বিশ্বব্যাপী বন্ধ হোক বাণিজ্যযুদ্ধ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ বসবাস করেন। এক পদের মানুষ খাওয়ার জন্য বেঁচে থাকেন আর অন্যপক্ষের মানুষরা বেঁচে থাকার জন্য খান। খাওয়ার জন্য যারা বেঁচে থাকেন, তাদের চাহিদার কোনো শেষ নেই আর বেঁচে থাকার জন্য যারা খান, তাদের চাহিদা সীমাবদ্ধ। চাহিদার এই দ্বিমুখিতার টানাপড়নে তৈরি হয় সংঘাত। যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। আদিকাল থেকে এ যুদ্ধ চলছে এবং চলবে। এ যুদ্ধ ভোগবাদের সঙ্গে মানবতার। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, যুদ্ধ মানেই ধ্বংস। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। আবার যুদ্ধকে বাদ দিয়ে পৃথিবীর কোথাও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন উদাহরণও নেই। তবে মানবতার পক্ষে বিবেক জাগ্রত হলে সংঘাত কমে আসে। সংঘাত কমে গেলে শান্তির মাত্রাটাও বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কমে আসে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে সে সুযোগ যেন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। খাওয়ার জন্য যারা বেঁচে থাকার পক্ষে, তাদের লাগামহীন চাহিদা মেটাতে গিয়ে পৃথিবী এবং মানবকুল আজ দেউলিয়াত্ব বরণ করলেও চাহিদার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হয়নি। আজকের বিশ্ববাণিজ্যযুদ্ধ তারই প্রতিচ্ছবি।

চীনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে বিশ্ববাজারে। আর এই অনিশ্চয়তার কারণে আগামী বছরের শুরুতে বিশ্ব অর্থনীতির ৮৫ হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, যে ভয়াবহ মন্দা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, তা সত্তরের দশকের পর আর দেখা যায়নি। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞের একটি অংশ এই মতামতের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেছে, বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগ থেকে দূরে থাকছে এবং থাকবে বিনিয়োগকারীরা। ইতোমধ্যেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। আগামীতে তা আরো ঘণীভূত হবে। অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। উৎপাদন নিম্নগামী হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতি ৮৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হলে তার প্রভাব অন্যান্য দেশেও পড়তে বাধ্য। সম্ভবত আমাদের মতো দেশগুলোও তার আওতায় পড়বে। তবে খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। পণ্যমূল্য আশঙ্কাজনক হারে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও বয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য যারা আহার গ্রহণ করেন অর্থাৎ মানবতাবাদীদের পক্ষে বেঁচে থাকাটাই তখন কঠিন হয়ে পড়বে। সমাজে নতুন করে বহুমুখী দ্বন্দ্বের জন্ম দেবে। সংঘাত অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে। ভেঙে পড়বে সমাজের ইতিবাচক পিলারসমূহ।

এদিকে আরো ভালো বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার চেষ্টায় ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে এবং মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) অন্য বাণিজ্য অংশীদারদের পণ্যের ওপরও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে। পাশাপাশি চীন ও অন্যান্য দেশও মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে কিংবা করার হুমকি দিয়ে রেখেছে। আমরা আশা করি, বৃহৎ দেশগুলো এই অনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্ব মানবতার কথা ভাববে এবং বিশ্বকে আতঙ্কমুক্ত করবে।

 

"