উন্নয়নের মাইলফলক কর্ণফুলী টানেল

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

উন্নয়ন যেন অনেকটা বৃক্ষচরিত্রসম। রোপণ করার সঙ্গে সঙ্গে বৃক্ষ থেকে ফল কিংবা অক্সিজেন যেমন পাওয়া যায় না, একইভাবে উন্নয়নের সুফলও সঙ্গে সঙ্গে প্রতিফলিত হতে দেখা যায় না। দুই ক্ষেত্রেই অপেক্ষা করতে হয়। কখনো অল্প সময়ের জন্য, কখনোবা একটু দীর্ঘ সময়। রোপণ অথবা শুরু থেকে ফল অথবা সুফল পাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে বসবাসরত মানুষকে কিছুটা কষ্ট ভোগ করতে হয়, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই কষ্টের পরিমাণ উন্নত দেশের চেয়ে বেশি হওয়াটাও স্বাভাবিক। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। তাই আমাদের কষ্টটাও একটু বেশি। তবে আগামী প্রজন্মের জন্য বা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এই কষ্ট আর কষ্ট থাকবে না। এই উন্নয়ন কর্মকা- তাদের একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিতে সক্ষম হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

দেশে যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে, তারই একটি উপমা কর্ণফুলী টানেল। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে এগিয়ে চলেছে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণকাজ। পাশাপাশি রয়েছে সড়ক নির্মাণ। প্রকল্পের কাজ শেষ করতে ব্যয় হবে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। টানেলটি যাত্রা করবে পতেঙ্গা নেভাল একাডেমির প্রান্তসীমা থেকে এবং শেষ হবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে টানেলটি যুক্ত হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে। নদীর তলদেশ থেকে ১৫০ ফুট গভীরে দুটি টিউবে থাকবে যান চলাচলের চার রাস্তা। টানেলের দৈর্ঘ্য হবে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার, যা পশ্চিম ও পূর্বপ্রান্তে চট্টগ্রাম ও আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্ণফুলী টানেল যোগাযোগ ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করাসহ চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতাকে আরো গতিশীল করবে। ইতিবাচক সাড়া ফেলবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। বিশেষ করে পর্যটনশিল্পের গতিকে ত্বরান্বিত করবে। কেননা, পর্যটন এলাকাসমূহের মধ্যে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, বান্দরবানসহ পাহাড়, সমুদ্র ও নদীর ত্রি-মাত্রিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া সহজতর যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই টানেলের ভূমিকাই হবে মুখ্য।

আমরা মনে করি, পদ্মার ওপর গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু সেতুর মতো এই টানেলও বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্পর্কটি আত্মিক। যোগাযোগ ব্যবস্থা যতটা এগিয়ে যাবে, দেশের অর্থনীতির চাকা ততটাই গতিশীল হবে। সুতরাং; কর্ণফুলী টানেলকে স্বাগত। নির্দিষ্ট সময়ে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হোকÑ এটাই প্রত্যাশা।

 

 

"