বিশ্লেষণ

কিশোর অপরাধ : দায় ও প্রতিকার

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আবু তাহের

আমাদের কৈশোর আর বর্তমানের কৈশোরে রয়েছে বিস্তর ফারাক। সময় গড়িয়েছে, সমাজ বদলেছে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় চারপাশ আজ ঝলমলে। আর কালের আবর্তে বর্তমানের ছেলেমেয়েরা হারিয়েছে তাদের দূরন্ত কৈশোর। তাদের সময় কাটে ফেসবুক, ইমো, ভাইবার জাতীয় অ্যাপসে। যার ফলে তাদের জীবনযাপনের ধরন বদলে গেছে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। এক ধরনের অসুস্থতা নিয়ে বেড়ে উঠছে এই কিশোর-কিশোরীরা।

সম্প্রতি এক জাতীয় দৈনিকের জরীপে এদের নিয়ে এক রিপোর্ট পেশ করে। ভয়াবহ এক চিত্র ফুটে উঠেছে সেই রিপোর্টে। পত্রিকার পাতা খুললে দৈনিক চোখে পড়ে এই ভয়ংকর ঘটনাগুলো। রাজধানীতে গ্যাং কালচারে ভয়ংকর কিশোররা। স্কুলের গ-ি পেরোনোর আগেই পাড়া-মহল্লায় কিশোরদের একটি অংশের বেপরোয়া আচরণ স্থানীয়দের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যাদের অনেকেরই বয়স ১৫ পার হয়নি। সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধে জড়ানো কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা খোদ রাজধানীতেই অর্ধশতাধিক। আর এই গ্যাংগুলোর রয়েছে উদ্ভট সব নাম।

শুরুতে এদের অনেকে ইভটিজিং বা বখাটেপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও সম্প্রতি খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক কেনাবেচা, ধর্ষণ এবং দলবেঁধে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। দিন দিন বাড়ছে এদের অপরাধ তৎপরতা। সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকার ‘স্টার বন্ড’ নামের কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে গ্রেফতারের পর এক বছর করে কারাদ- দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দ-প্রাপ্ত ১৭ জনকেই গাজীপুরে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ভয়ংকর বিষয় হলো এই গ্যাংয়ের সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকা র‌্যাবের সদস্যদের ওপর অস্ত্রসহ হামলার চেষ্টা চালায়। কতটা বেপরোয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা আসতে পারে।

সারা দেশের চিত্র একই। আর দিন দিন বাড়ছে এই অপরাধের সংখ্যা। দেশে বছরে কিশোর অপরাধের ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মামলা হচ্ছে। সম্প্রতি মামলার সংখ্যা কিছুটা কমলেও বেড়েছে অপরাধের ধরন। প্রতি বছর হত্যা ও ধর্ষণ সংক্রান্ত দুই শতাধিক ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। অজপাড়াগাঁয়েও এখন এদের বিস্তার। সাধারণত এই কিশোর অপরাধীরা খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক সেবন ও বিক্রি, নিজেদের মধ্যে মারামারি, ইভটিজিং, অপহরণ, ধর্ষণসহ সাত থেকে আট ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। শুধু যে নিম্নমধ্যবিত্ত বা দরিদ্র ঘরের সন্তানরা অপরাধে জড়াচ্ছে তা নয়, বরং উচ্চবিত্ত বা সমাজে ভালো অবস্থানের কিশোরা জড়িয়ে পড়ছে এই অপরাধে। এটা ঠিক যে, দরিদ্র ঘরের সন্তানদের সংখ্যা অধিক। তাই সর্বপ্রথমে দায়ী করা যায় পারিবারিকভিত্তিকে। শিশুদের ভবিষ্যতের ভীত গড়ে দিতে হয় পরিবারকে। তাদের সুষ্ঠু বিকাশ, লেখাপড়া, আদাব, শিষ্ঠাচার সবকিছু পরিবারকে শিখিয়ে দিতে হয়। নিজ হাতে সময় দিয়ে সন্তানদের গড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাবা মা নিজের ব্যস্ততায় এতটাই ডুবে থাকেন যে সন্তানের প্রতি যথেষ্ট সময় দেওয়া সুযোগ তাদের হয়ে উঠে না। যার ফলে তারা বিপথে গেলেও অভিভাবক হিসেবে তাদের খোঁজ থাকে না।

কিশোর অপরাধ দমনের অভিভাবকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, কোথায় সময় কাটাচ্ছে, সে বিষয়ে মা-বাবাকে খেয়াল রাখতে হবে। অস্বাভাবিক কিছু নজরে এলেই তাকে সন্তানকে জেরার আওতায় আনতে হবে। দিনে একবার হলেও পরিবারের সবাই এক টেবিলে বসে খাবার খেতে হবে। এতে ভাবের আদান প্রদান হয়। সন্তানদের চাহিদা সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়। অভিভাবকদের উদাসীনতা শিশু কিশোরদের বিপথে ঠেলে দেয়।

এছাড়া সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতে সুখের ঘরে ঢুকে পড়ছে দুখের আগুন। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। ভেঙে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন। বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহের জেরে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে নিষ্পাপ শিশু-সন্তানরা। পরবর্তী সময়ে এ শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। শিশুকাল থেকে পিতৃ-মাতৃহীনতার কারণে ঢুকে যাচ্ছে অন্ধকার নেশার জগতে। আক্রান্ত হচ্ছে নানা মানসিক রোগে। ঝরে পড়ছে বিদ্যাপীঠ থেকে। এ ছাড়া পারিবারিক উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন অনেকক্ষেত্রে দায়ী। শহুরে জীবনযাপনে যারা অভ্যস্ত তারা প্রতিক্ষণে এই জীবনযাপনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়ছে। আজকাল ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কোনো বিষয়কে উদ্যাপন করার জন্য এই উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনকে বেছে নিচ্ছে। ডিজে পার্টি, বিভিন্ন নিষিদ্ধ পানীয় পান থেকে শুরু করে রাত যাপন এখন অনেক সহজসিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। যা বাবা-মা থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে সন্তানের ওপর প্রভাবিত করছে। পাশ্চাত্যের অনুকরণে আমরা আমাদের জীবনকে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছি। কিন্তু খুব ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় পাশ্চাত্যে পারিবারিক বন্ধন বলে তেমন কিছুই নেই। পারিবারিক এ ভাঙনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। যে সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অমিল থাকে, সেখানকার সন্তানরাও মানসিক সমস্যায় ভোগে। ভবিষ্যতে ওই সন্তান জড়িয়ে পড়ে বহুবিধ অপরাধে।

কিশোর অপরাধের কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে প্রখ্যাত ব্রিটিশ ঐতিহাসিক আরনল্ড টয়েনবি অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, বর্তমানের ধর্মহীনতাই অন্যান্য অপরাধের মতো কিশোর অপরাধের কারণ। অন্যদিকে সমাজতন্ত্রের জনক কার্লমার্কস এর মতে, কিশোর অপরাধসহ সব ধরনের অপরাধের মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক প্রভাব। আধুনিক অপরাধবিজ্ঞানের জনক সিজার লোমব্রোসো কিশোর অপরাধের কারণ হিসেবে জৈবিক প্রভাবকে দায়ী করেছেন। সমাজবিজ্ঞানী হিলি এবং ব্রোনোর কিশোর অপরাধের কারণ হিসেবে সামাজিক পরিবেশের প্রভাবকে চিহ্নিত করেছেন। বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড কিশোর অপরাধের কারণ অনুসন্ধানে বাহ্যিক পরিবেশের পরিবর্তে মানুষের মনোজগতের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। বংশগতি বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জৈবিক বৈশিষ্ট্য কিশোর অপরাধের অন্যতম একটি কারণ। শিশু উত্তরাধিকার সূত্রে যে দৈহিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য লাভ করে সেটিই তার বংশগতি জীববিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, ব্যক্তির মন-মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি, আচার-ব্যবহার, চিন্তাধারা, প্রভৃতি বিষয় বংশগতির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে থাকে।

এরপরে রয়েছে আমাদের সামাজিক অবস্থা। সমাজের বিভিন্ন স্তরে আজ ঘুনে ধরেছে। পাড়া-মহল্লা মোড়ে চায়ের দোকানে গভীর রাত অবদি আড্ডা, অবাধে সিগারেট, মাদকের ব্যবহার আমাদের সন্তানদের ঠেলে দিচ্ছে গভীর অন্ধকারে। বড়দের সম্মান, শ্রদ্ধাবোধ না করা, পাড়ার মোড়ে মোড়ে বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে লাউড স্পিকারে গান-বাজনা, হই-হুল্লোড় করা, ডিজে পার্টি থেকে শুরু করে অনেক সময় বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পড়া অবক্ষয়ের বিভিন্ন ধারা। এ ব্যাপারে সমাজপতিদের অনেক দায় রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দরিদ্র ঘরের সন্তানরা অর্থের অভাবে জড়িয়ে পড়ে নানা অপকর্মে। রাজনৈতিক কিংবা সমাজপতিদের আশ্রয়ে এরা দ্রুত হয়ে উঠে বেপরোয়া। মাদক সেবন থেকে মাদক বিক্রিসহ খুন, ধর্ষণ করতেও এরা দ্বিধা করে না। অনেকাংশে এইসব ক্ষমতাধর লোকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস সাধারণ মানুষ খুঁজে পায় না। যার ফলে ধীরে ধীরে আমাদের সন্তানরা হয়ে উঠে অপ্রতিরোধ্য।

যে বয়সে তাদের খেলাধুলা করে সময় কাটানোর কথা সে সময়ে তারা সুস্থ বিনোদনের পরিবর্তে আড্ডা দেওয়া, ফেসবুক কিংবা অসুস্থ ধারার বিনোদনে জড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় শিশুদের খেলার জায়গা দখল করে রেখেছে সমাজপতিরা কিংবা শিশুদের জন্য যে জায়গা নির্ধারিত ছিল সেটাও হয়তো অনুপযুক্ত। তাই অনেক শিশু কিশোর বা তাদের অভিভাবকদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ফাঁকফোকর। অপরাধীদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর পর তারা যখন জামিনে বেরিয়ে যায়, তখন আর কিছুই করার থাকে না। এ ছাড়া প্রবেশন ব্যবস্থার গুরুত্ব। প্রবেশন এক প্রকার আইনসম্মত সংশোধন ব্যবস্থা যা অপরাধীকে প্রদেয় শাস্তি স্থগিত রেখে শর্ত সাপেক্ষে একজন প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে সমাজে স্বাভাবিকভাবে চলার এবং চারিত্রিক সংশোধনের সুযোগ প্রদান করাকে বোঝায়। এ ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো আত্মশুদ্ধি করার সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সমাজের পরিম-লে রেখে সংশোধনের ব্যবস্থা করা হয়। সাধারণত সেসব শিশুর জন্যই এটি ব্যবহৃত হয়, যাদের জন্য তত্ত্বাবধান প্রয়োজন এবং যাদের শাস্তি না দিয়ে মানসিক উন্নয়ন, সংশোধন ও সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে শাস্তি অপরাধ প্রতিরোধে সাহায্য না করে বরং অপরাধ বিস্তারে সহায়তা করে। অপরাধে জড়িয়ে পড়া শিশুদের কারাগারের অপ্রীতিকর পরিবেশ থেকে সরিয়ে এনে সামাজিক পরিবেশে আত্মশুদ্ধির সুযোগ দিয়ে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে প্রভিশন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু প্রবেশন আইনের বাস্তব পরিস্থিতি অনেক সময় ভিন্ন হয়। আইনের একটি দিক শাসন আর অপরটি প্রতিপালন। স্বাভাবিকভাবে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে আইনের শাসনের চেয়ে প্রতিপালনের দিকটা বেশি জোর দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, শিশু আইন ও প্রবেশন অপরাধী অধ্যাদেশ দ্বারা শিশু-কিশোরদের বিচার না করে অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত শিশু-কিশোরকে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার আওতায় বিচার করে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের কারাগারে আটক রাখা হচ্ছে। তাই কিশোর অপরাধের বিচারব্যবস্থার লক্ষ্য হতে হবে যে শিশুরা আইন লঙ্ঘনের অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত তাদের প্রতি এমন আচরণ নিশ্চিত করা, যাতে সেই শিশু-কিশোরটির সংশোধন ঘটে, পরিবারের সঙ্গে সে পুনরায় একত্রিত হতে পারে এবং সমাজে সে পুনর্বাসিত হতে পারে।

দারিদ্র্য যে অপরাধের জন্য দায়ী, তা বলাই বাহুল্য। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত পরিবারে কিশোর-কিশোরী তার নিত্যদিনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়। ফলে তার মধ্যে কিশোর অপরাধমূলক আচরণ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এরা ছোটখাটো চুরি বা ছিনতাইয়ে অংশগ্রহণ করে। অনেক সময় একটু ভালো থাকা-পড়ার জন্য তারা বিভিন্ন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাদকের ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। দারিদ্র্যের কারণে আত্মহত্যা বা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় পতিতাবৃত্তি গ্রহণ করতেও বাধ্য হয় অনেক কিশোর-কিশোরী। এক্ষেত্রে তাদের সরকারি ব্যবস্থায়, সুষ্ঠু তদারকিতে লেখাপড়া নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ ছাড়া কারিগরি প্রশিক্ষণের সহজলভ্যতা তাদের দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে। ফলে অনেকাংশে অপরাধমূলক কর্মকা- কমে আসবে।

সর্বোপরি পরিবার ও সমাজের দায়বোধ সবচেয়ে বেশি। একটি কিশোরের মাঝে যখন অস্বাভাবিকতা পরলক্ষিত হয় তখন পরিবারের সর্বাগ্রে বিষয়টি আমলে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সমাজের অন্যদের এ বিষয়ে সহযোগিতা করা উচিত। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও তার আইনি ব্যবস্থার সহযোগিতা এর সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কখনো শাসন, কখনো প্রতিপালক হিসেবে।

লেখক : শিশুসাহিত্যিক

[email protected]

"