সফল হোক নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

একটি শহরে চার-পাঁচ মিনিট বৃষ্টির পর পাওয়া যায় পরিচ্ছন্ন পানি; যা সরাসরি পানযোগ্য। প্রকৃতির অমূল্য এই সম্পদ যদি সংরক্ষণ করা যেত, তাহলে রাস্তার পানি শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কমে যেত। কমে যেত ঢাকার এই অসহনীয় জলাবদ্ধতা এবং যানজটের দুর্ভোগ। শুধু যানজটের কারণে ঢাকা শহরেই বছরে বাণিজ্যিক ক্ষতির পরিমাণ ২১ কোটি টাকারও বেশি। রাজধানীতে বর্তমানে পৌনে ২ কোটিরও বেশি লোকের বসবাস। তাদের পানির চাহিদা মেটাতে সিংহভাগ সংগ্রহ করা হচ্ছে ভূগর্ভ থেকে। এতে প্রতি বছর তিন থেকে সাড়ে তিন মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। এতে উপরিস্তরের মাটি হুমকির মুখে পড়ছে। ভবিষ্যতে পানি সংকটে পড়ার সম্ভাবনার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণা বলছে, বৃষ্টির পানি থেকে মোট চাহিদার ১৫ থেকে ২০ ভাগ পূরণ করা সম্ভব। এ ছাড়া রয়েছে পানি রিচার্জ করে বৃষ্টির পানি ভূগর্ভে পাঠানোর ব্যবস্থা। কিন্তু এত দিন আমরা এর কোনোটাই গ্রহণ করিনি। তীর্থের কাকের মতো কেবল ভবিত্যবের দিকেই তাকিয়ে আছি। সম্ভবত এখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী ঠিক সে মুহূর্তেই বলেছেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে না পারলে আমাদের গুরুতর পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে। গুরুতর পরিণতি মোকাবিলায় সর্বাগ্রে বৃষ্টির পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যেই সে কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ৪ হাজার ৭০০ জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সব নদীর নাব্য ধরে রেখে তা জলাধার হিসেবে ব্যবহার করতে নদী খননের কাজ এগিয়ে চলেছে। পরিস্রবণের মাধ্যমে ৭ হাজার পুকুরের লবণাক্ততা সরানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎসের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া প্রত্যেক মানুষের দরোজায় সুপেয়পানি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। সরকারের এ ঘোষণায় আমরা আশাবাদী। তবে সমাজে লুকিয়ে থাকা উইপোকার হাত থেকে এসব প্রকল্পকে রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকা দরকার বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এদের কারণে সরকারের এ মহৎ উদ্যোগ মাঝপথেই যেন শেষ হয়ে না যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ওয়াসার কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশমান নয়। তবে বৃষ্টির পানিকে রিচার্জ করে ভূগর্ভে পাঠানোর বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। কৃত্রিম উপায়ে পানি ধরে রেখে ছাদের পানি পাইপের মাধ্যমে মাটির নিচে পাঠানো এবং সেই পানি আবার খাবারের জন্য উত্তোলন করার বিষয়ে ঢাকা ওয়াসা একটি পাইলট প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এবং তাতে বেশ সফলতাও পাওয়া গেছে। বৃষ্টির পানিকে রিচার্জ করে পুনরায় মাটির গর্ভে পাঠানোর এ পদ্ধতি কিছু কিছু ভবনে এরই মধ্যে চালু করা হয়েছে। তবে তার সংখ্যা খুবই নগণ্য। ভবিষ্যতে বাড়ির নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। আমরা মনে করি, জরুরি ভিত্তিতেই এ ব্যবস্থাকে সচল করতে হবে। কেবল নতুনের ক্ষেত্রেই নয়, পুরোনো স্থাপনার ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে আমরা একটি নান্দনিক নগর উপহার পাওয়ার পথে কিছুটা হলেও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।

"