ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকুক

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

ঝড়-বৃষ্টি-বন্যার দেশ বাংলাদেশ। এগুলো সঙ্গে নিয়ে চলাটাই আমাদের স্বভাবজাত। তারপরও কথা থাকে। ঝড়-বৃষ্টি-বন্যাকে এ দেশের মানুষ দুর্যোগ বলেই মনে করে। কেননা, এই ত্রয়ী সব সময়ই আমাদের জীবনে ধ্বংসের প্রতীক হয়ে এসেছে। সম্প্রতি আমরা আরো একটি ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছি। ক্যাসিনো প্রতিরোধ করতে গিয়ে সরকার যে ঝড় তুলেছে, সেটিই ক্যাসিনো-ঝড়। আর এই ঝড় সমাজে যে আলোড়ন তুলেছে, তা মানবসভ্যতার পক্ষে কাজ করে একটি উদাহরণ তৈরিতে সক্ষম হয়েছে।

ক্যাসিনো বিশ্বজুড়ে একটি রমরমা ব্যবসা। এ দেশে এর কোনো প্রচলন ছিল না। ছিল না বৈধতা। দীর্ঘসময় ধরে অবৈধপথে হাঁটতে হাঁটতে এটি আজকের অবস্থানে এসে পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছে। ঝাঁকুনিটা অবশ্য ক্যাসিনো দেয়নি। দিয়েছে সরকার। অবৈধ এ ব্যবসাকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে সরকার যে জিরো টলারেন্সের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ক্যাসিনো-ঝড়ের মধ্য দিয়ে এটি তারই বহিঃপ্রকাশ। এত দিন প্রচলিত ঝড়ের বিরুদ্ধে মানুষের নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও ক্যাসিনো-ঝড়কে তারা প্রত্যাখ্যান করেনি, করেছে আলিঙ্গন আর বলেছে, ‘সু-স্বাগতম’।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স অ্যাকশনে ক্ষমতাসীন দলের বেশ কিছু সদস্য নিজেদের বাঁচাতে গা-ঢাকা দিয়েছেন। ক্যাসিনো-ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়াটাই তাদের লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের সে লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। এরই মধ্যে রাঘববোয়ালের মধ্যে কয়েকজন জালে আটকা পড়েছেন। তথ্য মতে, সরকারের শীর্ষ মহল থেকে প্রাপ্ত তালিকা ধরে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। সম্প্রতি শুরু হওয়া অবৈধ টাকার খনিখ্যাত ক্যাসিনো-বাণিজ্য ল-ভ- অবস্থায় উপনীত হয়েছে ক্যাসিনো-ঝড়ে। দুদিন আগেও যিনি ছিলেন দুর্দান্ত প্রভাবশালী, কেউ-ই টিকতে পারছেন না আপসহীন এই অভিযানে। একে একে মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে সবার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক কিংবা যে দলেরই হোক, কেউ পার পাবে না। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি ও অবৈধ কর্মকা-ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা মহানগরে অবৈধ ক্যাসিনোর সংখ্যা অর্ধশতাধিক। খেলাধুলার জন্য গড়ে ওঠা বিভিন্ন ক্লাবে চলত অবৈধ এ বাণিজ্য। ক্যাসিনোকে ঘিরে রমরমা জুয়ার আসর ছাড়াও মাদকের নিরাপদ অভয়ারণ্য ছিল এসব ক্লাব। আর এসব ক্লাবের কর্ণধাররা রাজনীতির শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যান। অভিযান চালিয়ে এসব ক্যাসিনো থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, বিয়ার, ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা ১৮২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এদিকে শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দুজনকে এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে তালিকা হচ্ছে। এরপর তদন্ত এবং রিপোর্টের ভিত্তিতে গ্রেফতার। তারপর আইনানুগ ব্যবস্থা।

আমরা মনে করি, আওয়ামী লীগের এ পরিচ্ছন্নতার অভিযান জাতির জন্য, বিশেষ করে সব রাজনৈতিক দলের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয় হতে পারে। এ অভিযান সফল হলে দেশের রাজনীতিও পরিচ্ছন্ন হওয়ার সুযোগ পাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল যদি আওয়ামী লীগের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে আসে, তাহলে দেশের গণতন্ত্রও আরো পরিমার্জিত হবে। আমরা সেই পরিমার্জিত গণতন্ত্রের প্রতীক্ষায় থাকলাম।

 

"