ভক্ষণ করতে করতে এদের একটি অংশ আবার বন উজাড় করেছেন- এমন দৃষ্টান্তও বিরল নয়। ভোগের প্রশ্নে এদের চিন্তা ও চেতনায় কোনো সীমারেখা নেই। এরা ভূমি, বৃক্ষ ও নদীখাদক। ভূমি, নদী ও বৃক্ষের ওপর দস্যুতাই এদের কর্ম।

যে কর্ম কখনোই কোনো রাষ্ট্রের জন্য, জাতি ও প্রকৃতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনেনি। আমরা মনে করি, এদের রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে বিচারের জন্য আদালতের মুখোমুখি দাঁড় করানো হোক।

মানবদেহের শিরা-উপশিরা যেমন নদী-উপনদী বা খালের ভূমিকা পালন করে - একইভাবে একটি রাষ্ট্রের নদী, উপনদী বা খাল সেই রাষ্ট্রের শিরা-উপশিরা হিসেবে কাজ করে। শিরা-উপশিরা বন্ধ হয়ে পড়লে মানুষ যেমন ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে; একইভাবে নদীর চলাচল রুদ্ধ হয়ে পড়লে রাষ্ট্র বা জাতির নিঃশ্বাস বন্ধ হতে বাধ্য। এ কথা জানার পরও আমরা সেই অনৈতিক চরম ভোগবাদী চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। আসার কোনো সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারিনি। ঢাকার নবাবগঞ্জে একসময়ের টলমলে ইছামতি নদীর পানি এখন পরিবেশদূষণ ছাড়া আর কোনো কাজে সাড়া জাগাতে পারছে না, ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পানির অস্তিত্ব। পানি এখন নগরের হাটবাজার, হাসপাতাল ও কল-কারখানার বর্জ্যে দূষিত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। দুর্গন্ধের কারণে পানির ওপর দিয়ে অথবা পাশ দিয়ে চলাচলও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। পরিবেশ হয়ে পড়েছে অস্বাস্থ্যকর। পাশাপাশি নদীখাদকদের নখের আঁচড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে ইছামতি। একসময়ের যৌবনভরা ইছামতি আজ কুষ্ঠরোগীর মতো পড়ে আছে আমাদের সীমাহীন উদাসীনতার জীর্ণ বিছানায়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা দেশে খাল-বিল ও নদীখেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও নবাবগঞ্জে তার চিহ্নটুকুও খুঁজে পাওয়া যায়নি। নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি নদী কমিশন। আমরা মনে করি, এই উদাসীনতা থেকে রাষ্ট্র, সরকার এবং সাধারণ মানুষকেই সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে। কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও বাস্তবায়নকে নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেহের শিরা-উপশিরার রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে মানবদেহ যেমন অপাংতেয় হয়ে পড়ে, রাষ্ট্রের দেহ থেকে শিরা-উপশিরাগুলো হারিয়ে গেলে দেশ ও জাতি উভয়েই অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হবে। আমরা সেই সংকটের মুখোমুখি হতে চাই না। তাই সময় থাকতে সাবধান হওয়াটাই শ্রেয়।

"