বিশ্লেষণ

জাতির পিতার পরিবেশ প্রেমের গল্প

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

সাধন সরকার

বঙ্গবন্ধু! স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ গঠনে কল্যাণমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনে এক মহানায়ক। আমরা এখন যা উপলব্ধি করছি, তিনি তার সময়ে যথার্থভাবে তা উপলব্ধি করেছিলেন। তার এক একটি চিন্তাকে স্পর্শ করলে মনে হয়, তখনকার সময়ে বসে তিনি এখনকার সময়গুলো দেখতে পেয়েছিলেন। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা ছিল তার দূরদর্শী কর্মকান্ডের অন্যতম। সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশের গুরুত্ব তিনি উপলব্ধি করেছিলেন। সদ্য স্বাধীন একটি দেশের সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে ১৯৭৩ সালে ‘ইধহমষধফবংয ডরষফষরভব (চৎবংবৎাধঃরড়হ) ঙৎফবৎ ১৯৭৩ অধ্যাদেশ জারি করেন। দেশের বন্যপ্রাণী বাঁচাতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার তাগিদে ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করেন। মূলত এই আইনের মাধ্যমে দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এক নব অধ্যায় সূচিত হয়। তিনি নদ-নদী, খাল-বিল, প্রকৃতি-পরিবেশকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। নদীর প্রতি ছিল জাতির পিতার অসামান্য দরদ। তার বিভিন্ন ভাষণ ও লেখনীতে নদী অভিজ্ঞান ও নদী দর্শন ফুটে উঠেছে। তিনিই ১৯৭২ সালে ‘যৌথ নদী কমিশন’ গঠন করে প্রথম পানি কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন। স্বাধীনতা লাভের পরপরই তিনি নদীর নাব্য সংকট দূরীকরণে ড্রেজার সংগ্রহ করেন। এ ছাড়া নৌপথ উন্নয়নের গুরুত্ব উপলব্ধি করে তিনি বহুমাত্রিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নেন।

তারই পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৫ সালে দেশে ‘ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম’ প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে খুব কম সময় পেলেও তিনি দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। এর মধ্যে তার উল্লেখযোগ্য অবদান হলো প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ। এরই ফলে তিনি বৃক্ষরোপণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য গণভবন, বঙ্গভবনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে গাছ লাগান। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধের ফলে বৃক্ষ সম্পদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা পূরণ করার জন্য সারা দেশে বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেন। তিনি মহাসড়কের পাশে, বাসাবাড়ির চারপাশে, পতিত জমিতে সবাইকে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান। তিনি ১৯৭২ সালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঘোড়দৌড় বন্ধ করে গাছ লাগিয়ে সুদৃশ্য উদ্যান তৈরি করেন, যার নাম দেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন নগরবাসী ও আশপাশের মানুষের একদন্ড বুকভরে নিঃশ^াস বিলিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে চলেছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই বাঙালির হাত ধরেই সূচনা হয় উপকূলে বনায়ন কর্মসূচি। যেটাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সার্বিক বনায়ন বৃদ্ধিতে অনেকদূর এগিয়েছে। জানা যায়, প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে তিনি বাংলাদেশ বনশিল্প করপোরেশনকে জাতীয়করণ করেন এবং এর আধুনিকায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু সরকার পরিবেশের পাশাপাশি গ্রামের সার্বিক পরিবেশ ও এর উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় এক সামষ্টিক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিতে সেচ ও সারের ব্যবহার বৃদ্ধি, শস্য উৎপাদনের বিকেন্দ্রীকরণ, গ্রাম সমবায়, গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ, গ্রামীণ সার্বিক পরিবেশ ব্যবস্থার উন্নয়ন।

তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি দেশ পুনর্গঠনে যে সামান্য সময় পেয়েছিলেন এই সামান্য সময়কে তিনি অসামান্য করে তুলেছিলেন তার অফুরন্ত জীবনীশক্তি দ্বারা। দেশব্যাপী এখন যে বৃক্ষ আন্দোলন, প্রতি বছর জুন মাসে বৃক্ষরোপণের যে উৎসব এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়, তার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন বঙ্গবন্ধুই। তার লেখা ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ে ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সালের কারাস্মৃতি থেকে জানা যায়, জেলখানার বাগান ও গাছপালার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর এক ধরনের ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল। জেলখানায় অবাধে প্রবেশ করা পশুপাখি তার সাথী হয়ে গিয়েছিল! এক জোড়া হলুদ পাখির কথা কী সুন্দরভাবে তার লেখনীতে ফুটে উঠেছে, তা সত্যিই অকল্পনীয়। ‘কারাগারের রোজনামচা’-এর (পাতা-১৬৬) ১৯৬৬ সালের ১৭ জুলাইয়ের (রোববার) ঘটনায় তিনি লিখেছেন, ‘বাদলা ঘাসগুলি আমার দুর্বার বাগানটা নষ্ট করে দিতেছে। কত যে তুলে ফেললাম। তুলেও শেষ করতে পারছি না।’ জেলের মধ্যে বন্দি থেকেও তিনি প্রকৃতি-পরিবেশকে ভালোবেসেছেন। প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষায় টান অনুভব করেছেন। তিনি ১৯৭৪ সালে বৃক্ষরোপণ অভিযান উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে বিভিন্ন আহ্বান জানান। এ আহ্বানে তিনি গাছ লাগিয়ে বৃক্ষসম্পদ সম্প্রসারণের কথা বলেন। তিনি বৃক্ষরোপণের সময় ও পরবর্তীতে অধিক বৃক্ষরোপণ করে সরকারের প্রচেষ্টাকে সাফল্যমন্ডিত করার কথা বলেন। তিনি দেশের জনপ্রতিনিধি, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, সমাজসেবী ও আপামর জনসাধারণের কাছে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সবাইকে এগিয়ে আসতে বলেন। তার দেখানো পথেই দেশের কোটি কোটি মানুষ বৃক্ষ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখে। বৃক্ষপ্রেমে সবাই উদ্বুদ্ধ হয়। হয়তো তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব তখন থেকেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন! এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ যে সারা বিশে^ প্রশংসা কুড়াচ্ছে, এর শুরুটা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই। তিনিই সর্বস্তরে বৃক্ষরোপণের আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। এখন বাংলাদেশে সামাজিক বনায়ন বেড়েই চলেছে। এটা বঙ্গবন্ধুরই অবদান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনেক নারিকেল গাছ বঙ্গবন্ধুর হাতে লাগানো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় তার স্মৃতিবিজড়িত কয়েকটি নারিকেল ও হিজলগাছ দেখা যায়। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য আমগাছ গোপালগঞ্জের শতবর্ষী বৃক্ষ হিসেবেও আখ্যায়িত করা যেতে পারে!

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বঙ্গবন্ধুর গৃহীত বহুমুখী কর্মকান্ড চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সর্বপ্রথম তিনিই দেশের হাওর-বাঁওড়, নদ-নদী ও অন্যান্য জলাভূমি উন্নয়নের রূপলেখা প্রণয়ন করেন। বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে মধুমতী নদীর প্রসঙ্গ এসেছে একাধিকবার। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিসৌধ এবং তার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে আরেক ছোট্ট নদী বাঘিয়া (টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক ভিটার পাশঘেঁষে প্রবাহিত)। বঙ্গবন্ধুর শৈশবের নদী বাঘিয়া গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বর্ণি বাঁওড় থেকে উদ্ভূত। এই বাঁওড় মূলত মধুমতীর পতিত ধারা, অশ^খুরাকৃতি জলাভূমি। বাঘিয়ার এক ধারা মধুমতীতে নেমেছে, অপরটি চলে গেলে কোটালীপাড়ার দিকে। বাঘিয়া নদীতে কেটেছে বঙ্গবন্ধুর শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো। শিশু মুজিব এই নদীতেই সাঁতার কেটেছেন, গোসল করেছেন, বৈকালিক হাওয়া খেয়েছেন, নিঃশ^াস নিয়েছেন। বাঘিয়া নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন হয়ে আসছে বহু বছর ধরেই। একসময় এই নদীতে নৌকা ও বড় বড় লঞ্চ চলত। কিন্তু এখন এই নদীতে বর্ষা মৌসুম ছাড়া নৌকা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কেননা, পানির প্রবাহে টান পড়েছে, নদীতে জেঁকে বসেছে কচুরিপানা ও শ্যাওলা। সংস্কারের অভাবে নদীটি ক্রমেই মরে যাচ্ছে! বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের পাশেই আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা শোনা যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর শৈশবের নদী বাঘিয়াও পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হতে পারে। যাহোক মূল আলোচনায় ফিরে আসি। জাতির পিতা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি মাটি, পানি ও বায়ুদূষণ যাতে না ঘটে; সে ব্যাপারে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি বঙ্গীয় বদ্বীপের এই উর্বর মাটি যাতে কোনোভাবেই দূষিত না হয়; সে ব্যাপারে জমিতে কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের কথা বলতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে ডধঃবৎ চড়ষষঁঃরড়হ ঈড়হঃৎড়ষ ঙৎফরহধহপব, ১৯৭৩ জারির মাধ্যমে বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সূচনা করেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু বৃক্ষরোপণের যে ডাক দিয়েছিলেন, তার এই দূরদর্শী ভাবনা বর্তমান সময়ে এসে কতটা সমসাময়িক, যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য; তা বলে শেষ করা যাবে না। কেননা, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে ভুগছে পুরো বিশ^। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলো রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারির দিকে। তবু বাংলাদেশ নিজম্ব প্রচেষ্টায় জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর সামাজিক আন্দোলন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার নীতি, আদর্শ, মূল্যবোধ কালের গন্ডি পেরিয়ে তাকে দিয়েছে অমরত্বের গৌরব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের নদ-নদী রক্ষা, বৃক্ষসম্পদ বৃদ্ধিসহ সর্বোপরি প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণের যে ডাক দিয়েছিলেন, তা দেরিতে হলেও সফলতা পেয়েছে। এসব কাজে প্রকৃতি-পরিবেশপ্রেমীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সময়ে চালু করা হয়েছে জাতীয় পরিবেশ পদক, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ করজারভেশন, বঙ্গবন্ধু নদী পদক ইত্যাদি। এ ছাড়া গত আড়াই দশকে প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণে বহু নীতি, আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সংবিধানে সংযোজন করা হয়েছে ১৮(ক) অনুচ্ছেদ, যেখানে বলা হয়েছেÑ ‘রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা বিধান করিবেন।’ যদিও পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার পেয়েছেন। জাতির পিতা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’-এর শুরুতে লিখেছেন, ‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’ এই ভালোবাসা নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেক তরুণকে যার যার অবস্থান থেকে বঙ্গবন্ধুর দেখানো নীতি, আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যেতে হবে। তিনি বলেছিলেন, রক্ত দিয়ে রক্তঋণ শোধ করে যাবেন। তিনি তা করে গেছেন। এখন আমাদেরও রক্তঋণ শোধ করতে হবে। তাই দেশের তরুণ প্রজন্মসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আগামী দিনের কান্ডারি হয়ে যে যার অবস্থান থেকে দেশের অগ্রযাত্রায় কাজ করতে হবে। সব বাঙালির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু নামটি সর্বদা ধ্রুবতারা হয়ে জ¦লছে। এখানে কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের কথাটি প্রাসঙ্গিকÑ ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা/ গৌরী মেঘনা বহমান/ ততকাল রবে কীর্তি তোমার/ শেখ মুজিবুর রহমান’। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসা মানে দেশ, মাটি, মানুষ ও এ দেশের প্রকৃতি-পরিবেশকে ভালোবাসা। বাংলাদেশ আজ বিশে^ উন্নয়নের রোল মডেল! অবশ্য প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ বিশে^র দরবারে উন্নত দেশ হিসেবে স্থায়ী মর্যাদা লাভ করবে।

লেখক : পরিবেশকর্মী ও কলামিস্ট

[email protected]

 

"