অনন্য বালিকা গ্রেটা থুনবার্গ

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সংখ্যা খুবই কম। কম হলেও, যুগে যুগে তাদের মতো মানুষের আবির্ভাব হয় বলে পৃথিবী এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তারা আসেন পৃথিবীতে জমে থাকা দীর্ঘদিনের আবর্জনা পরিষ্কার করতে। আর সে কারণেই তারা জন্মগ্রহণ করেন না। আবির্ভূত হন। সমাজের দেহে এবং মানব মনে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করাই তাদের কাজ। বিশ্ব আজ এক আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করেছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে আবর্জনা। আর সেই আবর্জনার ভারে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এই পৃথিবী। তাকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য আবির্ভূত হয়েছেন একজন। যার বয়স মাত্র ১৫ বছর। সুইডেনের নাগরিক তিনি। এক দিন স্কুলে না গিয়ে একটা প্ল্যাকার্ড নিয়ে একা দাঁড়িয়ে গেলেন সুইডেন পার্লামেন্টের সামনে। এ বিশ্বকে শিশুদের জন্য বাসযোগ্য করাই তার লক্ষ্য। তার দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ বিশ্ব যে আসন্ন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, সেই বিপর্যয় থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা। বালিকার নাম গ্রেটা থুনবার্গ। তিনি টানা দুই সপ্তাহ প্ল্যাকার্ডসহ প্রতিবাদস্বরূপ সুইডেন পার্লামেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। লিফলেট বিলি করেন। লিফলেটে লেখা ছিল, ‘আমি এসব করছি কারণ তোমরা, বড়রা আমাদের ভবিষ্যতের পথ আগলে আছো’। গ্রেটার এই কর্মকা- প্রথমে সুইডেনবাসীকে আন্দোলিত করে। দ্রুত একলা চলা এই বালিকার পাশে দাঁড়ায় পুরো বিশ্বের শতকোটি মানুষ।

গ্রেটা নিজে যেমন স্কুল বাদ দিয়ে পথে নেমেছিলেন, তেমনি তিনি অন্যদেরও আহ্বান জানান জলবায়ুর দাবির সমর্থনে প্রতি শুক্রবার স্কুল ধর্মঘটের। ইউরোপ-আমেরিকার নানা শহর জুড়ে তরুণরা তার আহ্বানে স্কুল ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে থুনবার্গের এ বার্তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। বিশ্বের পরিবেশবাদীরা তার পাশে দাঁড়ায়। বিশ্বের পরিবেশবাদীরা এত দিন যা পারেননি, এক পঞ্চদশী তা করে দেখালেন। তার কোনো দল ছিল না। কোনো রাজনীতির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। জলবায়ু আন্দোলনবিরোধীদের বিরুদ্ধে তিনি একাই দাঁড়িয়েছিলেন। শুধু একটি প্ল্যাকার্ড ছিল তার সঙ্গী। আজ তিনি জলবায়ু আন্দোলনের মুখপাত্র। কারো কারো চোখে তিনি হয়ে উঠেছেন এক ‘জোয়ান অব আর্ক’। এরই মধ্যে তিনি বিকল্প নোবেল পুরস্কার হিসেবে পরিচিত সুইডেনের ‘রাইট লাইভলিহুড’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য অন্যদের সঙ্গে তাকেও মনোনীত করা হয়েছে। এসবই তার অর্জন। সৎচিন্তা এবং সৎকর্ম তাকে এখানে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে গ্রেটা এক আবেগঘন বক্তৃতায় বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘তোমরা ফাঁকা বুলি দিয়ে আমার স্বপ্ন, আমার শৈশব কেড়ে নিয়েছো। মানুষ মারা যাচ্ছে। সারা বিশ্বের ইকোসিস্টেম ভেঙে যাচ্ছে। কিন্তু তোমরা অর্থের আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রূপকথা শোনাচ্ছো। এত সাহস তোমরা পাও কোথায়?’ এ ভাষণ ইন্টারনেটে লাখো কোটিবার মানুষ শুনেছে। ভাষণকে বলা হয়েছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের গেটিসবার্গ বক্তৃতা’। আমরা মনে করি, সততা, একাগ্রতা, সাহস এবং নিজের ওপর বিশ্বাস একজন মানুষকে কতটা সাফল্য এবং সম্মান এনে দিতে পারে গ্রেটা থুনবার্গ তারই এক অনন্য উদাহরণ। আসুন গ্রেটার স্বপ্নের সেই পৃথিবী গড়তে আমরা পঞ্চদশী বালিকাকে অনুসরণ করি।

 

"