বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ দরকার

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে মৃত্যুর তৃতীয় সর্বোচ্চ কারণ বায়ুদূষণ। এ দূষণের কারণে গড় আয়ুও সবচেয়ে বেশি কমছে বাংলাদেশে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট (এইচইআই) ও দ্য ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন (আইএইচএমই) প্রতি বছর বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০১৭ সালের তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাদ্বয় সম্প্রতি চলতি বছরের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০১৭ সালে বায়ুদূষণে মারা গেছে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ, মোট মৃত্যুর যা ১৪ শতাংশ। এ ছাড়া বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশিদের আয়ু কমছে গড়ে ১ বছর ১০ মাস। গড় আয়ু কমার এ হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। প্রতিবেদনে যে তথ্য এসেছে, বাংলাদেশের জন্য তা একটি অশনিসংকেত। আমরা মনে করি, শুধু অশনিসংকেতের মাঝে বিষয়টি স্থির থাকতে পারে না। আরো বড় কোনো সংকেত ধেয়ে আসছে এই পাললিক ভূমিতে। কেননা মৃত্যুর চেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠছে গড় আয়ু কমে যাওয়ার বিষয়টি। বায়ুদূষণের কারণে বাড়ছে ফুসফুসে সংক্রমণ। এই সংক্রমণ বাড়াতে পারে মৃতের সংখ্যা। কমাতে পারে গড় আয়ু। অসুস্থ লোকের সংখ্যা বাড়াতে পারে চক্রবৃদ্ধি হারে। বায়ুদূষণের কবলে পড়া একটি দেশের ফুসফুস আক্রান্ত হলে দেশটাই পরিণত হতে পারে বিকলাঙ্গের দেশে। সুতরাং সময় থাকতে সাবধানতা অবলম্বনই উত্তরণের একমাত্র পথ। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, সততার সঙ্গে তার বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়াদির ওপর ব্যাপক গণসচেতনতা বৃদ্ধি। এইচইআই এবং আইএইচএমইর প্রতিবেদন মতে, ফুসফুসজনিত রোগে মৃত্যুর ৪৯ শতাংশ হয় বায়ুদূষণের কারণে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের পুরো জনগোষ্ঠীই বায়ুদূষণের মধ্যে আছে। এর মধ্যে বেশি ঝুঁকিতে আছে ঢাকার বাসিন্দারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত শিল্প, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ইটভাটা ও নির্মাণকাজে দূষণ-প্রতিরোধী ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। তারা বলেছেন, ইটভাটার কারণে সূক্ষ্ম ধূলিকণা বাতাসে মিশে যায়। এ ছাড়া নির্মাণকাজের সময় নিয়ম না মেনে মাটি ও বালুসহ অন্য নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন যত্রতত্র ফেলে রাখার কারণেও বায়ুদূষণ হচ্ছে। বিশেষ করে যানবাহনের কালো ধোঁয়া ঢাকা শহরের বায়ুদূষণকে সহনশীলতার শেষ সীমায় এনে দাঁড় করিয়েছে। আর এভাবে বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়তে থাকলে এক দিন ঢাকা শহর মনুষ্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। আমরা মনে করি, এখানেই সমাজচিত্রের যবনিকা টানা যাবে না। আরো কয়েক অঙ্কের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে। এ মুহূর্ত থেকে আমরা যদি সচেতন না হই তাহলে একসময় পুরো দেশটা ফুসফুসে আক্রান্ত হবে। আমরা এক বিকলাঙ্গ জাতিতে পরিণত হব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মান অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটারে বাতাসে পিএম২.৫-এর সহনীয় মাত্রা ১০ মাইক্রোগ্রাম। বাংলাদেশে এর পরিমাণ ৬১ মাইক্রোগ্রাম। আর ঢাকার বাতাসে রয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি পিএম। অতএব বায়ুদূষণ থেকে ঢাকাকে বাঁচাতে হলে সর্বাধিক গুরুত্বসহকারে ঢাকাবাসীকেই এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে সরকার ও রাষ্ট্রকে।

"