অর্থনৈতিক উন্নয়নে পজিটিভ বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

উন্নতির কথা শুনলে কার না ভালো লাগে। তা সে নিজেরই হোক বা রাষ্ট্রের। তবে রাষ্ট্রের উন্নতি না হলে ব্যক্তির উন্নতি অসম্ভব। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। আর এই ব্যতিক্রমীরা হচ্ছেন সেসব ব্যক্তি যারা সব ধরনের নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে নিজের সুখকেই ত্বরান্বিত করেন। মানবতাকে হত্যা করে সেই লাশের ওপর দিয়ে নিজেদের স্বর্গ নির্মাণ করেন। এরা কখনোই দেশকে ভালোবাসেন না। চরমতম ভোগবাদের ওপর এরা আস্থাশীল। তবে সুখবর হলো, এরাই সংখ্যালঘু। আর বিপরীতে যাদের অবস্থান, তারা দেশের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং দেশপ্রেমিকও বটে। পাশাপাশি যে সরকার এই সংখ্যাগরিষ্ঠের কথা মাথায় রেখে দেশ পরিচালনা করে, নির্দ্বিধায় বলা যায়, তারা আমজনতার প্রিয়। আর সে কারণেই যখন দেশের উন্নতির কথা কানে আসে সরকারের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আস্থা তীব্র থেকে তীব্রতর হয় এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি এ রকম একটি ভালো সংবাদ আমাদের চিন্তা ও চেতনায় নাড়া দিয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। চীনের অবস্থান শীর্ষে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে গত দুই যুগে সিঙ্গাপুর ও হংকংকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ এই অবস্থানে উঠল। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সমতা বিবেচনা করে প্রতিটি দেশের জিডিপি কত হয়েছে, এ তথ্য সামনে রেখে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থনীতির আকার নির্ধারণ করে। সেই বিবেচনায় ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মোট ৭০ হাজার ৪১৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টি হয়েছে। এডিবির ‘কী ইনডিকেটরস ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল সিঙ্গাপুর। একই সময় বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ১৫ হাজার ১৮০ কোটি ডলার মূল্যমানের। এরপর বাংলাদেশকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। পরের ১০ বছরেই সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ। আর এখন অর্থাৎ ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরের চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দেড় যুগে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দারিদ্র্যমোচনে অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া শ্রমশক্তিতে কর্মক্ষম মানুষের অংশগ্রহণ পাশের দেশগুলোর তুলনায় বেশি।

এ সংবাদ সম্ভবত দেশের প্রায় প্রত্যেক মানুষকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার জন্য একটি মাইলফলক হতে পারে। আমরা আশা করতেই পারি, এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং বৃহৎ জনসমষ্টি নতুন করে স্বপ্ন দেখতে দেখতে উন্নত বিশ্বের সদস্য হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সুযোগ পাবে। তবে আগামীর পথকে নিষ্কণ্টক করার জন্য সরকারকেই সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে। ক্ষুদ্র জনসমষ্টি অর্থাৎ উল্লিখিত সংখ্যালঘুদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। আমরা ভালো করেই জানি এক মণ দুধে এক ফোঁটা গো-চোনা পড়লে দুধের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। দুর্নীতিই হচ্ছে সেই গো-চোনা। এই গো-চোনার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে না পারলে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে যেতে পারে। এ দেশের বাস্তবতাও যে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। উন্নত বিশ্বের কাতারে দাঁড়িয়ে বলতে চাই এটাই বাংলাদেশ।

 

 

"