খোশ আমদেদ ঈদুল আজহা

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

পরম করুণাময় আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং আত্মসমর্পণের নাম কোরবানি। পিতা-পুত্রের চূড়ান্ত আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আমরা জেনেছি এই এর ইতিহাস। হজরত ইবরাহিম (আ.) অল্লাহর সন্তুষ্টি পরীক্ষায় নিজ পুত্রসন্তান হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার উদ্যোগ গ্রহণকালে পরম করুণাময় আল্লাহর অসীম কুদরতে সেখানে দুম্বা কোরবানির ঘটনা ঘটে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় পশু কোরবানির প্রথা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ঘোষণা করেন, ‘যখন তারা (পিতা-পুত্র) উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহিম (আ.) তাঁর পুত্রকে জবাই করার জন্য শায়িত করলেন, তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললাম, হে ইবরাহিম! তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যই পালন করলে।’ এভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদের পুরস্কৃত করি। নিশ্চয়ই এটা ছিল এক পরিমার্জিত এবং কঠিন পরীক্ষা। আমি তাকে (ইসমাইল) মুক্ত করলাম এক মহান কোরবানির বিনিময়ে। (সুরা সাফফাত : ১০৩-১০৭)।

কোরবানির মধ্য দিয়ে আমরা জানতে পারি মুসলমানদের কাছে আপন জানমালের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মূল্য অনেক বেশি। এখানে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ত্যাগকেই শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোরবানির মর্মার্থ বোঝাতে ত্যাগকেই বোঝানো হয়েছে। আর এ ত্যাগের ব্যপ্তি জীবনের সর্বত্র। আমরা জানি, ত্যাগই পারে মানুষকে মহান করতে। এ যাবৎ পৃথিবীতে যারা মহৎ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তাদের অর্জণের পেছনে রয়েছে ত্যাগের মহত্মম ইতিহাস। সুতরাং; ঈদুল আজহার ত্যাগের এই মহিমাকে চেতনার মাঝে প্রতিষ্ঠিত করে আগামীর দিকে এগিয়ে যাওয়াটাই হবে কোরবানির শিক্ষা।

আমরা জানি, আল্লাহর কাছে কোরবানি করা পশুর রক্ত, মাংস, হাঁড় কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রহণযোগ্য কেবল কোরবানিদাতার আনুগত্য, আন্তরিকতা এবং ইমানি দায়িত্ব পালনের অংশ। এর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের পরীক্ষা নেন, অন্তর যাচাই করেন। কোরবানির মহান শিক্ষা হচ্ছে তাকওয়া অর্জন ও অন্তরের পবিত্রতা অর্জন করা এবং সব ধরনের হিংসা-বিদ্বেষ ও মনোমালিন্য থেকে মুক্ত থাকা। এ ছাড়া রয়েছে বণ্টন প্রশ্নে ত্যাগের প্রতীকী ব্যবস্থাপত্র। এই প্রতীকী ব্যবস্থাপত্রে বলা হয়, কোরবানির মাংস গরিব আত্মীয়স্বজন, মিসকিন, দ্বীন-দুঃখী ও হতদরিদ্রসহ অভাবি মানুষের মাঝে যত বেশি বিলিয়ে দেওয়া যায়, ততই উত্তম। ভিখারি মানসিকতা নিয়ে তারা এটা গ্রহণ করবেন না। এটা তাদের হক বা অধিকার। এ অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করাই বিত্তবানদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব। কোরবানির মাংস ফ্রিজে জমা রেখে সপরিবারে আহার করা কোরবানির শিক্ষা নয়। কোরবানির মূল মন্ত্র হচ্ছে, মানুষের মনের মধ্যে যে পশুশক্তির (সুপ্ত অথবা জাগ্রত) বসবাস, তাকে কোরবানি করা।

আমরা মনে করি, পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে বিরাজমান সব পশুত্ব তথা নির্মমতা, ক্রোধ এবং হানাহানির মৃত্যু হোক। পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমাদের ভেতরে বসবাসরত পশু ও আমিত্বকে পরিহার করে তার নির্দেশিত পথে চলার যোগ্যতা অর্জন করি। আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের এই মনোবাসনা পূর্ণ করবেন এবং সত্য পথে চলার শক্তি ও সাহস জোগাবেন। আমিন।

"