জিরো টলারেন্সকে স্বাগত জানাই

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

এত দিন জিরো টলারেন্সের কথা শোনা গেছে। এবার তা স্বচক্ষে দেখল বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেন, তা তিনি পালন করেন। এরই মধ্যে তা প্রমাণিত। তবে এবার যেন সেই টলারেন্সের মাত্রা তাইফুন-ঝড়ে পরিণত হয়েছে। সারা দেশে ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর নজরে আসার পর সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’। ক্যাডার, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের জঙ্গি আর মাদকের মতো নির্মূল করা হবে। সময় নষ্ট করার সুযোগও দেয়নি সরকার। অভিযান শুরু হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিতর্কিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে মাসোহারা পাওয়া সুবিধাভোগীরাও আতঙ্কিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় কোনো প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ বা প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেছেন, শুধু ক্যাসিনো নয়, সব অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্সকে সামনে রেখে প্রশাসনের এ কর্মকা-ের প্রতি মানুষের সমর্থন যে বাড়বে, তা হলফ করেই বলা যায়। আমরা তাদের এ কর্মকা-ের প্রশংসা করতেই পারি। ঢাকা শহরে ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর রাতারাতি এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠেনি। সময় নিয়েছে। শিশুকাল থেকে কৈশোর, তারপর যৌবনে। সহায়তা জুগিয়েছেন অনেকেই। জুয়ার কারবার নির্বিঘœ করার অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে।

এদিকে ক্যাসিনোয় অভিযান চালানোর পর রাজধানীর সব জুয়ার আসর বন্ধ হয়ে গেছে। ক্যাসিনোয় ঝুলছে তালা। অবৈধ এই ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িতরা রয়েছেন আত্মগোপনে। গ্রেফতার হয়েছেন যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ চারটি মামলা হয়েছে। অপর এক যুবলীগ নেতা আছেন নজরদারিতে। অনেকের মতে, অনৈতিক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে যে বৈশাখী তা-ব শুরু হয়েছে, তা ইতিবাচক, ধ্বংসাত্মক নয়। তবে এ তা-ব শুধু বৈশাখের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বছর জুড়েই এ ঝড় যেন অব্যাহত থাকে। আমাদের মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষে এ ঝড়ের অবস্থানকে স্থায়ী করতে হবে। সরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলা যায়, শুধু ক্যাসিনো বা জুয়ার আসরেই নয়, সব ধরনের অনৈতিক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে বৈশাখ তার রুদ্রমূর্তিসহ হাজির হবে।

কঠিন রোগ হলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। অসুখ সারাতে এ ওষুধ ব্যবহার করতেই হবে। একইভাবে সমাজ থেকে দীর্ঘদিনের অনৈতিকতা সরাতে অ্যান্টিবায়েটিক ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। কঠিন সময়ের কঠিন সিদ্ধান্তের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে সাধুবাদ রইল। আমরা মনে করি, এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং দেশ অনৈতিকতার হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করার সুযোগ পাবে। আমরা সে সুযোগের প্রতীক্ষায় থাকলাম।

 

 

"