পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিন

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

আদা-রসুনের দাম আগেই বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম ছিল সহনীয় পর্যায়ে। কিন্তু হঠাৎ করেই এ পণ্যটির ঝাঁজ লাগতে শুরু করেছে দেশের বাজারে। বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে ব্যবসায়ীদের অজুহাতও খাড়া। গত শুক্রবার থেকে ভারতে পণ্যটির রফতানি মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালেই খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ৪৫ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ হয়ে গেল ৬০ টাকা, বিকাল নাগাদ যোগ হলো আরো পাঁচ টাকা। হয়ে যায় ৬৫ টাকা। এ ধারাবাকিতায় দেশে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা আল্লাহই মালুম। কারণ সব তো মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কারসাজি। যারা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। নিজেদের স্বার্থে তারা হঠাৎ করে বাজার থেকে কোনো কোনো পণ্য গায়েব কিংবা সরবরাহ কমিয়ে দেয়। আবার কয়েক দফা দাম বাড়িয়ে সেসব পণ্য বাজারে ছাড়ে। যার খেসারত দেয় সাধারণ ভোক্তারা। আর ফুলে-ফেঁপে ওঠে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনকারী স্বার্থান্ধ ব্যবসায়ীরা।

ভারতে এ বছর বন্যায় পেঁয়াজের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই তারা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে রফতানি নিরুৎসাহ করার নীতি নিয়েছে। পাশাপাশি রফতানি মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ তো শুধু ভারত থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করে না। মিয়ানমার, চীনসহ আরো অনেক দেশের পেঁয়াজই আসে বাংলাদেশে। অথচ ভারতে দাম বাড়ায় দেশে বাড়ানো হলো পেঁয়াজের দাম। এভাবে প্রতারণা করে দেশের সাধারণ মানুষকে আর কত ঠকাবে ব্যবসায়ীরা। ভারতের ঘোষণা শুনেই কম দামে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো কয়েকগুণ। এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ মানুষ প্রত্যাশা করে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) নামের একটি সংগঠন থাকলেও বাজারে সেই সংগঠনের প্রভাব নগণ্য। সেক্ষেত্রে আমরা মনে করি, টিসিবির মাধ্যমে বিকল্প বাজার থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে এবং সেগুলো সাধারণ ভোক্তাদের নাগালে পৌঁছাতে হবে। পেঁয়াজ আমদানির শুল্ক কমিয়েও বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে কিছুটা ভূমিকা রাখা যেতে পারে। তবে এসবই করতে হবে অতিদ্রুত। পাশাপাশি যারা অনৈতিকভাবে পেঁয়াজের মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে কিংবা অযৌক্তিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার ভারতনির্ভরÑ এটা বলা বাহুল্য। তবে এর বাইরে মিয়ানমার, চীন, মিসরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। তবে এ মুহূর্তে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প দেশের কথা ভাবতে হবে। অতীতে আমরা লক্ষ করেছি, ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের পকেট কেটেছে এবং দুই বছর আগে পেঁয়াজের কেজি হয়েছিল ১২০ টাকা। এটা তাদের অসুস্থ ব্যবসায়িক-সংস্কৃতি। তারা কখনোই জনগণের স্বার্থের দিকে নজর দেয় না। ফলে তাদের কাছে দেশের অসহায় জনগণ জিম্মি হয়ে পড়ে বারবার। ক্ষেত্রবিশেষে সরকারও তাদের কাছে জিম্মি। বাজার নিয়ে অতীতে অনেক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বিক্রেতাদের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। তবে এ মুহূর্তে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে জোরাল পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

"