আস্থা ফেরানোই হোক লক্ষ্য

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দুধ বলে কথা। পৃথিবীর সর্বত্রই পণ্যটি শিশুখাদ্য হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। এখনো তার ব্যত্যয় ঘটেনি। ঘটার কথাও না। তবু এই দুধের বিশুদ্ধতা নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশকে যে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তার রেশ এখনো কাটেনি। গবেষণায় তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিকসহ ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতির তথ্য বেরিয়ে আসার পর আস্থার সংকটে পড়ে পাস্তুরিত দুধশিল্প। এ ছাড়া দুধের উৎপাদন ও বিপণনের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিক্রি বন্ধের উপক্রম হয় কয়েকটি কোম্পানির। পরবর্তী সময়ে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের ওই নিষেধাজ্ঞা আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করলেও ভোক্তার আস্থা ফিরে পায়নি দুগ্ধশিল্প। ফলে এখনো বাড়েনি শীর্ষস্থানীয় পাঁচ কোম্পানির বিপণন।

সূত্র মতে, সারা দেশে প্রতিদিন দুধ উৎপাদনের পরিমাণ দুই কোটি লিটার। উৎপাদিত দুধের মাত্র ৭ শতাংশ বা ১৪ লাখ লিটার সংগ্রহ করে থাকে প্রক্রিয়াজাত ও বিপণন কোম্পানিগুলো। অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসব কোম্পানির দুধ বিক্রি এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেকটা নেমে আসে। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট দুধ বিপণনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে এ শিল্পে দুর্যোগ নেমে আসার উপক্রম হয়। পরে পাস্তুরিত দুধ বিপণনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হলেও, এখনো বাড়েনি তরল দুধের বিপণন। কথায় আছে, আস্থা গড়তে অনেক সময়ের প্রয়োজন, ভাঙতে সময় লাগে না। পাস্তুরিত দুধের ক্ষেত্রে সেটিই হয়েছে। একটি প্রতিবেদনই এ কাজের জন্য আনবিক বোমার মতো কাজ করেছে। যদিও এই প্রতিবেদনের বিপরীতে আরো একটি গবেষণা রিপোর্ট একই সময়ে প্রকাশিত হওয়ার পরও ক্রেতাপক্ষের মন থেকে দ্বিধা বা সংশয় সরে যায়নি। ফলে দুধ বিক্রির পরিমাণ এখনো মার্জিত পর্যায়ে উঠে আসেনি। যদিও কোম্পানিগুলো আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তারা বলেছে, খামারিদের কাছ থেকে সংগৃহীত দুধের পরীক্ষা বাড়িয়ে মান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা আরো বলেছে, অ্যান্টিবায়োটিক থাকলে তারা সে দুধ ক্রয় করবে না। একই সঙ্গে তারা খামারিদের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যাপারে সচেতন করে তোলার ব্যবস্থা নিয়েছে। খামারিদের প্রশিক্ষণের মাত্রাও বাড়ানোর কথা ভাবছে তারা। এত গেল পাস্তুরিত দুধের বিশুদ্ধতা প্রসঙ্গ। যা দেশের মোট দুধ উৎপাদনের ৭ শতাংশ মাত্র। কিন্তু বাকি ৯৩ শতাংশের কী হবে! সেই দুধের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করবে কে? এ প্রশ্ন সবার আগে উত্থাপিত হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। আমরা কানে হাত না দিয়ে চিলের পেছনে ছুটতে শুরু করেছি। তথ্য মতে, আমাদের দেশে দুধের চাহিদা প্রতি বছর ১ কোটি ৫০ লাখ টন। চাহিদার বিপরীতে উৎপাদনের পরিমাণ মাত্র ৯৪ লাখ ৬ হাজার টন। ফলে ঘাটতি ৫৬ লাখ ২৩ হাজার টন। ঘাটতিকে সামনে রেখে গুঁড়ো দুধের আমদানি বাড়ছে। আমদানি করা গুঁড়ো দুধের পেছনে ডালতে হচ্ছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। তাও আবার বৈদেশিক মুদ্রায়। আমাদের দেশে উৎপাদিত তরল দুধের ওপর থেকে আস্থা সরাতে পারলে মানুষ গুঁড়ো দুধের দিকেই ঝুঁকবে এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা একবারও ভেবে দেখছি না গুঁড়ো দুধের নামে এ দেশে যা আসে বা বাজারজাত হয়, তার গুণগত মানের প্রকৃত অবস্থা কী! সেই দুধ কি আমাদের দেশে উৎপাদিত তরল দুধের চেয়ে শ্রেয়?

আমরা মনে করি, দেশে অনেক পণ্যের মতো দুধের উৎপাদনও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে, যা গুঁড়ো দুধ আমদানিকারকদের জন্য মাথা ব্যথার কারণও বটে। বিষয়টি মাথায় রেখে খামারি ও দুগ্ধ কোম্পানিগুলোকে বিশুদ্ধ দুগ্ধ উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে ছোট-বড় খামারিদের নজরদারিকে আরো শানিত করাটাই হবে অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম অস্ত্র।

 

 

"