শুভশক্তির জয় হোক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

আজ বিজয়া দশমী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপনী দিন। বোধনের মধ্য দিয়ে যে দেবীর আগমন ঘটেছিল মর্ত্য,ে আজ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি ফিরে যাবেন কৈলাসধামে। অশুভশক্তির প্রতীক অসুরদের দলপতি মহিষাসুরকে বধ করে দেবী দুর্গা দেবকুলকে রক্ষা করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়েছিল অন্যায় ও অশুভশক্তির পরাজয়, ন্যায় ও শুভশক্তির জয়। তিনি যেমন মানুষকে মহৎ হতে প্রাণিত করেন; তেমনি মানুষের মনের দৈন্য ও কলুষতা দূর করেন। মানবের জন্য বহন করে আনেন মঙ্গলবার্তা।

বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমুন্নত রাখার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই শারদীয় দুর্গোৎসব। পুরাকালে দুর্গাদেবী শক্তিদেবী হিসেবে পূজিত হলেও ভক্তের অন্তরের কাছে তিনি চিরকালই মাতৃরূপিণী। জগতের সব ধরনের আসুরিক শক্তি বিনাশপূর্বক দেবী দুর্গা মানবহৃদয়ে সততা, শক্তি ও প্রেমভক্তিরস জাগ্রত করেন। সংগত কারণে দেবী দুর্গা কখনো শক্তিরূপিণী, মাতৃরূপিণী, ধনরূপিণী, আবার কখনো শত্রুবিনাশিনী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা এখন আর শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও উৎসব ঘিরে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ করা যায়। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও শারদীয় উৎসব গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। দেবী দুর্গার শ্রীমূর্তি দর্শনে সব বর্ণ-ধর্মের মানুষের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে পূজামন্ডপগুলো। ধূপের ধোঁয়া, শঙ্খ, উলুধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যে এ উৎসব পরিণত হয় মহোৎসবে। উৎসব মানুষের মনকে কলুষমুক্ত করে প্রফুল্ল করে তোলে। পূজাও উৎসবমুখর পরিবেশ মানুষকে উদার হতে শেখায়। এ সময় সব বাধা, ব্যবধান ও বিভেদের প্রাচীর ছোট হয়ে আসে। বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় ধর্মীয় উৎসবগুলো। ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের লোকেরা এসব উৎসবে একত্রিত হয়ে উৎসবকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে। যদিও অনেক সময় দেখা যায়, একশ্রেণির উগ্রগোষ্ঠী এসবের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে সম্প্রীতিতে আঘাত করার অপচেষ্টা করে থাকে। এ ধরনের কর্মকান্ড কোনো জাতির জন্য শুভ ফল বয়ে আনে না। বিগত বছরগুলোতে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার নির্বিঘœ ও শান্তিপূর্ণভাবেই শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে। আর শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘœ পালনের জন্য প্রতি বছরের মতো এবারও সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। আমরা মনে করি, নির্বিঘেœ শারদীয় দুর্গোৎসব পালনের মধ্য দিয়ে নিজেদের ভ্রাতৃত্ববোধেরও জাগরণ ঘটবে। সর্বত্র সুন্দরের অধিষ্ঠান ঘটবে। নিজেদের পারস্পরিক সুসম্পর্ক এবং পরম ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের মধ্য দিয়ে পরাজিত হবে সব রকমের অপশক্তি।

আমরা চাই, শুধু এ দেশ নয়, গোটা বিশ্ব থেকে সব অশুভশক্তির বিনাশ ঘটুক। মর্ত্যলোক থেকে দেবী দুর্গার বিসর্জনের সঙ্গে বিসর্জিত হোক সব অপশক্তির। আজ শুভ বিজয়ার দিনে আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জানাই আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। পাশাপাশি এই দিনে আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকুক। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কাছে দূর হোক সব বিভেদনীতি। শক্তিশালী হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দের ধারা। শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে বিশ্বে সত্য, ন্যায় ও শুভশক্তির জয় হোক।

 

"