বিদ্যুৎ বিতরণ আরো মসৃণ হোক

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বিদ্যুৎ নিয়ে টানাপড়েনের দিন মনে হয় শেষ হয়ে আসছে। অন্তত দেশের একটি অংশে বিদ্যুৎ সংকট যখন থাকছে না তখন বলা যায়, আরো মসৃণ হবে বিদ্যুৎ বিতরণ। আমরা জানি, উৎপাদন এবং সরবরাহে ঘাটতি না থাকলে বাজার স্থির থাকে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বলা যায়, চট্টগ্রামে সেই বাজার ফিরে এসেছে। বিদ্যুৎ নিয়ে স্বস্তিতে এখন চট্টগ্রামবাসী। আগের মতো লোডশেডিং নেই। কোনো কারণে বিদ্যুৎবিপর্যয় হলে সেবা মিলছে যথাসম্ভব দ্রুতগতিতে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সেবার মান বেড়েছে কয়েক গুণ। কিছুদিন আগেও বিদ্যুৎ নিয়ে অভিযোগ জানাতে লম্বা লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন আর তা হয় না। অনেকটা গণমুখী হয়েছে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিভাগ। আগে যেখানে বিদ্যুতের অভিযোগ নিয়ে প্রকৌশলীদের কাছে দেখা করতে পারতেন না গ্রাহকরা, এখন প্রকৌশলীরাই অপেক্ষায় থাকেন জবাব দিতে। আর এ পরিবর্তনের মূলে কাজ করেছে আধুনিক প্রযুক্তি। মিটার পদ্ধতি ডিজিটাল করায় চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ আজ এ পর্যায়ে এসে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মিটার পদ্ধতি ডিজিটাল করার ফলে গ্রাহকরা যেকোনো দোকান থেকে টাকা ঢুকিয়ে নিজের সংযোগ সচল করতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম এগিয়ে গেলেও দেশের অন্যান্য অঞ্চল এখনো এই সুবিধার বাইরে রয়েছে। সন্দীপকে এখনো বিদ্যুৎ স্পর্শই করেনি। থাকতে হয় অন্ধকারে। অথচ একই দেশের একটি উপজেলার মানুষ এভাবেই বছরের পর বছর বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তবে অনেক দেরিতে হলেও তাদের জন্য সুখবর আছে। আগামী ২০৪১ সালকে টার্গেট করে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে এখানে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনকে সামনে রেখে সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে মহেশখালীতে। এখানে ১০ হাজার ৩১৪ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগের সূত্র মতে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, বোয়ালখালী ও সীতাকু- উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হয়েছে। পটিয়া ও হাটহাজারী উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হওয়ার পথে। এ ছাড়া সাতকানিয়া ও চন্দনাইশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হয়েছে। কক্সবাজার সদর, রামু, চকরিয়া, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অবিদ্যুতায়িত এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজও শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হওয়ার পর রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতিও পরিলক্ষিত হচ্ছে।

আমরা মনে করি, চট্টগ্রামের মতো একই সুবিধা অন্যান্য অঞ্চলও পাওয়ার দাবি রাখে। সরকার নিশ্চয়ই তাদের কথাও ভাববে গুরুত্বসহকারে। দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে এ সুবিধা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং সরকার তা সততার সঙ্গে পালন করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

"